মুক্তাঙ্গন

rss-posts rss-comments
  • ব্লগবাড়ি
  • উদ্যোগ
    • মুক্তাঙ্গন পোর্টাল
      • Muktangon Facebook Group
      • মুক্তাঙ্গন ওয়ার্কগ্রুপ
    • ICSF PORTAL
      • E-Library '71
      • Media Archive '71
      • ICSF Blog
      • ICSF Discussion Groups
      • ICSF-Wiki Coordination Project
  • ইতিবৃত্ত
    • মুক্তাঙ্গন ঘোষণা
    • কৃতজ্ঞতা স্বীকার
  • লিখতে আগ্রহী?
    • সম্পাদনা ও মডারেশন
    • লেখক ক্যালেন্ডার
  • যোগাযোগ
  • কারিগরি সাহায্য
    • Bangla Settings
    • Keyboard layouts
    • কারিগরি জিজ্ঞাসা
    • সমস্যা রিপোর্ট করুন
  • আর্কাইভ
  • আনবাড়ি

রশীদ আমিন

রশীদ আমিন


সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছাপচিত্রী, লেখক। শিক্ষাগত কারণে বর্তমানে বেইজিং-প্রবাসী।




  • অন্দরমহল



    • নিবন্ধন | পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার


  • অক্ষরের আকার



    লেখাকে ঘিরে আলোচনা

      মন্তব্য নেই

    বেইজিং থেকে হংকং : পর্ব ৫

    লিখেছেন: রশীদ আমিন | ৮ জানুয়ারি ২০১১, শনিবার | ২৫ পৌষ ১৪১৭

    বিষয়: চীন, প্রদর্শনী, প্রবাস, শিল্পী, স্মৃতিকথা, হংকং | মন্তব্যবিহীন | ইমেইল / প্রিন্ট করুন: Email This Post Print This Post

    Share Tweet

    বেইজিং-এর পথে

    হংকং-এ বেশ কিছুদিন কেটে গেল। কখনো ধীর লয়ে, আবার কখনো দ্রুত গতিতে। প্রায় দু সপ্তাহ। এর মধ্যে রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে ছিল মাঝে মাঝে গ্যালারিতে গিয়ে বসা এবং দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া। এর মধ্যে মিশালের সাথে গিয়ে একটি অকশন পার্টিও দেখে এসেছি। আমাদের স্মৃতি বিজড়িত চুংকিং ম্যানশনে গিয়েছি একবার। অনেক পরিবর্তন চোখে পড়ল; কিছু সংস্কার করা হয়েছে। আগে দেখতাম অনেক বাঙালি ভাইয়েরা এদিক-সেদিক বসে থাকত, ভেসে আসত বাংলা কথা। এবার তাদের একজনকেও দেখলাম না। হংকং-এর ভিসা পাওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে, তাই অনেকেই এখন এমুখো হয় না। আমার সমসাময়িক কয়েকজন ছাত্র বেইজিং-এ পড়াশুনা শেষ করে হংকং-এ থিতু হয়েছে, তাদের সাথেও যোগাযোগ হলো। একদিন মিলিত হয়েছিলাম ডিনারে। আগে সংখ্যায় অনেক ছিল; অনেকেই চলে গেছে কানাডায়, এখন আছে মাত্র তিনজন। সাইফুল ভাই, ফরহাদ ভাই এবং পাশা। ফরহাদ ভাই স্থপতি, সাইফুল ভাই ব্যবসায়ী আর পাশা প্রোকৌশলী। সবাই ভালো করেছে। পাশা সপরিবারে চলে যাচ্ছে কানাডায়। পাশার ফেয়ারওয়েল ছিল, সেখানেই দেখা হলো পুরনো বন্ধুদের সাথে, প্রায় দেড়যুগ পরে। আমি যে আবার বেইজিং-এ ফিরে এসেছি এদের অনেকেই জানত না; সুতরাং দেখা হওয়াটা ছিল একটা সারপ্রাইজ। অনেক কথা হলো, বেইজিং-এর বিষয়ই ঘুরেফিরে আসছিল। তারুণ্য-ভরপুর সেই সময়গুলোতেই যেন বার বার ফিরে যাচ্ছিলাম। বেইজিং-এ আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে সেদিনের মতো বিদায় নিলাম। ইতিমধ্যে ট্রেনের টিকেট কেটে ফেলেছি। পরের দিনই ফিরে যাব বেইজিং-এ, যার জন্য একটু তাড়াও ছিল।

