যুদ্ধাপরাধীনামা : মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
শুরুর কথা
বেসরকারী টিভি চ্যানেল এনটিভির “আপনার জিজ্ঞাসা” অনুষ্ঠানের আলোচক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মানুষের ইসলাম সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব দিয়ে ধার্মিক মহলে বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন তিনি। মাওলানাকে আমিও চিনেছি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই। গত কয়েকদিন আগে বিভিন্ন মানুষের কাছে এই মাওলানা সম্পর্কিত স্তুতি বাক্য শুনে আমার ইচ্ছে হলো, তার সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নেবার। যেহেতু তার দাঁড়ি আছে এবং বয়স দেখলে বোঝা যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যুবক ছিলেন তাই খোঁজখবর নেওয়া মানে হলো, তিনি রাজাকার বা এই জাতীয় কোন কিছুর সাথে জড়িত ছিলেন কিনা, স্বাধীনতা যুদ্ধের তার ভূমিকা কী ছিল সে সম্পর্কে জানা। জানার উদ্দেশ্যে আমি বিভিন্ন মানুষকে মেইল দেওয়া শুরু করি। মেইলা মেইলি শেষ হঠাৎ মনে হয়, কী নির্বোধ আমি গুগলকেই জিজ্ঞেস করা হয়নি। তারপর গুগলে মাওনালা আবুল কালাম আজাদ রাজাকার লিখে সার্চ দিতেই বের হয়ে এলো অসংখ্য তথ্য।

লেখা শুরুর আগে একটা ঘটনা বলি। এবারের রোজায় আইইউটির ইসলামী স্ট্যাডিজ সোসাইটির উদ্যোগে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। ইফতার পার্টির আগের দিন দুপুরে স্পন্সর হিসেবে ওয়ামি (WAMY) এর নাম জানতে পেরে আমি, আমার কয়েকজন সহপাঠী ও জুনিয়র মিলে নেট থেকে এবং পরিচিত কয়েকজনকে ফোন দিয়ে এদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করি। সব তথ্যগুলো এক করে রাতে এই মর্মে পোস্টার লেখা লেখা হয়, ওয়ামি একটি মুসলিম টেররিস্ট ফান্ডিং গ্রুপ। মধ্যপ্রাচ্যের এই ইয়ুথ অর্গানাইজেশন বিশ্বের বিভিন্ন টেররিস্ট ফ্যানাটিক গ্রুপকে সরাসরি অর্থ সাহায্য প্রদান করে থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী শিবিরের সাথে তাদের চমৎকার সুসম্পর্ক বিদ্যমান [[সূত্রঃ শেষ প্যারা]]। ওয়ামির উত্তরার অফিসে শিবিরের বিভিন্ন মিটিং হয়ে থাকে, এছাড়াও যেসব জায়গায় শিবির নিজ নামে প্রবেশ করতে পারেনা সেসব জায়গায় মূলত তারা ওয়ামির ব্যানার ব্যবহার করে থাকে।
আমাদের এই পোস্টারিং এ বিব্রত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা (পড়ুন শিবিরপ্রাণ) প্রচার চালায়, আমরা মূলত ইসলাম ধ্বংসের জন্য এই পোস্টারিং করেছি। আমাদের সকল তথ্যই ভুয়া। তথ্যগুলো ইন্টারনেটে ইহুদি- খ্রিস্টানদের সাইট থেকে কপি করা, যাদের একমাত্র কাজ হলো এইসব ভুয়া তথ্য প্রচার করে শান্তির ধর্ম ইসলামের সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মুখে কালিমা লেপন করা।
এই ঘটনা এখানে বলার মূল উদ্দেশ্য হলো, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে লেখা এই প্রবন্ধ অনেকেরই ভালো লাগবেনা। যেহেতু লেখাটির প্রধান সূত্র ইন্টারনেটের বিভিন্ন পেপার পত্রিকা, মূলধারার বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন ভার্সন, ব্লগ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ফোরাম, অনেকেই তাই তথ্যগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দিবেন। তারা বাদে বাকি সবার উদ্দেশ্যে বলছি তথ্যগুলো নেট থেকে গ্রহণ করা হলেও, যতদূর সম্ভব অনান্য সুত্রের সাথে যাচাই করে দেখা হয়েছে, অতিরঞ্জিত ব্যাপারগুলো বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সর্বোপরি পাঠকের জানার সুবিধার্থে মূল লিংকটি সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, এছাড়া বইয়ের পৃষ্ঠা, মামলা নং ও উল্লেখিত হয়েছে।