মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েও যারা নাস্তিক তাদেরকে আমার স্যালুট
আজ থেকে দেড় বছর আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম এই শিরোনামে শিক্ষিত হিন্দুরা নাস্তিক হয় কেন?। এই প্রশ্নের খুব সহজ উত্তর হলো, অন্তত আমার কাছে উত্তর হলো - ন্যূনতম জ্ঞান-বুদ্ধি থাকলে হিন্দু ঘরে জন্মগ্রহণ করে কারো পক্ষে হিন্দুধর্ম চর্চা করা আমার কাছে মহা-আহাম্মকি মনে হয়। এই ২০০৯ সালে এসে হিন্দু ধর্মের এমন কোন স্পিরিচুয়াল জিনিস আমার অন্তত চোখে পড়েনি যেটা চর্চা করার মতো। কাজেই হিন্দুঘরে জন্ম গ্রহণ করে নাস্তিকতায় বিশ্বাসী হওয়া আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। অন্যদিকে আস্তিক হিন্দুদের দেখলে আমার কেন যেন হাসি পায়। দুই একজন মহা-আস্তিক হিন্দুর সাথে দুই-একবার বিতর্কের সুযোগও হয়েছে। বেশিরভাগই সময়ই আমার সাথে সে বিতর্ক ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। প্রথম প্রশ্নেরই কোন কুলকিনারা করতে পারে নাই অনেকে। আমাকে হিন্দু-ইজমে বিশ্বাসী করে তোলা তো পরের কথা।
অন্যদিকে মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে যারা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী হতে পেরেছে আমার কাছে তাদেরকে ভয়ানক সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়। কারণ ইসলাম ধর্ম পৃথিবীতে সর্বশেষ সংযোজন বিধায় এই ধর্ম আগে প্রবর্তিত ধর্মগুলোর তুলনায় অনেক বেশী গোছানো এবং পরিচ্ছন্ন। চর্চা করার মতো বেশ কিছু স্পিরিচুয়াল উপাদান আছে এই ধর্মে। কাজেই এই অপেক্ষাকৃত গোছানো ধর্ম থেকে যারা বের হয়ে আসতে পারে তাদেরকে আমার আলাদাভাবে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে হয় । (তার মানে এই না যে আস্তিকদের আমি শ্রদ্ধা করি না! আমার কাছে মানুষ পরিচয়টাই শ্রদ্ধা করার জন্য যথেষ্ট)।
একজন হিন্দু মোটামুটি ক্লাস নাইন-টেনেই টের পেয়ে যায় তার ধর্মে আসলে তেমন কোন সারবস্তু নেই। পুরোটাই অগোছালো। সেই সময় যদি ঐ হিন্দু আরেকটু ‘আপগ্রেডেড’ কোন হিন্দুর সাথে যোগসূত্র তৈরি করে তাহলেই হয়েছে! সেই হিন্দু নিশ্চিতভাবে নাস্তিকে পরিণত হয়, কোন পথ থাকে না তাকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার।
অন্যদিকে একজন মুসলিম ঘরে জন্ম নেওয়া মানুষের কি অবস্থা চিন্তা করে দেখুন। কোনমতে হাঁটাচলা, কথাবার্তা শেখার পর থেকেই অনেকেই বাধ্যতামূলকভাবে মাদ্রাসা অথবা হুজুরের কাছে গিয়ে নামাজ-কোরাণ শিক্ষা নিতে হয়। সেই যে শুরু এরপর থেকে একের পর ইসলামী শিক্ষা প্রকটভাবে প্রত্যেকের উপর এসে পড়তে থাকে। কাজেই যে হিন্দু শিশু ক্লাস নাইন-টেনেই অবিশ্বাসের পথে হাঁটা শুরু করে সেইসময়ে একজন মুসলিম বেশ মজা করেই লাল পিঁপড়া নিধনের নামে হিন্দু মারায় ব্যস্ত থাকে। কাজেই দেখা যায়, মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে যে কেউ অতি সহজে সেই ইসলামী বিশ্বাস থেকে সরে আসতে পারে না। তার আরো বেশি করে জানতে হয়, আর বলাই বাহুল্য, আরো বেশি বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
আমি তাই মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েও যারা নাস্তিক তাদেরকে আমার স্যালুট জানাই। সবসময়।
———————————
———————————
আপডেটঃ অসাবধানতাবশত একটি শব্দ বাদ পড়েছিলো। যোগ করে দিলাম শব্দটা।
কোনমতে হাঁটাচলা, কথাবার্তা শেখার পর থেকেই অনেকেই বাধ্যতামূলকভাবে মাদ্রাসা অথবা হুজুরের কাছে গিয়ে নামাজ-কোরাণ শিক্ষা নিতে হয়।
২৪ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:
আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।
















[মন্তব্য-লিন্ক]
ধন্যবাদ সুশান্ত।
লাল পিঁপড়ের ব্যাপারটা মনে পড়িয়ে দিলেন। হ্যাঁ সে সব জেহাদও নেহায়েত কম করিনি ছেলেবেলায়। তবে লাল পিঁপড়ে-মারা-জেহাদটা মনে হয় নাইন-টেন পর্যন্ত থাকে না। লাল পিঁপড়েরা যে যারপরনাই হিন্দু এবং ফলত নিধনযোগ্য (এবং সওয়াবের কাজ) এমন একটা ভয়ন্কর জিনিস ছোটবেলায় কে প্রথম শিখিয়েছিল একেবারেই মনে করতে পারছি না। অথচ মনে করতে পারা খুব দরকার। একইভাবে জানতে ইচ্ছে করছে হিন্দু শিশুরা কি ধরণের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার/বিভেদের শিক্ষা (যেমন: পিঁপড়া নিধনের মতো) নিয়ে বড়ো হয় সে বিষয়েও জানতে ইচ্ছে করছে। একটু বলবেন?
