রায়হান রশিদ

রায়হান রশিদ


সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মানবাধিকার কর্মী, ব্লগার।



সজাগ সাধারণ্যে সিংহ হৃদয়ের স্পন্দন

গল্পকেও হার মানায় এই কাহিনী। কিংবা এটি কোন গল্প নয় মোটেই। ‘কি হতে হবে’, ‘কি হতে পারলাম’, ‘কি পেয়েছি’, ‘কি পাইনি’ – কঠোর বাস্তবতার এমন হাজারটা অনুক্ত সমীকরণে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়া সত্ত্বার কাছে এসব আজ গল্প মনে হয়। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর হিসেবে ড. আতিউর রহমানের নিয়োগ প্রাপ্তির পর থেকেই পত্র পত্রিকা ইন্টারনেট ফোরামগুলো ছেয়ে গেছে গল্পকে হার মানানো কোন এক “রাখাল বালকের” গল্পে। বিস্ময়ে আনন্দে হতবাক হয়েছি আমরা পাঠকরা। কেউ একে দেখছেন সাফল্যের গল্প হিসেবে, কেউ দেখছেন ছিন্ন বস্ত্র থেকে প্রাসাদের গল্প হিসেবে, কেউ দেখছেন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমণের আখ্যান হিসেবে। নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ী ড.আতিউর এর উত্থানের এই কাহিনী কি আসলেই এতটা অনন্য সাধারণ? নাকি এমনই শত শত গল্প রয়েছে গ্রাম প্রধান বাংলাদেশের পল্লীর গহন গভীর থেকে উঠে আসা গত প্রজন্মের বেশীর ভাগ মানুষের, যাঁরা অদম্য প্রতিজ্ঞায় বুক বেঁধেছিলেন এক সময় শিক্ষার আলোকে হৃদয়ে ধারণ করতে? ছোটবেলায় একসময় আমাদের পড়ানো হতো – ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়িঘোড়া চড়ে সে’। জানি না সে সব ছাই ভস্ম এখনো পড়ানো হয় কি না; জানি না কারা লেখেন ছোটদের এসব বই। শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আমাদের আতিউর রহমানেরা কি কেবল গাড়ি ঘোড়ায় চড়ার জন্যই লেখা পড়া করেছিলেন? মনে হয় না। আর এই গল্প কি কেবল এক জন আতিউর রহমানের ব্যক্তিগত একক সাফল্যের গল্প? আর সেই সব সাধারণ গ্রাম বাসীরা, হাট বাজারের শত শত অপরিচিত জনেরা, যারা কোন এক বালকের স্বপ্ন-সম্ভাবনাকে চিনতে পেরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজেদের শত অভাবের মাঝেও – তাঁদেরও কি গল্প নয় এটা? নিজেরা শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত, কিন্তু শিক্ষার আলোকে জিইয়ে রাখতে অচেনা এক কিশোরের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন যারা, তাঁদেরও তো গৌরবের গল্প এটা। কোচিং সেন্টার আর বোর্ডের তারকা তালিকার কল্যাণে আজ আমাদের সমস্ত শিক্ষাগত অর্জন  কিংবা সাফল্যকে ব্যক্তিগত মেধাজাত পণ্য হিসেবে দেখতে শেখানো হচ্ছে। যে কারণে, আমাদের ‘সফলদের’ অধিকাংশই কারো কাছে (বিশেষত সাধারণের কাছে) ঋণ বা দায় স্বীকার করতে রাজী নন। অনেকে তো আবার নিজের সংগ্রামী অতীতের কথা মনে রাখতেও লজ্জিত হন। মাঝে মাঝে এমন একজন দু’জন আতিউর রহমান সামনে এগিয়ে আসেন আমাদের মনে করিয়ে দিতে – শিক্ষার কথা, সুযোগের কথা, সম্ভাবনার কথা, সুযোগ বঞ্চিতের দেশে শিক্ষিতের দায়বদ্ধতার কথা। তাঁরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন জাতির প্রাণের গহীনে শত দারিদ্রের মধ্যেও স্পন্দিত হতে থাকা সিংহ হৃদয়গুলোর কথা। যেখানে দারিদ্র্য কেবলই ভাত কাপড়ের, ভালোবাসা-স্বপ্ন‌-মানবতার নয়।