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খাড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ তার এলাকায় পরিচিত “খাড়দিয়ার বাচ্চু” নামে। দরিদ্র পরিবারে বড় হওয়া বাচ্চু মাদ্রাসা শিক্ষা শেষ ভর্তি হন ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে। বাকপটুতার কারণে কলেজে সহজেই পরিচিতি পেয়ে যান বাচ্চু। কলেজে থাকাকালীন সময়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকি সেনাদের সাথে সখ্যতা গড়ে বাচ্চু কবজা করেন প্রচুর অস্ত্র, গোলাবারুদ। এই গোলাবারুদ, অস্ত্র নিয়ে তিনি খাড়দিয়ায় তৈরি করেন নিজস্ব এক মিলিটারি বাহিনী। গ্রামের প্রায় শতাধিক যুবককে নিয়ে তৈরি এই মিলিটারি বাহিনী স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিল, “খাড়দিয়ার মেলিটারি” নামে। পাক- বাহিনীর দোসর এই বাহিনী খাড়দিয়ার আশে পাশের প্রায় ৫০ গ্রাম জনপদে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চালিয়েছিল তান্ডবলীলা। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এই বাচ্চু ও তার বাহিনী একাত্তরে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে হাসামদিয়ার হরিপদ সাহা, সুরেশ পোদ্দার, মল্লিক চক্রবর্তী, সুবল কয়াল, শরৎ সাহা, শ্রীনগরের প্রবীর সাহা, যতীন্দ্রনাথ সাহা, জিন্নাত আলী ব্যাপারী, ময়েনদিয়ার শান্তিরাম বিশ্বাস, কলারনের সুধাংশু রায়, মাঝারদিয়ার মাহাদেবের মা, পুরুরার জ্ঞানেন, মাধব, কালিনগরের জীবন ডাক্তার, ফুলবাড়িয়ার চিত্তরঞ্জন দাস, ওয়াহেদ মোল্লা, দয়াল, মোতালেবের মা, যবদুল, বাদল নাথ, আস্তানার দরবেশ সহ বিভিন্ন জনপদের প্রায় শতাধিক মানুষকে। [[১]]
ফতোয়া সম্পর্কিত হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ের রিরুদ্ধে লিভ আবেদন কারী ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ বাচ্চুর বর্তমান অবস্থা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, নগরকান্দা উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের নতিবদিয়া গ্রামের শোভা রানী বিশ্বাস। একাত্তরে তিনি এই আবুল কালাম আজাদের কাছে হয়েছিলেন ধর্ষিত। এ গ্রামেরই নগেন বিশ্বাসের স্ত্রী দেবী বিশ্বাসেরও সম্ভ্রম লুটেছিলেন বাচ্চু। নতিবদিয়ার প্রবীন দুই মৎস্যজীবি নকুল সরদার ও রঘুনাথ দত্ত ২০০০ সালে প্রকাশিত জনকন্ঠের “তুই রাজাকার” শীর্ষক ধারাবাহিক রিপোর্টের রিপোর্টার প্রবীর সিকদারকে জানান [[২]], লুটপাট- হামলা না করার শর্তে আমরা চাঁদা তুলে বাচ্চুকে দু’হাজার চার শ’ টাকা দিয়েছিলাম। তারপরও সে লুটপাট করেছে, গ্রামের দুই নববধূর ইজ্জত হরণ করেছে। পুরুরা গ্রামের জ্ঞানেন জীবন বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নীচে আশ্রয় নিয়েছিল। বাচ্চু সেখানেই তাকে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে। বাচ্চুর রাইফেলের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান ফরিদপুরের ফুলবাড়িয়ার চিত্তরঞ্জন দাস। সেদিন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জ্যোৎস্না পালিয়ে রক্ষা পেলেও একাত্তরে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তার তিন শিশু সন্তান। স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘদিন জ্যোৎস্না শুধু তার স্বামী হন্তারকের বিচার চেয়েছিলেন মনে মনে। অবশেষে এ বছর ৩ মে জ্যোৎস্না রানী দাস রাজাকার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও তার শ্যালক মোহাম্মদ কাজীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা করেন। [[৩]]