[মন্তব্য-লিন্ক]
অবশ্যই হিন্দু শিশুদের মনে ও বিভেদ ঢুকানো হয়। ধর্ম মানেই তো বিভেদের খেলা।
[মন্তব্য-লিন্ক]
এই মূল্যায়নের পেছনে কোনো পরিসংখ্যান হাজির করা সম্ভব বলে মনে হয় না। আরো কিছু কারণে চিন্তাটাকে আমার সাম্প্রদায়িকতার রঙ্গে রঞ্জিত মনে হয়েছে।
১. ধর্মবিশ্বাস আর সাম্প্রদায়িকতাকে যেভাবে এক করা হয়েছে তা ঠিক নয়। অনেক বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক, অনেক নাস্তিকো সাম্প্রদায়িক হতে পারেন। আর নাস্তিকতা মানেই ধর্মনিরপেক্ষতা নয়।আর সব ধর্মনিরপেক্ষতা মানেই গণতান্ত্রিক নয়। একজন আস্তিকের থেকে একজন নাস্তিক মানুষ হিসেবে বেশি মানবিক এমন দাবিও সম্ভব নয়।
২.ধর্মবিশ্বাসের নির্যাস যাই হোক, একজন হিন্দুর থেকে একজন মুসলিমের সাম্প্রদায়িক প্রবণতা বেশি, তারা কম নাস্তিক হয়, এটাও সাম্প্রদায়িক স্টেটমেন্ট। এটা আপনার অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু কেউ কারো থেকে বেশি অসাম্প্রদায়িক এমন নজির নেই। এভাবে তুলনা বিপজ্জনক।
৩. চর্চা করার মতো স্পিরিচুয়াল উপাদান কোনো ধর্মেই কম নেই। হিন্দুধর্মের সর্বপ্রাণবাদ, ইসলামের মরমী ঈশ্বরপ্রেমের মধ্যে মানুষের ভজনা, ইহুদি ধর্মের জুডাইজম, খ্রিস্টান ধর্মের ফ্রান্সিসকান ধারা,এমনকি ‘বস্তুবাদী’ বৌদ্ধধর্ম কি কম স্পিরিচুয়াল?
ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে আপনি ব্যাপারটাকে হাজির করেছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত স্তর থেকে উঠিয়ে একে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে তুললেই তা বোঝা যাবে। নইলে ব্যক্তিকেই যে দোষারোপ করতে হয়!
ক. ভারতের সাচার কমিটির রিপোর্ট কী কথা বলে? ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফ্যাসিস্ট বিজেপি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রক্ষমতা পর্যন্ত গিয়েছিল, জামাত এককভাবে তা যায়নি,তা সম্ভবো নয় এখানকার সামাজিক স্তর ও রাজৈনিতক সংষ্কৃতির জন্য। ভারতের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের হিন্দুদের মধ্যেও সংখ্যালঘুত্বের যাতনা থেকে জন্মানো রিভার্স সাম্প্রদায়িকতা প্রবল দেখা যায়। আক্রান্ত ও আক্রমণকারী উভয় হিসেবেই উভয় সম্প্রদায় রয়েছেন। তবে বাংলাদেশে তা ফ্যাসিবাদ পর্যায়ে যাবে না ঐতিহ্যগত উদারতার জন্য তেমনি এই রাষ্ট্রের শাসকদের আর্থিক ও মানিসক সামর্থ্য নেই তা হবার। বর্ণবাদ বা সাম্প্রদায়িকতা ফ্যাসিবাদ পর্যায়ে উঠতে পারে শিল্পায়িত দেশে, যার অর্থৈনৈতিক ও সামরিক সামর্থ্য রয়েছে। জার্মানী-ইতালিয় এবং কিছুটা বুশীয় আমেরিকা তার উদাহরণ।
খ. আর ইসলাম ও সনাতন হিন্দু ধর্মের গড়নের কারণে উভয়ের সাম্প্রদায়িকতার প্রাণ
একজায়গায় নয়। ইসলামে যদি তার ধর্ম হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বর অহমিকা থাকে, হিন্দু ধর্মে আছে তার বর্ণ’র শ্রেষ্ঠত্বের ধারণায় বা গ্রন্থে। দেবতাকে ত্যাগ করা যায়, বর্ণকে কঠিন। আশির দশকে মণ্ডল কমিশনের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ার কথা মনে আছে? হিন্দধর্মের সাম্প্রদায়িকতা বর্ণবাদের মধ্যে। এর সঙ্গে বিজেপি-আরএসএস একে রাম চরিত্রের মধ্যে আনার চেষ্টা করছে। মুরারজী দেশাই এ থেকেই বলেছিলেন যে, বিজেপি বহুকেন্দ্রিক হিন্দু ধর্মকে ইসলামের মতো এককেন্দ্রিক করার চেষ্টা করছে। তিনিও খেয়াল করেননি যে, বর্ণের মধ্যেই হিন্দু ধর্ম এককেন্দ্রিক ভাবে সংগঠিত।
গ. লাল পিপড়ার পাশাপাশি ম্লেচ্ছ আর ন্যাড়ানিধনের গল্প স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র থেকে আজকের হিন্দি ছবির পরতে পরতে। আর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ যদি বলেন, আমি উভয়দিকেই আহত।
কইয়েকটি উক্তি:
‘কথাবার্তা শেখার পর থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে মাদ্রাসা অথবা হুজুরের কাছে গিয়ে নামাজ-কোরাণ শিক্ষা নিতে হয়।’
বাধ্যতামূলক, তা কে বললো আপনাকে?