এ কাহিনী গল্পের মত, কিন্তু মোটেও কোন গল্প নয় এটি। আমাদের আগের প্রজন্মে, এমনকি এই প্রজন্মেও এমন শত শত গল্প প্রতিনিয়ত বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে আমাদের অগোচরে। আসুন নিজেদের পরিচিত পরিমন্ডল থেকে সেই কাহিনীগুলো জানার চেষ্টা করি – দায়বদ্ধতার দায় থেকে।

========

আতিউর রহমানের স্মৃতিচারণ থেকে কিছু অংশ তুলে ধরছি এখানে:

আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজোপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের। ‘আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিল মোটামুটি। কিন্ত্ত তিনি আমার বাবাকে তার বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতোগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম। মা তার বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদর্্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই, কী এক অবস্থা!
‘আমার মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তার কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্ত্ত আমার পরিবারের এতোটাই অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলো না। বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন। আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো।
‘আমাদের একটা গাভী আর একটা খাসি ছিল। আমি সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে দুই ভাই মিলে যা আয় করতাম, তাতে কোনো রকমে দিন কাটছিল। কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত দোকানে বসতাম। পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো- সেই স্বপ্নও ছিল না।
‘এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে। স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেয়ার মতো কোনো জামা নেই। খালি গা আর লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি। স্কুলে পৌঁছে আমি তো বিস্ময়ে হতবাক! চারদিকে এতো আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ! আমার মনে হলো, আমিও তো আর সবার মতোই হতে পারতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে।
‘নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পারি না? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা অন্য কোনো কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল হেড স্যারের সঙ্গে আলাপ করবো।
‘পর দিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম। বড় ভাই আমাকে হেড স্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেয়া হয়। কিন্ত্ত হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয়?
‘স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়ে ছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল। তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি যোগাড় করলেন। পরীক্ষার আর মাত্র তিনমাস বাকি। বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে তিনমাস ছুটি দিতে হবে। আমি আর এখানে থাকবো না। কারণ ঘরে খাবার নেই, পরনে কাপড় নেই- আমার কোনো বইও নেই, কিন্ত্ত আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।
‘মা বললেন, কোথায় যাবি? বললাম, আমার এককালের সহপাঠী এবং এখন ক্লাসের ফাস্র্টবয় মোজাম্মেলের বাড়িতে যাবো। ওর মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। যে ক’দিন কথা বলেছি, তাতে করে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হলো। আমার বিশ্বাস, আমাকে উনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।
দুরু দুরু মনে মোজাম্মেলের বাড়ি গেলাম। সবকিছু খুলে বলতেই খালাম্মা সানন্দে রাজি হলেন। আমার খাবার আর আশ্রয় জুটলো; শুরু হলো নতুন জীবন। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলাম। প্রতিক্ষণেই হেডস্যারের সেই অবজ্ঞাসূচক কথা মনে পড়ে যায়, জেদ কাজ করে মনে; আরো ভালো করে পড়াশোনা করি।
‘যথা সময়ে পরীক্ষা শুরু হলো। আমি এক-একটি পরীক্ষা শেষ করছি আর ক্রমেই যেন উজ্জীবিত হচ্ছি। আমার বিশ্বাসও বেড়ে যাচ্ছে। ফল প্রকাশের দিন আমি স্কুলে গিয়ে প্রথম সারিতে বসলাম। হেডস্যার ফলাফল নিয়ে এলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, পড়তে গিয়ে তিনি কেমন যেন দ্বিধান্বিত। আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ফল ঘোষণা করলেন। আমি প্রথম হয়েছি! খবর শুনে বড় ভাই আনন্দে কেঁদে ফেললেন। শুধু আমি নির্বিকার- যেন এটাই হওয়ার কথা ছিল।
‘বাড়ি ফেরার পথে সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আমি আর আমার ভাই গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছি। আর পেছনে একদল ছেলেমেয়ে আমাকে নিয়ে হইচই করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারা গাঁয়ে সাড়া পড়ে গেল! আমার নিরক্ষর বাবা, যার কাছে ফাস্র্ট আর লাস্ট একই কথা-তিনিও আনন্দের আত্মহারা; শুধু এইটুকু বুঝলেন যে, ছেলে বিশেষ কিছু একটা করেছে। যখন শুনলেন আমি উপরের ক্লাসে উঠেছি, নতুন বই লাগবে, পরদিনই ঘরের খাসিটা হাটে নিয়ে গিয়ে ১২টাকায় বিক্রি করে দিলেন। তারপর আমাকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর গেলেন। সেখানকার নবনূর লাইব্রেরি থেকে নতুন বই কিনলাম।
‘আমার জীবনযাত্রা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমি রোজ স্কুলে যাই। অবসরে সংসারের কাজ করি। ইতোমধ্যে স্যারদের সুনজরে পড়ে গেছি। ফয়েজ মৌলভী স্যার আমাকে তার সন্তানের মতো দেখাশুনা করতে লাগলেন। সবার আদর, যত্ন, ্েলহে আমি ফাস্র্ট হয়েই পঞ্চম শ্রেণীতে উঠলাম। এতদিনে গ্রামের একমাত্র মেট্রিক পাস মফিজউদ্দিন চাচা আমার খোঁজ নিলেন। তার বাড়িতে আমার আশ্রয় জুটলো।