    মক ভাই কী যেন এক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন; সিসিসিডির কর্মীরা সবাই ব্যস্ত। তাই আমাকে বিদায় জানাতে পারবেন না বলে আগেই দেখাসাক্ষাৎ এবং বিদায়পর্ব সেরে নিয়েছি; তবে লক আর মকচাই আমাকে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে দেবে। যেদিন চলে আসব সেদিন সকাল সকাল মকচাই ও লক চলে এল। আমরা সকালে একসাথে নাস্তা সারলাম একটি রেস্তোরাঁয়। আবার ফিরে গেলাম রুমে। সেখানে আড্ডা এবং আমার গোছগাছ দুটোই সমান তালে চলছিল। মকচাই ও লক পরস্পরের পূর্বপরিচিত, লক মকচাইয়ের স্বামী ফু-এর বিশেষ বন্ধু ছিল। মকচাইয়ের সাথে লকের অনেকদিন পরে দেখা হলো। দেখতে দেখতে আমাদের স্টেশনে যাওয়ার সময় হয়ে গেল। বাসে যেতে হবে কিছু পথ। আমার ব্যাগ আর অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে বাসে উঠে পড়লাম, সাথে বন্ধু লক এবং মকচাই। বাসে যাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম নানা কিছু। এবার খুব ইচ্ছা ছিল আমার স্মৃতিময় সেই জায়গাটিতে যাওয়ার, অর্থাৎ ল্যানথাও আইল্যান্ড। এক অপূর্ব স্বর্গ। ১৯৯২ সালে চীন থেকে আমার ডিগ্রি শেষ করে হংকং হয়ে দেশে ফিরছিলাম; তখন কয়েকদিনের জন্য ল্যানথাও আইল্যন্ডে থাকার সুযোগ হয়েছিল। মক ভাই ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তাঁর এক বন্ধুর বাসায় থাকার। কাউলুন থেকে আগে দু ঘণ্টা লাগত ফেরিতে। সেখানে একটি সপ্তাহ চমৎকার কেটেছিল। ছবির মতো একটি দ্বীপ। মনে হয়েছিল এক স্বপ্নের দেশে চলে এসেছি। বিস্তীর্ণ শণক্ষেত, তার মাঝখান দিয়ে চলে গেছে কংক্রিটের সরু রাস্তা, শুধু দুটি সাইকেল পাশাপাশি যেতে পারে। আমিও একটি সাইকেল জোগাড় করে নিয়েছিলাম। প্রতিদিন কংক্রিটের রাস্তা দিয়ে সমুদ্রের পারে চলে আসতাম, বড্ড নির্জন সমুদ্রসৈকত। একটি কাফেতে বসে থাকতাম আর হংকং-এর বিখ্যাত আইস টি খেতাম। এবার যাওয়া হলো না সেই ল্যানথাও আইল্যান্ডে। তবে শুনেছি ওই দ্বীপে আগের সেই নির্জনতা আর নেই। উন্নয়নের জোয়ারে সব ভেসে গেছে। তাহলে বোধহয় না গিয়ে ভালোই করেছি। মনের পটে যে ছবিটি আঁকা আছে, তাই বেঁচে থাক।

    বাস এসে থামলো হোংহাম স্টেশনে, এবার বিদায়ের পালা। মকচাই এবং লকের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। কৃতজ্ঞতা জানালাম লককে তার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য, মকচাইয়ের কাছেও ঋণী হয়ে রইলাম। ধীরে ধীরে ইমিগ্রেশনের দিকে ঢুকে গেলাম। ইমিগ্রেশনের ঝামেলা শেষ করে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলাম। ট্রেন ছাড়তে আরো কিছু সময় বাকি আছে। বসে ভাবছিলাম, কীভাবে পার হয়ে গেল দুটি সপ্তাহ! তবে এই ক’দিনে ঘটে গেছে অনেক কিছু – প্রদর্শনী হলো, পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হলো, আবার যৎকিঞ্চিৎ বেড়ানোও হলো। ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে করতে দেখছিলাম বেশ কিছু মহিলা প্রায় সদ্যোজাত শিশুদের কোলে নিয়ে বসে আছে; তারাও এই ট্রেনের যাত্রী, অর্থাৎ চীন মূল ভূখণ্ডের দিকেই যাবে। আমার একটু কৌতূহল হলো; পাশে বসা এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করায় তিনি একগাল হাসলেন, বললেন, এরা সবাই চীন মূল ভূখণ্ড থেকে এসেছেন। চীনদেশে যেহেতু একটির বেশি বাচ্চা নেয়া বেআইনি তাই অনেক বিত্তবান চীনা এখানে এসে একাধিক বাচ্চা নিয়ে থাকে; আর হংকং চীনের নিয়মের আওতায় পড়ে না। এটি এখন নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি আমার বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হলো। নানাবিধ ভ্রমণের তালিকায় নতুন একটি সংযোজন হতে পারে —প্রসব ভ্রমণ।