‘একের পর ইসলামী শিক্ষা প্রকটভাবে প্রত্যেকের উপর এসে পড়তে থাকে।’
একইভাবে হিন্দু ও বর্ণবাদী পশ্চিমা শিক্ষার অনেক উপাদানও তার মধ্যে ঢুকছে হলিউড-বলিউড আর সিরিয়ালগুলো দিয়ে। এবং এগুলো অন্য মানুষের প্রতি কম সহিংস আর ঘৃণার-উৎপাদক নয়।
”কাজেই যে হিন্দু শিশু ক্লাস নাইন-টেনেই অবিশ্বাসের পথে হাঁটা শুরু করে সেইসময়ে একজন মুসলিম বেশ মজা করেই লাল পিঁপড়া নিধনের নামে হিন্দু মারায় ব্যস্ত থাকে।’
কাজেই দেখা যায়, মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে যে কেউ অতি সহজে সেই ইসলামী বিশ্বাস থেকে সরে আসতে পারে না।”
সরাসরি সাম্প্রদায়িক স্টেটমেন্ট। বাস্তববে এই `মারা’ আর বিশ্বাস থেকে সরে আসার রেকর্ডগুলো চেক করে দেখবেন কী?
`আমি তাই মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েও যারা নাস্তিক তাদেরকে আমার স্যালুট জানাই। সবসময়।’
আমি মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েও পরিপূর্ণভাবে ইহজাগতিক-বস্তুবাদী, নাস্তিক নই। কারণ ধর্মের সাপেক্ষে আমি নিজেকে সনাক্ত করি না। আমি সনাক্ত হতে চাই সর্বমানবীয় ইতিহাস আর সকল মানুষের প্রতি দায়ের কাছে। নাস্তিকতার ব্যক্তিগত বিলাস আমাকে কোনো সুখ দেয় না। তার চেয়ে বলেন, এমন কোনো গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার কথা,যার বিকাশ ঘৃণা থেকে নয়, আত্মঅহমিকা থেকে নয়, তাকে আমি স্যালুট জানাব।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আপনি মনে হয় আমার লেখার ব্রাকেটে একটি লাইন মিস করেছেন। আবার লিখছি; আমার কাছে মানুষ পরিচয়টাই যথেষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। । কোন ধর্মের ভেতরে থেকে কতটুকু মানুষ হওয়া যায় সেটা আরো আলোচনার বিষয়।
[মন্তব্য-লিন্ক]
হ্যাঁ, মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলকভাবে অনেককেই পড়তে হয়না, সেটা ঠিক। কিন্তু বাংলাদেশে কয়টা মুসলিম পরিবারে হুজুরের কাছে নামাজ-কোরান শিখতে হয় না? অতি অবশ্যই খুব নগণ্য সংখ্যক। আর তাই সুশান্তের ‘অথবা’তো ঠিক কথাই বলছে। তারচেয়ে বড় কথা আমরা মুসলিমরা কেন এই মাদ্রাসা ব্যবস্থাকে বয়ে বেড়াচ্ছি, শিক্ষার নাম দিয়ে কোটি কোটি টাকা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করছি? হিন্দু সমাজের একজন মানুষ অতি সহজেই নাস্তিক হতে পারেন, এটা অনেক হিন্দুর মধ্যেই একটা প্রচলিত ধারনা মাত্র, আশেপাশে অতো হিন্দু নাস্তিক দেখি না। বরং সংস্কৃতি ও সংস্কারের নামে অনেক নাস্তিক হিন্দুকেও এমনসব কাজ করতে দেখা যায়, তা রীতিমতো দ্বিচারিতার পর্যায়ে পড়ে। এসব কিছুর পরও একটা জায়গায় হিন্দু সমাজ অনেক এগিয়ে সেসমাজে মাদ্রাসা শিক্ষার মতো অপগন্ডতার লালন-পালনের নামে কোটি কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করা হয় না।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আরেকটি কথা,
আপনার বয়ানের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে আপনার যে `আমিত্ব’ যা `আপগ্রেডেড’, তার অভিব্যক্তি যে একজন ধর্মপরিচয়ে চিহ্নিত মানুষের, তা স্পষ্ট। আপনি কি নিজেকে হিন্দু নাস্তিক বলবেন? যেমনটা একসময় অনেকে ভাবতেন যে তারা মুসলিম কম্যূনিষ্ট বা হিন্দু কম্যূনিষ্ট?