এছাড়াও ২০ এপ্রিল সালথার পুরুরা গ্রামের ভক্ত রঞ্জন বিশ্বাস (৬৫) মাওলানার নামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে [[৪]]। মাওলানা ছাড়াও তার শ্যালক মোহাম্মদ কাজীসহ অজ্ঞাত আরও ১০/ ১২ জনকে আসামী করে দায়ের করা এই মামলার আদালত ও এজহার সূত্রে বাদী পক্ষ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের পহেলা জ্যৈষ্ঠ দুপুর ১টায় জেলার সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুররা নমপাড়া গ্রামে আবুল কালাম আজাদ ও তার শ্যালক মোহাম্মদ কাজীসহ ১০/১২ রাজাকার সশস্ত্র অবস্থায় বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় তার বাবা মাধব চন্দ্র বিশ্বাস পালাতে গেলে আবুল কালাম আজাদ তার হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে গুলি করে তাকে হত্যা করে। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন মাধব চন্দ্রের বাড়িতে আসা (আত্মীয়) জ্ঞানান্দি বিশ্বাসকে আবুল কালাম আজাদ, শ্যালক মোহাম্মদ কাজী ও তার সঙ্গীরা নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যা করে। পরে তারা তার প্রতিবেশী মন্টু বকসির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। মামলায় বলা হয়, আসামিরা মাধব চন্দ্র বিশ্বাস, জ্ঞানান্দি বিশ্বাসকে হত্যা করা ছাড়াও নগরকান্দার ওহাব সরদার, মো. টুকু মোল্লা, কাঞ্চুন ফকির, আ. আদম মোল্লা, আ. হাচেন মিয়াসহ বহু মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আসামিরা মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে পাক হানাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে এলাকার মুক্তিবাহিনী ও নারীদের ধরে পাক সেনাদের কাছে তুলে দিতো। পরে জেলা জুডিশিয়াল কোর্টের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক মোতাহারাত আক্তার ভূইয়া সালথা থানাকে মামলা হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেওয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় ৪২ নম্বরে থাকা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সম্পর্কে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ক্যাপ্টেন বাবুল সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘বাচ্চু রাজাকার ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে পাকবাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিয়েছে এবং আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে বন্দিদের মধ্য থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের ধরে এনে বাচ্চু রাজাকার পাক সেনাদের ক্যাম্পে সাপ্লাই দিত। ’৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল নিয়ে ফরিদপুর শহরে প্রবেশের পথে বাচ্চু রাজাকারের বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম, যদিও তাদের পরাস্ত্র করে আমরা শহরে ঢুকে পড়ি। ’৭১ সালের আনুমানিক ২ মে পাকবাহিনী ফরিদপুরের হাসামদিয়া ও ময়েনদিয়া গ্রামে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় তাদের প্রধান দোসর হিসেবে বাচ্চু রাজাকার তাদের সঙ্গে ছিল এবং সে নিজে চারজন নিরীহ গ্রামবাসীকে হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে। [[৫]]
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা বোয়ালমারীর কালিনগরের মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস ফকির জানান, ’৭১ সালে জুলাই মাসের শেষদিকে বাচ্চু রাজাকারের (আবুল কালাম আজাদ) নেতৃত্বে বোয়ালমারী ডহরনগর এলাকার বাবুবাড়ীর সুধাংশ বাবু ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি চালিয়ে হত্যা এবং তাদের বাড়ি লুটপাট করে। তিনি বলেন, সেদিন তারা (আবুল কালাম আজাদ) বাবুবাড়ীতে হত্যাকা- চালিয়ে ডহরনগর এলাকার সাব-রেজিস্ট্রার অখিল চন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে জীবন চক্রবর্তীকে ধরে এনে রূপাপাত বাজারের হারান সাহার দোকানের সামনে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। [[৬]]
মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম আবু ইউসুফ সিদ্দিকী জানান, আমি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ফরিদপুর স্টেডিয়ামের পাশে বন্দিশিবিরে আটকা পড়ি। তিনি বলেন, আমি দেখেছি বাচ্চু রাজাকার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ এনে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিতো। তিনি জানান, বাচ্চু পাক দোসরদের সঙ্গে বন্দিশিবিরের আটককৃতদের নির্যাতন করতো। আমি একদিন বাচ্চুর এ কাজের প্রতিবাদ করলে সে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়।
ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ জানান, বাচ্চু রাজাকার জেলার নগরকান্দা, সালথা ও বোয়ালমারী অঞ্চলে রাজাকার আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল। সে (বাচ্চু) মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিতো।
ফরিদপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার জানান, ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরের পর দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল বাচ্চু রাজাকার। তিনি বলেন, রাজাকার আবুল কালাম আজাদ দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন হাজতবাস করেছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন নগরকান্দা এলাকার কমান্ডার আলতাফ হোসেন জানান, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার বাচ্চু পাকিস্তানি হানাদারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে। সে এলাকায় সশস্ত্র রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলে ফরিদপুর, নগরকান্দা ও বোয়ালমারীতে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। তার বাহিনীকে এলাকার মানুষ ‘খাড়দিয়ার মিরিটারি’ নামে চিনতেন।’ তিনি আরো বলেন,‘৭১ সালে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ৩ বার তাকে ধরার জন্য হানা দেই। কিন্তু রাজাকার বাচ্চু তার শ্বশুর চাঁন কাজীর বাড়িতে পালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবারই জানে বেঁচে যায়।’
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবার পরএলাকা থেকে পালিয়ে যান বাচ্চু। আবু সাঈদ খান প্রণীত ‘মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর’ গ্রন্থের ১৬৯-১৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় ’৭২ সালে দালাল আইনে যে মামলা হয়েছিল তার নম্বর-১৯ ও ২০, তারিখ ২৩/৩/৭২, ধারা। এই মামলার কারণে পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে হাজতে ঢোকানো হয়। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে জেল থেকে ছাড়া পান বাচ্চু। জেল থেকে বের হয়ে তিনি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নাম নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন। স্বাধীনতার সময় লুট করা কোটি টাকার সম্পদ দিয়ে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি। আগের বাহিনীর সদস্যের জমা করে শুরু হয় স্বাধীন দেশে বাচ্চুর নতুন তান্ডব। ততদিনে বিশিষ্ট মাওলানা হয়ে যাওয়া বাচ্চুর একাত্তরের কুকীর্তি প্রচার করতে যেয়ে খুন হন, ফরিপুরের যুবলীগ নেতা ছিরু মিয়া। আদালতে তার (বাচ্চু) নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জামিন পেয়ে যান তিনি। [[৭]]