    ট্রেনের সময় হয়ে গেল, ট্রেনে উঠে পড়লাম। প্রায় সদ্যোজাত শিশুদের মধ্যে কয়েকজন চিৎকার করে উঠল, ট্রেনের সিটিও বেজে উঠল। সিটির আওয়াজ আর কান্নার শব্দ একাকার হয়ে গেল। ট্রেন ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল বেইজিং-এর পথে।

    (সমাপ্ত)

    [প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় পর্ব, তৃতীয় পর্ব, চতুর্থ পর্ব]

    Share Tweet
       
    পোস্ট কিংবা মন্তব্যে প্রকাশিত মতামত কোন অবস্থাতেই মুক্তাঙ্গন কর্তৃপক্ষের মতামতের প্রতিফলন নয়। বক্তব্যের দায়ভার লেখক এবং মন্তব্যকারীর নিজের। শুধুমাত্র "মুক্তাঙ্গন" নামের আওতায় প্রকাশিত বক্তব্যই ব্লগের যৌথ অবস্থানকে নির্দেশ করে।


    আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:

    =নিয়মাবলি=
    * ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
    ** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
    *** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।
    >>প্রত্যুত্তরটি না পাঠাতে মনস্থির করলে "এখানে" ক্লিক করুন<<


    অভ্র প্রভাত ফোনেটিক ইউনিজয় ইংরেজী
    ------------(মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন)------------
    ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ
    ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ
    স হ ক্ষ ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁ । ॥ ৳ র-ফলা‌‌‌
    অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ     য-ফলা
      া ি ী ু ূ ৃ ে ৈ ো ৌ     রেফ
      ০ ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ ৯     ZWNJ
    স্পেসবার নতুন লাইন যুক্ত করুন/হসন্ত ZWJ


    বাংলায় মতামত লিখতে নিচের যে কোন একটি পদ্ধতি বেছে নিন:
    (ক) সংযুক্ত চারটি বাংলা কী‌বোর্ডের (ইউনিজয়, ফোনেটিক, প্রভাত) যে কোন একটি বেছে নিয়ে; অথবা, (খ) গুগল বাংলা ট্রান্সলিটারেশন টুল ব্যবহার করেও সহজে বাংলা লেখা সম্ভব। বাংলা অক্ষর চালু/বন্ধ করতে ctrl+g চাপুন। শব্দটি ইংরেজী হরফে লিখে ফেলে স্পেসবার চাপুন, তাহলেই সেটি বাংলায় রূপান্তরিত হবে (একই শব্দের একাধিক বানান-বিকল্প শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করে দেখে নেয়া যায়); অথবা, (গ) মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন; অথবা, (ঘ) আপনার কম্পিউটারে অভ্র কীবোর্ড স্থায়ীভাবে ইনস্টল করে নিয়ে। কীবোর্ডগুলোর ব্যবহার বা লে‌-আউট জানা না থাকলে "বাংলা বর্ণমালা বিভ্রাট" লিংক অথবা "বাংলা কীবোর্ড লে-আউট" লিংক থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। এরপরও সমস্যার সম্মূখীন হলে ব্লগ এডমিন এর কাছে সাহায্যের জন্য লিখুন।

    কপিরাইট © ২০০৮ নির্মাণ | ওয়ার্ডপ্রেস নির্ভর "মুক্তাঙ্গন" এর থীম রিফিউলড.নেট এর সৌজন্যে