[মন্তব্য-লিন্ক]
ফারুক ওয়াসিফকে ধন্যবাদ আলোচনাটাকে সাদাকালো থেকে ধূসর অঞ্চলে নিয়ে আসার জন্য। এই ধূসর অঞ্চলগুলো আসলেই গোলমেলে এবং নিরীক্ষার দাবীদার। যেখানে চেনা জানা সেক্যুলার মানুষদের অবস্থানেও আমরা অনেক সময় সাম্প্রদায়িকতার (জানিনা, হয়তো অনিচ্ছাকৃতই) প্রকাশ দেখি। আমার বিশ্বাস সেটা অসেচতনতাজাত। বলাই বাহুল্য, এমন চিন্তার প্রকাশ যাবতীয় ধর্মীয় সম্প্রীতিমূলক সংগঠনগুলোর মধ্যেও লক্ষ্য করা যায়, যাদের লক্ষ্য সম্প্রীতি, কিন্তু কাজের ফলাফল কম্পার্টমেন্টালাইজেশন (দুঃখিত এর জুতসই বাংলা প্রতিশব্দ মাথায় আসছে না)।
এই তো গেল একটি দিক। আদর্শিক তাত্ত্বিক দিকটি যেটা ব্যক্তি (এবং এমনকি সাংগঠনিক) পর্যায়ে চর্চা করা সম্ভব, সে দিকটি ফারুক তুলে ধরেছেন। প্রতিটি চিন্তা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়, প্রয়োজনে তাকে চিন্তার উপযোগী করে গড়েও নেয়, মানি। আবার এও তো সত্য যে – চিন্তাকে গ্রহণ করতে হলে সমাজকেও একটা পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হয়, প্রস্তুত হতে হয়। দুশ্চিন্তা (নিতান্তই ব্যক্তিগত) এর সামষ্টিক প্রয়োগ নিয়ে। উপমহাদেশের বাস্তবতাকে মাথায় রেখে তার থেকে উত্তরণের জন্য সেতুবন্ধনের অবস্থান (সেটা এমনকি কৌশলগতও হতে পারে) ঠিক কোনটি হওয়া উচিত আসলে? এর উত্তর খুঁজে পেতে এখানকার আলোচনা কিছুটা সাহায্য করবে আশা করছি।
বিচারপতি রাজিন্দর সাচার এর রিপোর্টটির কথা এসেছে ফারুকের আলোচনায়। সবার সুবিধার্থে লিন্কটি দেয়া হল এখানে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
সুশান্তের লেখাটি একেবারেই একটি ব্যক্তি পর্যায়ের মতামত প্রকাশমূলক লেখা। এখানে অনেক আবেগ আর গোঁজামিল আছে। মনগড়া কথার ছড়াছড়ি।
প্রথমেই বলতে হয়, তার জাত-পাত, বিশ্বাস, দর্শন আমার কাছে ঠিক ক্লিয়ার নয়। আর একজন মুসলমান নাস্তিক হলেই তাকে সেলুট করতে হবে কেন? কোনো মানুষের মানবিকতা কি আস্তিক্য/নাস্তিক্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায়?
ইসলাম ধর্মে মাদ্রাসায় যাত্তয়া বাধ্যতামূলক তা কোথায় পেলেন তিনি? হিন্দু ধর্মে স্পিরিচুয়াল জিনিস নেই, তাই-বা তিনি কোথায় পেলেন?
সবচেয়ে বড়ো কথা, এধরনের লেখায় কাজের কাজ কিছু হয় কি? নাকি গোপনে গোপনে ধর্মের অন্তর্গত আবেগকেই নাড়া দিয়ে দেয়া মাত্র!!!
[মন্তব্য-লিন্ক]
ফারুক ওয়াসিফ এর আলোচনাটি আলোচনা না হয়ে বেশ আক্রমনআত্মক হয়ে গেছে। সুশান্ত যেভাবে লিখেছেন তিনি হয়ত সেভাবেই লিখতে-বলতে ভালবাসেন।
আমি সুশান্তকে যেভাবে চিনি তাতে করে তার এই উক্তি বেমানান ঠেকে…….