‘প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমি দিঘপাইত জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হই। চাচা ওই স্কুলের শিক্ষক। অন্য শিক্ষকরাও আমার সংগ্রামের কথা জানতেন। তাই সবার বাড়িতে আদর- ভালোবাসা পেতাম।
‘আমি যখন সপ্তম শ্রেণী পেরিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উঠবো, তখন চাচা একদিন কোথা থেকে যেন একটা বিজ্ঞাপন কেটে নিয়ে এসে আমাকে দেখালেন। ওইটা ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন। যথা সময়ে ফরম পূরণ করে পাঠালাম। এখানে বলা দরকার আমার নাম ছিল আতাউর রহমান। কিন্ত্ত ক্যাডেট কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে। ওর নামটা একটু আলাদা হওয়া দরকার; তাই আতিউর করে দিলাম।
‘আমি রাত জেগে পড়াশুনা করে প্রস্ত্ততি নিলাম। নির্ধারিত দিনে চাচার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে রওনা হলাম। ওই আমার জীবনে প্রথম ময়মনসিংহ যাওয়া। গিয়ে সবকিছু দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ! এত এত ছেলের মধ্যে আমিই কেবল পায়জামা আর স্পঞ্জ পরে এসেছি! আমার মনে হলো, না আসাটাই ভালো ছিল। অহেতুক কষ্ট করলাম। যাই হোক পরীক্ষা দিলাম; ভাবলাম হবে না। কিন্ত্ত দুই মাস পর চিঠি পেলাম, আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যেতে হবে।
‘সবাই খুব খুশি; কেবল আমিই হতাশ। আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পরে যাবো। শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম। আর একটা শার্ট যোগাড় হলো। আমি আর চাচা অচেনা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। চাচা শিখিয়ে দিলেন, মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি যেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলি; ম্যা আই কাম ইন স্যার? ঠিকমতোই বললাম। তবে এতো উচ্চস্বরে বললাম যে, উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। পরীক্ষকদের একজন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এম. ডব্লিই. পিট আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সবকিছু অাঁচ করে ফেললেন। পরম ্েলহে তিনি আমাকে বসালেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। আমার মনে হলো, তিনি থাকলে আমার কোনো ভয় নেই। পিট স্যার আমার লিখিত পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর অন্য পরীক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কী-সব আলাপ করলেন। আমি সবটা না বুঝলেও অাঁচ করতে পারলাম যে, আমাকে তাদের পছন্দ হয়েছে। তবে তারা কিছুই বললেন না। পরদিন ঢাকা শহর ঘুরে দেখে বাড়ি ফিরে এলাম। যথারীতি পড়াশুনায় মনোনিবেশ করলাম। কারণ আমি ধরেই নিয়েছি, আমার চান্স হবে না।
‘হঠাৎ তিন মাস পর চিঠি এলো। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি। মাসে ১৫০ টাকা বেতন লাগবে। এর মধ্যে ১০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে, বাকি ৫০ টাকা আমার পরিবারকে যোগান দিতে হবে। চিঠি পড়ে মন ভেঙে গেল। যেখানে আমার পরিবারের তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আমি চাচার বাড়িতে মানুষ হচ্ছি, সেখানে প্রতিমাসে ৫০ টাকা বেতন যোগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না!
এই যখন অবস্থা, তখন প্রথমবারের মতো আমার দাদা সরব হলেন। এত বছর পর নাতির (আমার) খোঁজ নিলেন। আমাকে অন্য চাচাদের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, তোমরা থাকতে নাতি আমার এত ভালো সুযোগ পেয়েও পড়তে পারবে না? কিন্ত্ত তাদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল না। তারা বললেন, একবার না হয় ৫০ টাকা যোগাড় করে দেবো, কিন্ত্ত প্রতি মাসে তো সম্ভব নয়। দাদাও বিষয়টা বুঝলেন।
আমি আর কোনো আশার আলো দেখতে না পেয়ে সেই ফয়েজ মৌলভী স্যারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি থাকতে কোন চিন্তা করবে না। পরদিন আরো দুইজন সহকর্মী আর আমাকে নিয়ে তিনি হাটে গেলেন। সেখানে গামছা পেতে দোকানে দোকানে ঘুরলেন। সবাইকে বিস্তারিত বলে সাহায্য চাইলেন। সবাই সাধ্য মতো আট আনা, চার আনা, এক টাকা, দুই টাকা দিলেন। সব মিলিয়ে ১৫০ টাকা হলো। আর চাচারা দিলেন ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকা সম্বল করে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাম। যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে আমি ১৫০ টাকায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করলাম। শুরু হলো অন্য এক জীবন।
প্রথম দিনেই এম. ডব্লিউ. পিট স্যার আমাকে দেখতে এলেন। আমি সবকিছু খুলে বললাম। আরো জানালাম যে, যেহেতু আমার আর বেতন দেওয়ার সামর্থয নেই, তাই তিন মাস পর ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সব শুনে স্যার আমার বিষয়টা বোর্ড মিটিংয়ে তুললেন এবং পুরো ১৫০ টাকাই বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এস.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করলাম এসব আরো অনেক সাফল্যের মুকুট যোগ হলো।
আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের অনুদানে ভরপুর। পরবর্তীকালে আমি আমার এলাকায় স্কুল করেছি, কলেজ করেছি। যখন যাকে যতটা পারি, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও করি। কিন্ত্ত সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না। সৌজন্যে: আমাদের সময়