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে সাংবাদিক প্রবীর সিকদার দৈনিক জনকণ্ঠে বাচ্চুসহ ফরিদপুর অঞ্চলের রাজাকারদের নিয়ে ‘তুই রাজাকার’ শীর্ষক প্রামাণ্য সিরিজ প্রতিবেদন করায় (মূল প্রতিবেদনের স্ক্যানড কপি) তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র, গুলি ও বোমা হামলা চালানো হয়। এ হামলার পেছনে তখন কুখ্যাত রাজাকার নূলা মুসা ও বাচ্চুর ইন্ধনের অভিযোগ ওঠে। চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণকারী বর্তমানে দৈনিক সমকালের সিনিয়র সহ সম্পাদক প্রবীর সিকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ বাচ্চু যে কুখ্যাত রাজাকার ছিল এটা সবাই জানেন। তার রাজাকারির প্রমাণপত্র সবই আছে। তাছাড়া আমি প্রতিবেদন করেছিলাম আট বছর আগে। সে সময়তো সে কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। এতোদিন পরে এ ধরনের দম্ভোক্তি ও বিষোদগার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান ও দেশের নাগরিক হিসাবে আমি সারাজীবন তার ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি চেয়ে যাবো।’ [[৮]]
বেসরকারী টিভি ব্যক্তিত্ব ও ইসলামের সেবক হিসেবে নিজেকে জাহির করা বাচ্চু ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ২০ শে সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে বেসরকারী এক টিভি চ্যানেলে তিনি রাজাকার ছিলেন না বলে দম্ভোক্তি করেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক প্রবীর সিকদারসহ কয়েকজন সংবাদিকের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তাদের নিয়ে কটুক্তি করেন।
এই বক্তব্য টিভিতে প্রচারিত হবার পর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খোকন এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘খাড়দিয়ার বাচ্চু এখন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সেজে টিভিতে যেসব কথা বলছে তা হাস্যকর। ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ জানেন, ৭১ সালে সে রাজাকার ছিল। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে বিলম্ব করাতে এসব মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তি এতো বড়ো বড়ো কথা বলার সাহস পাচ্ছে। এই বাচ্চু একাত্তর সালে তার নিজ এলাকা ও ফরিদপুর শহরে পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় নারীদের ধরে এনে নির্যাতন চালাতো। ফরিদপুর শহরের দুটি হিন্দু বাড়ি দখল করে সেখানে নির্যাতন ক্যাম্প বসিয়েছিল এই কুখ্যাত রাজাকার। লুটের টাকা দিয়ে সে ঢাকার মিরপুরের ২নং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি বাড়িও কিনেছে। তাকে ধরে আইনের আওতায় এনে পুরো জাতির সামনে বিচার করতে হবে। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের ব্যাপারে সে যেসব কটুক্তি করেছে তার জন্য তাকে প্রকাশ্যে নি:শর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে আমরা তার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামবো।’
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর এবং বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গন দাবী ওঠায় দেশ ছেড়ে কয়েকদিন আগে আমেরিকা চলে যান বাচ্চু। এনটিভি বাচ্চুকে বাদ দেয় তাদের অনুষ্ঠান থেকে। আমেরিকা চলে গেলেও কুকর্ম করা ছাড়েন নি মাওলানা। ২৫ জানুয়ারী২০০৯ সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মসজিদে তহবিল সংগ্রহের নামে মৌলবাদীদের তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা রাখার সময় প্রতিবাদ জানায় এবিসিডিআই সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনসমূহ। এই সময় বিক্ষোভকারীদের অশালীন ভাষায় (মা-বোনসূচক) গালাগালি করা হয়।এবং পরে প্রতিবাদী সমাবেশের উপর কুখ্যাত রাজাকার বাচ্চু ও ৭১’এর ঘাতক রাজাকার আশরাফুজ্জামানের প্ররোচনায় জনৈক মকবুল হোসেন জহির ছুরি নিয়ে হামলা করে। মুখঅবয়বে ঘুষি ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ সভাপতি এম,আর,আমিনকে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে নিউইয়র্ক পুলিশ এসে হামলাকরী জহিরকে গ্রেফতার করে এবং তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়। [[৯]] (মূল খবরের লিংকটি এখন আর কাজ করছেনা)