কারণ নাস্তিকদের প্রতি কারণে-অকারণে তাকে বহুবার খড়গহস্ত হতে দেখেছি।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আমি সুশান্তকে যেভাবে চিনি তাতে করে তার এই উক্তি বেমানান ঠেকে
ইগ্নোর করলাম।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আস্তিক নাস্তিক বিতর্ক সাধারনতঃ আমি এড়িয়ে চলি। কারন দুটোতেই ভালোমানুষ দেখেছি, খারাপ মানুষও দেখেছি।
তবে শেষ বাক্যটার সুত্র ধরে একটু বলি -
আমি আস্তিক নাস্তিক জেনে কাউকে স্যালুট করার বিরোধীতা করি। তার উৎস যাই হোক না কেন। ব্যক্তিগত বিশ্বাসে তারতম্য থাকলেও একজন আস্তিক ও একজন নাস্তিক সমপর্যায়ের চরিত্র ধারন করতে পারে। সেটা ভালোও হতে পারে মন্দও হতে পারে। সুতরাং আস্তিক নাস্তিক বিচারের চাইতে তার নিজ নিজ বিশ্বাসের সাথে তার চরিত্রের কতটুকু মিল অমিল, কতটুকু ভন্ড, কতটুকু সৎ সেটাই শ্রদ্ধাবোধের কারন হওয়া উচিত। একজন মানুষ মানুষের চরিত্র ধারন করে আছে কিনা। তার আসল ধর্ম মনুষ্যত্ব থেকে কত দুরে বা কাছে আছে, তার উপর শ্রদ্ধাবোধ নির্ভর করা উচিত।
[মন্তব্য-লিন্ক]
বাপরে , এদিকে তো ভয়ানক অবস্থা দেখি! ফারুক ভাইকে বলি, একেবারেই নাদান লেখা এটি। আমি যখন কিছু লিখি একেবারেই সাদামাটা লিখি। কোন গূঢ় তত্ব বা তথ্য কিছুই থাকে না। শুধু একটা নিশ্চয়তা দিতে পারি আপনাকে ; নিজেকে আমি কোন ধর্মের আওতায় রাখি নি এখনো। জানি না বুড়ো বয়সে বরবাদ মজহার হবো কিনা! কাজেই আমাকে শুধু নাস্তিকই ভাবতে পারেন।
রায়হান ভাই ও অন্যরা ; আমার লেখায় কোথাও কি আমি বলেছি নাকি যে বাধ্যতামূলক হুজুর শিক্ষা নিতে হয়? তবে আমার জানায় যদি ভুল না থাকে আমার এমন কোন বন্ধু নেই যারা ছোটবেলায় হুজুর শিক্ষা নেয় নাই! হুজুর শিক্ষায় প্রকৃতপক্ষে কি শিখানো হয় সেটা যারা নিয়েছেন তারাই বলতে পারবেন।
মঞ্জুরুল ভাই কিসের কথা বলছেন ঠিক বুঝিনি। আমার কি খড়্গহস্ত হওয়ার মতো কোন উদাহরন আছে নাকি আপনার কাছে?
কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর @ আমার লেখা টা পড়ুন। কোথাও ভুল করছেন আপনি ।
আমার লেখার মুল কথা ছিলো যারা মুস্লিম ঘরে জন্ম নিয়ে ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে আসতে পেরেছেন তারা সাহসী। অন্তত আমার চেয়ে। কারন আমি জন্মের পর ধর্ম বিষয়ে তেমন রেস্ট্রিক্সসনে পড়িনি; যা মুস্লিম ঘরে জন্ম নেওয়া আমার অন্য নাস্তিক বন্ধুরা পড়েছেন।
কথা শেষ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আপনার চমৎকার উত্তরটির জন্য ধন্যবাদ সুশান্ত।
হুজুর শিক্ষা আমিও করেছি। এর সঙ্গে মাদ্রাসা বা মক্তবের কোনো সম্পর্ক নাই। এইসব হুজুরেরা সাধারণ গরিব মাদ্রাসার ছাত্র, জায়গির থাকা পড়ুয়া কিংবা মসজিদের মুয়াজ্জিন হন। অনেকটা টোলের পন্ডিত মশায়ের মতো,অপাংক্তেয় মানুষ এঁরা। নিম্ন থেকে উচ্চবিত্ত ঘরে এঁদের যাতায়াত থাকে বটে কিন্তু গরু যেমন লেজ নাড়ায় লেজ গরুকে নাড়ায় না, তেমনি মধ্যবিত্ত তনয়-তনয়াদের বিশ্বাসের ব্যকরণ এদের হাতে গড়া নয়। সেটা আসে আরো ওপর থেকে।
এখানে আরো কিছু কথা না বলা দরকার। আজকের বিশ্বে ধর্মবিশ্বাস আর আইডেন্টিটি সবক্ষেত্রে আর এক নাই। সনাতন সব নীতি ও মূল্যবোধ যখন বিশ্বায়িত পুঁজি, প্রযুক্তি আর জীবীকার সংগ্রামের কাছে পরাজিত হয়ে ভেসে যাচ্ছে, তখন ধর্মকেও এর আদলে বদলে যেতে হয়। পশ্চিমা দুনিয়ায় খ্রীস্টধর্ম অনেক আগেই এই চাপে বদলে গেছে। ট্রিনিটি-তে ইমান থাক বা না থাক, শ্বেতবরণ নীলচক্ষু যীশু এবং তার পিতা ঈশ্বরকে তারা ছাড়ে নাই আত্মপরিচয়ের ঠেকা আছে বলে।