পোস্ট কিংবা মন্তব্যে প্রকাশিত মতামত কোন অবস্থাতেই মুক্তাঙ্গন কর্তৃপক্ষের মতামতের প্রতিফলন নয়। বক্তব্যের দায়ভার লেখক এবং মন্তব্যকারীর নিজের। শুধুমাত্র "মুক্তাঙ্গন" নামের আওতায় প্রকাশিত বক্তব্যই ব্লগের যৌথ অবস্থানকে নির্দেশ করে।


৮ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:

  1. নীড় সন্ধানী নীড় সন্ধানী লিখেছেন:

    আতিউর রহমানের গল্পটা যখনি পড়ি বুকটা ভার হয়ে যায়, আকাংখার মাত্রাটা উর্ধ্বমূখী হয়ে যায়। সেখানেই আমার ভয়। আমরা খুব তাড়াতাড়ি আশাবাদী হই খুব তাড়াতাড়ি হতাশ হই। আশা বন্ধক রাখা মানুষগুলো আমাদের হতাশ করে। আতিউর রহমানের ক্ষেত্রে সেটা যেন না হয়। এই মানুষটাকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদটা আইএমএফ এর আশীর্বাদপুষ্ট থাকে বলে বদনাম আছে। আতিউর কি পারবেন সেই বদনাম কাটিয়ে শিরদাড়া সোজা করে দাঁড়াতে? এখনো বলার সময় আসেনি হয়তো।