শেষকথা
এংলো আমেরিকান রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক থমাস পাইন যিনি তার লেখার মাধ্যমে আমেরিকান ও ফরাসী বিল্পবকে প্রভাবিত করেছেন, বাইবেল সম্পর্কে করা এক মন্তব্যে বলেন, বাইবেল এমন একটি গ্রন্থ যা পৃথিবীর অন্যান্য সকল বইয়ের চেয়ে বেশি পড়া হলেও পরীক্ষিত হয়েছে সবচেয়ে কম। মাওলানা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া শেষে আমার এই কথাটাই আবার মনে পড়লো। আসলেই আমরা একটু খোঁজ নেবার আগেই সব বিশ্বাস করে বসে থাকি, সবাইকে গুরু মানা শুরু করি। বড় বেশি বৃত্তাধীন আমরা …
২৯ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:
আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।














[মন্তব্য-লিন্ক]
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার সম্পর্কে রায়হান আবীর অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং প্রয়োজনীয় আলোচনাটি করলেন। তবে আলোচনার শেষটুকু এমন অসম্পূর্ণ কেন বুঝা গেল না! তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আবীরের কাছে কোনোই তথ্য নেই? মওলানা সাহেব তো দিব্যি এনটিভির ইসলামি অনুষ্ঠানে ওয়াজ নছিহত-দরুদ পাঠ ইত্যাদি করে বেড়াচ্ছে। এসব তথ্য প্রশাসনের লোকজন বা ক্ষণে ক্ষণে পলিটিকেল হুঙ্কারজীবী ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতাদের কাছে নেই?!
পেপারে যদ্দূর পড়েছি, তাতে তো এই হুজুরের নামে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে মামলা হওয়াতে সেই সময় গা ঢাকা দিয়েছিল। না কি? এখন তো আবার স্মার্টলি টিভিতে অনুষ্ঠান করছে। আলী যাকের-নূর বা এই ধরনের সুধীজনদের মতো একই চ্যানেলে অনুস্ঠান করার সুযোগ যে পায়, তার কি এই ব্রহ্মাণ্ডে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা?
মুক্তবাজারের মুক্তকথার যুগে আরও কত কী যে দেখব!
[মন্তব্য-লিন্ক]
কী আজিব দেখুন। আমি তো অনেকদিন টিভি দেখিনা, তাই জানতামই না আবার ফিরে এসেছেন তিনি!
আজকেই জানতে পেয়ে পরিচিত একজনকে বললাম আমাদের কিছু করার আছে কীনা, জবাবে উনি বললেন- এনটিভির কাছ থেকে আর কী আশা করো।
http://www.cadetcollegeblog.com/raihanabir/17006 এখানে বেশ আলোচনা হয়েছে, দেখতে পারেন।
[মন্তব্য-লিন্ক]
রায়হান, এই কমলা দাড়িওয়ালা লোকটা প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকের কাছে যথেষ্টই জনপ্রিয়। দেশী চ্যানেল আছে এরকম অনেকের কাছেই শুনেছি এই লোকটা নাকি ধর্ম-সংক্রান্ত প্রশ্নের ‘খুব ভাল’ উত্তর দেয়!
এই পশুটার রাজাকার কাহিনী বিশেষ করে সেকারণেই যতদূর পারা যায় প্রচার করা উচিত!
ব্যক্তিগতভাবে যাদের মুখে ঐ লোকটার গুণগান শুনেছি, তাদের এই লেখাটার লিঙ্ক পাঠানোর দায়িত্ব্ সাগ্রহেই নিলাম।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আপনাকে কী আর শুধু শুধু গুনবতী বলে? আমার খুব কাছের একজন আমার পরিনতি দেখে শেষ চেষ্টা হিসেবে একবার অন্তত হলেও মাওলানার কাছে যেতে বলেছে। কারণ উনি প্রশ্নের খুব ভালো উত্তর দিয়ে থাকেন।
তার সামনে মাওলানার আসল পরিচয় তুলে ধরাটাই এই পোস্টের টনিক হিসেবে কাজ করেছে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
হা, উনি রাজাকার ছিলেন। তো কি হয়েছে? Any problem?
পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে সম্মানিত ব্যক্তিদের ধর্ষক-দুশ্চরিত্র সাজিয়ে সমাজের আসল ধর্ষকরা গলাবাজি করে আর পার পেয়ে যায়। মোনায়েম খানের মত প্রায় আশি বছরের বৃদ্ধকেও ধর্ষক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর এই চল্লিশ বছরেও সমানতালে গলাবাজি ও মিথ্যা কুৎসা রটানো হচ্ছে। এত প্রমাণ থাকলে আদালতে যাও না কেন বপু? আদালতে উলঙ্গ হলে আর মিথ্যা গলাবাজি করে ভাত পাওয়া যাবে না সেই জন্য?
[মন্তব্য-লিন্ক]
প্রবলেম!! প্রবলেম হতে যাবে কেন?? আমি আরও ভাবছিলাম ‘রাজাকার’ নামের এরকম একটা অ-প্রবলেমেটিক, সম্মানজনক এবং মানবতাবাদী খেতাব/পদ/পদবী/ইতিহাস যে কমলা দাড়িওয়ালার আছে, সেটা জনে জনে জানানো গেলে মন্দ হতো না – এই আর কি …….
[মন্তব্য-লিন্ক]
২০০০ সালে মওলানা আবুল কালাম আজাদ ATN এ ইসলামী অনুষ্ঠান করতো, যদ্দুর মনে পড়ে জনকন্ঠে রিপোর্টিং হবার পরে তাকে ATN থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ইসলামী চিন্তাবিদদের ইতিহাস ঘাটলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খুব বেশী লোক পাওয়া যাবে না। অধ্যাপক শমসের আলী মাঝে মাঝেই ইসলামী অনুষ্ঠানে আসেন আর ইসলামের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন। নব্বই দশকের শুরুতে ‘আজকের কাগজে’ একাত্তরে তাঁর কীর্তিকলাপ নিয়ে রিপোর্টিং হয়েছিল। আশির দশকে বিটিভিতে ‘জীবনের আলো’ নামের একটা অনুষ্ঠান হতো, টলস্টয় হাদিস শরিফ পকেটে নিয়ে মারা যান, কোন মুসলিম বিজ্ঞানী প্রথম চোখে অস্ত্রপ্রচার করেন, এ জাতীয় বিষয় নিয়ে আলাপ হতো। সে অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের একাত্তরের ভুমিকা নিয়েও ‘সংবাদ’ এ রিপোর্ট হয়েছিলো।
[মন্তব্য-লিন্ক]
ভাল পর্যবেক্ষণ। কোন প্রকৃত মুসলমান কখনই ৭১ সালের তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকতে পারে না। এই জন্যই এখন পর্যন্ত মাথায় টুপি আর মুখে দাড়ি থাকলেই রাজাকার হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হয়। একমাত্র ওলামা লীগ টাইপ ভন্ডগুলোই ব্যতিক্রম। আপনাদের বুঝতে হবে মুক্তিযুদ্ধটা ইসলামের বিপক্ষ শক্তির সাথে পক্ষ শক্তির দন্ধ। এই জন্য স্বাভাবিক ভাবেই যেখানেই ইসলাম আর মুসলিম শব্দটি দেখেছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, সেখানেই তারা ঝাপিয়ে পরেছিল। যেমন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও মনোগ্রামের আরবী কিছু শব্দ, নজরুল ইসলাম কলেজের নাম পাল্টিয়ে কবি নজরুল কলেজ রাখা ইত্যাদি। অথচ নটরডেম,হলিক্রস,রামকৃষ্নতে তাদের এলার্জি নেই। মুক্তিযুদ্ধ চেতনাটা আসলে হিন্দু চেতনা। এজন্যই ভারতের হিন্দু সৈন্যদের ভাই মেনে আপন মুসলিম ভাইবোনদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলতে একটুও বাধে নি তাদের। এখনও বিপদ হলেই মুক্তিযোদ্ধারা ভারতকেই আপন মনে করে সেখানে পালায়। যেমন, হাজারি, কাদের সিদ্দিকি প্রমূখ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