তাদের আত্মপরিচয় নিয়ে সংকট এখনো জাগে নাই। পশ্চিমের গরিব ও কালো মানুষটিও সভ্য দুনিয়ার অহংকার আর ক্রাইস্টের ছত্রছায়া অনুভব করে জাতগর্ব উপভোগ করে। এই উপায় বাদবাকি বিশ্বে নাই। ফলে তাদের হয় জাতি বা ধর্মের কাছে ফিরতে হয় অথবা এসব ছেড়ে কাল্পনিক বিশ্বজনীনতার নামে সাদা-জুডিও-খ্রিস্টান-সাম্রাজ্যের মাস্তুলে লটকে থাকার নিয়তি নিতে হয়। তারা ইতিহাস-ভূগোল ও সংস্কৃতি থেকে বিতারিত বা পরিত্যক্ত হয়।
আলোচনা পাড়বার জন্য অনেক ধন্যবাদ সুশান্ত।
[মন্তব্য-লিন্ক]
সুশান্ত’র একটি সাদামাটা আবেগসঞ্জাত লেখাকে কিভাবে বিতর্কের বিষয় করে তোলা যায়, তা ফারুক ওয়াসিফের কাছ থেকে শিখলাম। তিনি তো মহাপন্ডিত তাই বিভিন্ন তত্ত্ব, পরিসংখ্যান, তথ্য ইত্যাদির প্রেক্ষিতে বিষয়ের তাৎপর্য খোঁজেন।
হিন্দু ধর্মের বর্তমানে মূল দর্শন হলো ছয়টি। এই ষড়দর্শনের একটি হলো নাস্তিক্যবাদ। বেদে অবিশ্বাস, ঈশ্বরে অবিশ্বাস ইত্যাদি ইত্যাদি। হিন্দু ধর্মের সাথে ইসলামকে মেলানো সুশান্তের ভুল। সনাতন ধর্মকে মানুষের দ্বারা বাহিত হতে হয় না। ধর্মই মানুষকে বহন করে। এই ‘ধর্ম’ শব্দটি ইসলাম, খ্রিস্টান ইত্যাদি ধর্মের অনুরূপ নয়। তাই সনাতন ধর্মের দৃষ্টিতে একজন বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী দুজনই সমান মূল্যবান। (মোল্লা-পুরুতরা কি করে সেটা অন্য প্রসঙ্গ।) বিপরীতে ইসলামে কি? এখানে নাস্তিক্য তো দূরের কথা পীরবাদও নিষিদ্ধ। এতটাই কঠোর, কঠিন এই তথাকথিত ধর্ম। সুশান্তের মনোজগতে সম্ভবত এটাই ছিল।
ধন্যবাদ
[মন্তব্য-লিন্ক]
‘সাদামাটা আবেগ’-এ সমস্যা থাকতে পারে না? ধর্ম সাম্প্রদায়িকতা তো আবেগকে আশ্রয় করেই ভাল-মন্দ যা করার করে। আপনার এই আক্রমণাতাত্মক কথাবার্তাও কি সাদমাটা আবেগ? আবেগ বা কল্পনার শাস যে চিন্তা আমি সেটা নিয়ে বিস্তারে গিয়েছি। সেটা আপনার পছন্দ না হলে আমার কী করবার আছে? আর মনোজগত তো জগতের বাইরেও নয় ফেলনাও নয়।
দ্বিতীয়ত, আপনি ষড়দর্শন তথা ভারতীয় আধ্যাত্মবিদ্যার সবচেয়ে শক্তিশালী ধারাটিকে অবলীলায় হিন্দু ধর্মের দর্শন বলে জাহির করছেন। এটা ঠিক নয়। আধ্যাত্মদর্শন প্রায়শই ঈশ্বর চিন্তাকে অবলম্বন করে। তার মানে সেটাকে ধর্মতন্ত্র নয়। এই পার্থক্য মনে না রাখলে পাশ্চাত্য দর্শনের বড় অংশকেই নিছক খ্রিস্টিয় দর্শন এবং আরব-ইরানে বিকশিত হওয়া দর্শনচিন্তাকে ইসলামী দর্শন বলতে হয়। সেটা সঠিক মনে করি না।
নাস্তিক্যবাদ ভারতীয় দর্শনে বেদে অবিশ্বাস। কিন্তু ঈশ্বরে বা জন্মান্তর কিংবা বর্ণাশ্রমে অবিশ্বাস বলে কতটা গণ্য হয় জানা দরকার। বিজ্ঞানবাদ ভারতীয় দর্শনে কিন্তু ভাববাদের সমার্থক। সুতরাং এভাবে দার্শনিক ধারাগুলোকে মনের মাধুরি মিশিয়ে ব্যাখ্যা করা সমীচীন কি?
ধর্ম শব্দটি পশ্চিমা জগতে আর ভারতবর্ষে এক নয়, সেই কথাটা যদি মনে রাখেনই তাহলে হিন্দু ধর্মকে তন্ত্র বা বিশ্বাসের বিধিবদ্ধ সিস্টেমে রূপান্তর করাকে কী বলবেন? বা ভারতীয় বিভিন্ন সমাজে যে মূল্যবোধব্যবস্থা ধর্মকে একটা ইতিকর্তব্যের হেতু মনে করে তাদেরকে সনাতন ধর্মের অন্তুর্ভুক্ত করবেন কোন বিচারে?