    • ১.১
      রায়হান রশিদ রায়হান রশিদ লিখেছেন:

      ঠিক এই সংশয় আমারও। আশা বন্ধক রাখা মানুষগুলোর অনেকেই যেমন অতীতে আমাদের হতাশ করেছে, তেমনি আমাদের আশা ভরসার জায়গাটাও কেমন যেন প্রায়ই মাত্রা ছাড়িয়ে যায় কিছুটা। প্রতিষ্ঠানকে গড়ে নেয়ায় ব্যক্তির ভূমিকা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি একজন ব্যক্তি হাজার সদিচ্ছা থাকলেও ঠিক কতটা আসলে করতে পারবেন তারও তো একটা সীমা আছে। কারণ, ওয়ান ম্যান শো বলে আসলেই হয়তো কিছু নেই। ব্যক্তিকে সেখানে তার গোষ্ঠী, পৃষ্ঠপোষক, প্রতিষ্ঠান, প্রচলিত ব্যবস্থা সব কিছুর সাথে প্রতিনিয়ত নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে কাজ করে যেতে হয়। আমার আরেকটা সংশয় অর্থনীতিবিদ হিসেবে আতিউর রহমানের কাজের ক্ষেত্র নিয়ে, ইতোমধ্যেই কিছু কিছু ব্লগে যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলতঃ মুদ্রাকেন্দ্রিক কর্মকান্ডের সাথে উন্নয়ন অর্থনীতির ঠিক কতটা সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, সেটার ব্যাপারে ঠিক নিশ্চিত নই। অর্থনীতির ছাত্রদের কেউ বিষয়টা নিয়ে বিশদ লিখলে খুব ভাল হয়। এটা ঠিক যে স্বপ্ন (vision অর্থে) এবং দায়িত্ববোধ মানুষকে অনেকদূর নিয়ে যায়, এমনকি অসম্ভবকে সম্ভব করারও সাহস জোগায়। আতিউর রহমানদের ওপর এই জন্য আশা করতে ইচ্ছে করে। আর কিছু না হোক, অনেক ধরণের মানুষকেই তো এই সব দায়িত্ব দিয়ে দেখা হল; এবার না হয় নতুন চিন্তাকে একটা সুযোগ দিয়ে দেখা যাক; এতে হারাবার কি আছে?

  2. আরমান রশিদ লিখেছেন:

    আইএমএফ প্রসঙ্গে ছোট্ট একটা গল্প বলিঃ
    ধানমন্ডির এক একটা ডাটাবেইজ কোচিং সেন্টারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রাটরের সাথে পরিচয় আর সেই থেকে বন্ধুত্ব। তার সুবাদে একদিন ব্যাংকের কিছু প্রবেশ নিষেধ কক্ষে যাবার সুযোগ হয়। তিনি আমাকে হাতে কলমে দেখান কিভাবে শুধুমাত্র একটি প্রকোষ্ঠে বসে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি ট্রানস্যাকশন মনিটর সম্ভব। সম্ভব ডাটা মাইনিং এর কিছু সরল সমিকরণ প্রয়োগ করে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ট্রেন্ড নির্ধারণ করা। অজএইড আর ডিএফআইডি-এর সহায়তায় গড়ে তোলা এই তথ্যভান্ডারে সুরক্ষিত দেশের সার্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিকাশের আনুভিক্ষনিক চিত্র দেখতে দেখতে মনটা অদ্ভুত এক আত্মবিশ্বাসে ভরে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল আমাদের দেশে নিশ্চয় এমন অনেক মাথা আছেন যারা এসব তথ্যের সদব্যাবহার করতে জানবেন আর একদিন না একদিন আমরা দেশটাকে এই দারিদ্রের চক্র থেকে উদ্ধারের চাবিকাঠিটি এই তথ্যভান্ডারেই খুজে পাব। আমার বন্ধুকেও জানালাম আমার আশাবাদের কথা। তিনি তখন মলিন হেসে আমাকে ডাটাবেইজের সিকিউরিটি ফাইলগুলি দেখানো শুরু করলেন। নিমিশেই বুঝতে পারলাম এই তথ্যভান্ডারে আমাদের প্রতিভাবান অর্থনীতিবিদরা তো দুরের কথা এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকেই কর্মরত অনেক উচ্চপর্যায়ের অর্থনীতিবিদেরও প্রবেশাধিকার নেই। তিনি আরো বললেন ভবনের নিচ তলায় এমন একটা কক্ষ আছে যেখান থেকে এই তথ্যভান্ডার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায়, এমনকি এসব রাষ্ট্রিয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন, পরিবর্ধন এমনকি মুছে ফেলা যায়। জিজ্ঞেস করলাম আমাকে তিনি সেখানে নিয়ে যেতে পারবেন কিনা। একটুকরো রহস্যময় হাসি হেসে তিনি জানালেন ভেতরে নেয়া সম্ভব নয় তবে কক্ষটির সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে আনতে পারবেন। পরে লাঞ্চ খেতে যাবার সময় তাকে বারবার তাগাদা দিতে থাকলাম সেখানে নিয়ে যাবার জন্য। অবশেষে তিনি খুব সম্ভবত দোতলার করিডোর ধরে আমাকে নিয়ে চললেন বিশেষ সেই কক্ষের সামনে দিয়ে আর আমি মনে মনে হোচট খেলাম যখন দেখলাম কক্ষটির দরজায় আইএমএফ এর নাম লিখা। প্রচন্ড রাগে মূহুর্তের জন্য ফেটে পড়তে ইচ্ছে হল, পরক্ষনেই নপুংশক সেই রাগকে স্তিমিত করে হেটে চললাম ক্যাফেটেরিয়ার দিকে।