[মন্তব্য-লিন্ক]
আমার লেখার উপর সুশান্তের ধৈর্যশীল মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার মূল লেখার মূল স্পিরিট সম্পর্কে সরাসরি বলাটা দরকার ছিল। এটা ঠিক যে, একজন মুসলিমের পক্ষে নাস্তিক হওয়া এত সহজ নয়। এর মূল কারণ, এ ধর্মের প্রাবল্যবাদিতা, এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। সনাতন ধর্মের মতো এখানে বহুধা সাংস্কৃতিক আবহ নেই। এখানে একটি ধর্মগ্রন্থই পৃথিবীর যাবতীয় আয়োজনকে ধারণ করে!!!
[মন্তব্য-লিন্ক]
যাঁরা নিজ-নিজ ধর্ম পালন করেন তাঁরা কি বাছবিচার করে ওই ধর্মের অনুসারী হয়েছেন? আমরা তো জন্মসূত্রে পূর্ব পুরুষের ধর্মের অনুসারী হয়েছি তাই না? বর্তমান যুগে যাঁদেরকে আমরা আস্তিক বলি তাঁদের জীবনে কি স্বীয় ধর্ম পুরোপুরি আচরিত হয়? নিয়মিত উপাসনালয়ে গিয়ে প্রার্থনা করলেই যে তাঁকে ধার্মিক বা আস্তিক বলা যাবে, আর এর ব্যতিক্রম হলে নাস্তিক হয়ে যাবেন, তা কি ঠিক? আর যাঁরা নিজেদের নাস্তিক দাবি করেন তাঁরা বা কতটুকু মানবিক আচরণ করেন?
[মন্তব্য-লিন্ক]
স্বীয় ধর্ম পুরোপুরি আচরিত হলেই বা কি লাভ? আপনি কি মনে করেন, প্রত্যেকে যদি তার নিজের উপর আরোপিত এই ধর্মপালন করা শুরু করে দেয়, তাতে কোন ইতর বিশেষ ঘটবে? বরং মানুষে মানুষে যে সামাজিক সম্পর্ক বর্তমানে যতটুকুন আছে তাও নষ্ট হবার যোগাড় হবে।
কারন কি জানেন, আমার মতে, ঐতিহাসিক ভাবেই ধর্মগুলো পরস্পর বিরোধী চেহারা এবং বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছে মানুষের সামনে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ধর্মই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করে অন্য ধর্মের উপর। বিশ্বপ্রকৃতি এবং তার রহস্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেয়া ধর্মীয় ধারনাগুলো এখন অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। ফলে দার্শনিক ভাবেই ধর্ম এখন পর্যুদস্ত ও পরাজিত। আবার ধর্মের কোন পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা হিমালয় পর্বত ঠেলে এক ইঞ্চি সরানোর মতই কঠিন। যেহেতু দার্শনিক ভাবেই ধর্মগুলো এখন দরিদ্র সে কারনে তার আচরনগত ও বাহ্যিক দিক নিয়ে লোক দেখানো বাড়াবাড়ির কোন সীমা পরিসীমা নেই।
আমার এক নিকটাত্মীয় আছেন, অনেক দিন হল অনুকুলচন্দ্র ঠাকূরের দীক্ষা নিয়েছেন। তিনি ব্রাহ্মন। তিনি সম্পূর্ন নিরামিষাসী। তিনি যখন আমাদের বাড়ি আসেন, সঙ্গে রান্নার উপকরন সমূহও নিয়ে আসেন। ধর্মীয় পরিচয়ে আমরাও ব্রাহ্মন পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কিন্ত তাহলে কি হবে, আমাদের পরিবারের কেউ যে এখনও ঠাকুরের দীক্ষা নেয় নি, সে কারনে তিনি আমাদের সাথে এক হাঁড়ির রান্না খেতে পারবেন না!