    • ২.১
      নীড় সন্ধানী নীড় সন্ধানী লিখেছেন:

      @আরমান রশীদ,
      আইএমএফ বাংলাদেশের অফিস বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের চারতলায়। আপনি সেটার সামনে দিয়েই গিয়েছেন সম্ভবতঃ। নিয়ন্ত্রনটা একেবারে কোলে বসেই করা হয়। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তো পদাধিকার বলে আইএমএফ এর কান্ট্রি ম্যানেজার, তাই না? বাংলাদেশের সবগুলো অর্থনৈতিক খাতের উপর সবচেয়ে বিস্তারিত সংকলন পাওয়া যায় একমাত্র আইএমএফ এর কাছে। এই কাজটা সরকারের কোন মন্ত্রনালয় কেন করতে পারে না সেটা আমার বহুদিনের বিস্ময়। সরকারী ওয়েবসাইটগুলো একেকটা শ্বেতহস্তী। মুষ্টিমেয় কয়েকটা ছাড়া বেশীরভাগই বছরে একবারের বেশী আপডেট হয় না।

      • ২.১.১
        অবিশ্রুত অবিশ্রুত লিখেছেন:

        গত ১৩ মে দৈনিক যুগান্তরে একটি খবর বেরিয়েছে, শিরোনাম আইএমএফের ২৩ শর্ত মেনে নিলো সরকার। আশাবাদী হওয়ার এখনো তেমন কিছু ঘটেনি!

  3. অবিশ্রুত অবিশ্রুত লিখেছেন:

    আতিউর রহমান স্বদেশী চিন্তা ও স্বনির্ভরতার আদর্শে বলিয়ান, আমাদের জন্যে এটি আশাব্যঞ্জক। আমাদের বিশ্বাস, নিশ্চয়ই তিনি এসবও চিন্তা করেছেন, রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী স্বনির্ভরতা নির্মাণের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলি শেষ পর্যন্ত কেন ব্যর্থ হয়েছিল। এই ব্যর্থতাগুলি তলিয়ে দেখার উপরেও কার্যকর স্বদেশী উদ্যোগের সফলতা অনেকটা নির্ভর করছে।
    তিনি আমাদের খুবই শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি; কিন্তু নীড়সন্ধানী ও রায়হান রশীদের মতো আমিও বলতে চাই, আমাদের প্রত্যাশা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি হোঁচট খেয়েছিলাম, তিনি ১৯৯২/৯৩ সালের দিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্রে ড. ইউনূসের নোবেল প্রাইজ পাওয়া উচিত মর্মে বাংলা ও ইংরেজিতে কয়েকটি কলাম লিখেছেন দেখে (তাই বলে তাঁর ওপর আমার শ্রদ্ধা বিনষ্ট হয়নি)।
    নির্মম সত্য হলো, আরমান রশিদ যে দানবের কথা জানালেন, সেই দানবের শক্তি অনেক বেশি। ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়,- আইএমএফ-এর রুমটি যতদিন আছে, ততদিন আশা করি কী করে! তারপরও আজ সংবাদপত্রে যখন দেখলাম, বিভিন্ন ব্যাংক সুদ বেশি নিচ্ছে দেখে তিনি সমালোচনা করেছেন, তখন আশাবাদী হওয়ারই সাধ জাগল। আশাবাদী হতে ক্ষতি কি, বলুন?

  4. উন্নয়ন সমন্বয়-এর অফিসে ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে বার কয়েক আলাপের সুযোগ হয়েছিল। সে-সময়ে অবশ্য তাঁর প্রথম জীবনের এই গল্প জানা ছিল না। আমাদের এক অগ্রজ সৃহৃদ ছিলেন তাঁর সহকর্মী, প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম পরিচালক। ওই অগ্রজের কক্ষে মাঝে মাঝে দরকারি আলাপ বা খোশগল্প করতে আসতেন ওই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা আতিউর। তাঁদের দুজনের কথা শুনে, কখনো-বা এটা-ওটা নিয়ে আলাপ ক’রে, তাঁকে খুব দূরের মানুষ বলে মনে হয়নি। একবার উন্নয়ন সমম্বয় বা সমুন্নয় থেকে নতুন একটা সাময়িকপত্র (উন্নয়ন বিষয়ক) প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা আলাপ করছিলেন; মনে আছে আতিউর এর নাম ঠিক করেছিলেন ‘প্রান্তস্বর’। ওই পত্রিকাটি দেখা হয়নি। তবে ‘পরিবেশপত্র’-র কয়েকটি সংখ্যা বেশ ভালো লেগেছিল।

    আতিউর রহমানের উন্নয়ন-ভাবনা প্রায়শই শুরু হয় রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে; রবীন্দ্রানুরাগের আতিশয্য চোখে পড়ার মতো। তবে ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পাবার পর তাঁর হইচই দেখে একটু বিরক্তই লেগেছিল। … বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর হিসেবে তিনি কতটা যোগ্যতার পরিচয় দেন, আমরা তা দেখার অপেক্ষায় আছি।

  5. নিজামউদ্দিন লিখেছেন:

    আমাদের উদাহরণ দরকার। আবার পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে …

আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:

=নিয়মাবলি=
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।


অভ্র প্রভাত ফোনেটিক ইউনিজয় ইংরেজী
------------(মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন)------------


বাংলায় মতামত লিখতে নিচের যে কোন একটি পদ্ধতি বেছে নিন:
(ক) সংযুক্ত চারটি বাংলা কী‌বোর্ডের (ইউনিজয়, ফোনেটিক, প্রভাত) যে কোন একটি বেছে নিয়ে; অথবা, (খ) গুগল বাংলা ট্রান্সলিটারেশন টুল ব্যবহার করেও সহজে বাংলা লেখা সম্ভব। বাংলা অক্ষর চালু/বন্ধ করতে ctrl+g চাপুন। শব্দটি ইংরেজী হরফে লিখে ফেলে স্পেসবার চাপুন, তাহলেই সেটি বাংলায় রূপান্তরিত হবে (একই শব্দের একাধিক বানান-বিকল্প শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করে দেখে নেয়া যায়); অথবা, (গ) মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন; অথবা, (ঘ) আপনার কম্পিউটারে অভ্র কীবোর্ড স্থায়ীভাবে ইনস্টল করে নিয়ে। কীবোর্ডগুলোর ব্যবহার বা লে‌-আউট জানা না থাকলে "বাংলা বর্ণমালা বিভ্রাট" লিংক অথবা "বাংলা কীবোর্ড লে-আউট" লিংক থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। এরপরও সমস্যার সম্মূখীন হলে ব্লগ এডমিন এর কাছে সাহায্যের জন্য লিখুন।