কলেজে পড়ার সময়, আমার এক বন্ধু পারিবারিক ভাবে যে মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছিল, আমাকে একদিন বলেছিল, দুনিয়াতে একটা সময় আসবে যেদিন সবাই নাকি মুসলমান হয়ে যাবে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন? সে বলেছিল, কারন অন্য ধর্ম বিশ্বাসীরা তাদের ভুল বুঝতে পারবে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
সবার আগে দরকার ধর্মশিক্ষা বন্ধ করে দেয়া। শিক্ষাকে ধর্মনিরপেক্ষ করতে পারলেই একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পৃথিবীর ১৫০ কোটি মুসলমানের ৫০ কোটিই বসবাস করে পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশ এই বলয়ে। শুধুমাত্র এই অঞ্চলে কত শিক্ষার্থী মাদ্রাসা শিক্ষা গ্রহণ করে তার একটা হিসেব নিলেই আমরা বুঝতে পারব মুসলমানদের একটা কত বড় অংশ একটা পশ্চাদপদ শিক্ষায় অভ্যস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশ এই ভৌগলিক অঞ্চলে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে যদি ধর্মীয় শিক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া যায় — তাহলে একটা বড় জনগোষ্ঠি, ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। আমি এখনো বুঝতে পারি না — যেখানে স্কুলগুলোতে এখনো স্বরস্বতী পুজো ও মিলাদের অনুষ্ঠান হয় — সে অঞ্চলের মানুষ কী করে নিজেদের আধুনিক সমাজের মানুষ মনে করে। জনগণের ভোটাধিকারের মতো জনগণের ধর্মাচরণ শুরুর বয়সও ১৮ বছর নির্ধারণ করে দেয়া উচিত।
[মন্তব্য-লিন্ক]
সবার আগে দরকার ধর্মশিক্ষা বন্ধ করে দেয়া।
বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবেটা কে? আমার বিবেচনায় রাষ্ট্রের উপরই দায়িত্বটা বর্তায়। রাষ্ট্রকেই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু পালাবদলের মাধ্যমে যারা বা যে দল রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করে তারা তো ব্যাপারটাকে জিইয়ে রাখতেই পছন্দ করে কুক্ষিগত ক্ষমতা বা গদির স্বার্থে। অনেক সময় তারা ধর্মীয় লেবাস ধারণ করতেও পিছপা হয় না। অনেকে বলে উপমহাদেশের মানুষ স্বভাবতই ধর্মভীরু। আমার মতে এই অঞ্চলের মানুষ বৈশিষ্ট্যগতভাবে ধর্মান্ধ।
পৃথিবীর ১৫০ কোটি মুসলমানের ৫০ কোটিই বসবাস করে পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশ এই বলয়ে।
ব্যক্তি হিসাবে আমি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। ধর্মীয়, ভাষাগত ও জাতিগত বিবেচনায় আমার লঘুতা অতি প্রকট। তাই অনেক সময় চিন্তন-মনন প্রকাশের ক্ষেত্র খুঁজে পায় না। তা ছাড়া জলে বসবাস করে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করতে যাওয়াও দুঃসাহসের ব্যাপার।
[মন্তব্য-লিন্ক]
মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় কষ্টের বিষয় বোধহয়, একজন মানুষ জন্মানোর পর সে শুধু মানুষ এই পরিচয়ের মধ্যে আর থাকতে পারে না। হিন্দু – মুসলমান, আস্তিক – নাস্তিক, ধনী – দরিদ্র, শিক্ষিত – অশিক্ষিত, কালো – সাদা, ছেলে – মেয়ে নানা বিভাগে তাকে বিভক্ত হতেই হবে।
সব হওয়া হয়, শুধু “মানুষ” হওয়া বাদে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
লেখাটির শিরোনাম এর সাথে আমি সহমত। কারণ মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে সেই ধর্মের বিরুদ্ধে যাওয়া অনেক কষ্টকর। এর কারণ ধর্ম হিসেবে হিন্দুধর্ম যতটা আচার সর্বস্ব ইসলাম ততটা নয়। হিন্দু ধর্ম ধর্ম হিসেবে যতটা implicit, ইসলাম ততটা explicit।
তবে আমার মতে লেখকের পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশ কেন্দ্রিক। কেননা ভারতে একজন হিন্দুর পক্ষেও ধর্মদ্রোহী হওয়া সমান কষ্টকর বলেই মনে করি। আসলে সংখ্যায় লঘু হলে ধর্মের বাঁধনও বোধ করি লঘু হয়।
ফারুক ওয়াসিফ এর প্রথম মতামত থেকে উদ্ধৃত করলামঃ
“ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফ্যাসিস্ট বিজেপি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রক্ষমতা পর্যন্ত গিয়েছিল, জামাত এককভাবে তা যায়নি,তা সম্ভবো নয় এখানকার সামাজিক স্তর ও রাজৈনিতক সংষ্কৃতির জন্য।”
জামাত এর গায়ে ‘৭১ যদি প্রশ্ন হয়ে না থাকতো তবে জামাত এতদিনে ঠিকই গদিতে চড়তো বলে আমার ধারণা। আর তা চড়তো ধর্মকে আঁকড়ে ধরেই। আমাদের কোনো সংস্কৃতি তাতে বাধা হতে পারতো না।
[মন্তব্য-লিন্ক]
লেখাটি ভালো লাগছে।
তবে কোথাও কোথাও একটু বেশি সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। সেটা কি নাস্তিক্যপাঠের পূর্বের ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষ থেকে, নাকি সহজাত – বুঝতে পারিনি।
[মন্তব্য-লিন্ক]
অনেক দিন ধরে তিনটি শব্দ : ধর্ম, Religion ও দ্বীন এর সমার্থক, বিপরীতার্থক ও সম্পর্কিত শব্দের একটা তালিকা এখানে দেব ভাবছিলাম, কিন্তু আরবি না জানাতে ‘দ্বীন’ শব্দের জন্য এই তালিকা আমার কাছে নেই এবং কারো কাছ থেকে জোগাড়ও করতে পারিনি — তাই অন্য দুটি শব্দের তালিকাও দেয়া হয়নি। এবার দিয়ে দিচ্ছি, এখন Religionটা দিচ্ছি
এরপর ধর্মটাও দিয়ে দিলাম