মুখে দাড়ি ভালো মানুষদেরই থাকে। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানীরও দাড়ি ছিল, যেমন ধরুন ডারউইনেরও ছিল। বিখ্যাত রাজনীতিকদেরও দাড়ি ছিল। যেমন, দেখবেন আব্রাহাম লিংকন কিংবা মার্কস ও লেনিনেরও দাড়ি ছিল। দাড়ি ছিল রাজনীতিক আবুল কালাম আজাদের, তর্কবাগিশের। বিখ্যাত সাহিত্যিক ও গায়কদেরও দাড়ি ছিল। যেমন, দেখুন রবীন্দ্রনাথ আর লালনেরও দাড়ি ছিল। টুপিও ধর্মনির্বিশেষে অনেকেই পরে থাকেন, নেহেরু টুপির কথাও সবাই জানেন। দাড়ি ছিল আল বেরুনীর, ইবনে সিনার; কিন্তু ধর্মবাজদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছে তাদের। আবার সমাজে অসংখ্য হিন্দু মুসলিম সাধারণ ভালো মানুষ আছেন, যাদের দাড়ি আছে। যারা টুপি পরেন।
সে কারণেই আমাদের রাজাকারদের ওই দাড়িতে আপত্তি। টুপিতে আপত্তি। ভণ্ডদের, শয়তানদের ওই দাড়ি আর টুপি দেখলে আমাদের তা ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে।
বাচ্চু রাজাকারের মতো মানুষের দাড়ি আর টুপির জন্যে যে-মানুষের এত দরদ সে-মানুষ যে মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দুদের চেতনা বলবে এতে আর সন্দেহ কি!
[মন্তব্য-লিন্ক]
আমাকে অধ্যাপক শমসের আলী’র রাজাকারিত্ব সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন? আজকের কাগজের রিপোর্টটা পেলে সবচেয়ে ভালো হয়। প্লিজ?
[মন্তব্য-লিন্ক]
আমি তো এখন দেশের বাইরে, অতো পুরনো সংখ্যা অনলাইনে পাওয়া যাবে না। অধ্যাপক শমসের আলী একাত্তরে আনবিক শক্তি কমিশনে ছিলেন। রিপোর্টটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর ব্যাপারে তাঁর কিছু কর্মকান্ড নিয়ে। শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ডঃ ওয়াজেদ আলী তাঁর কর্মকান্ডের শিকার ছিলেন। রিপোর্টটি দেখার পরপর এই নিয়ে শমসের আলীর এক আত্মীয়কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সেই আত্মীয় অবশ্য সবকিছু খুব জোরের সাথে অস্বীকার করেছিলেন। বরং একাত্তরে শমসের আলী কি কি হয়রানীর শিকার হয়েছিলেন তার ফিরিস্তি দিলেন। অধ্যাপক শমসের আলী একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি, তাঁর সম্পর্কে জানেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। তিনি কয়েক মাস আগেই তো প্রথম আলোর গোল টেবিলে এসে সবাইকে বিস্তর জ্ঞান দিয়ে গেলেন।
[মন্তব্য-লিন্ক]
অধ্যাপক শমসের আলী ইসলাম ও বিজ্ঞান এই ধরনের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন টিভি মিডিয়ায় প্রচুর অনুষ্ঠান করছেন, যার সবগুলিই স্ব-ব্যাখ্যায় ভরপুর। এখানে আমার দীর্ঘদিনের একটা ইচ্ছার কথা জানাচ্ছি — ঐ ভদ্রলোকের অনুষ্ঠানটি ক্লোজলি অবজার্ভ করে কেউ যদি একটি প্রকৃত বিজ্ঞান ও ইসলাম সম্পর্কে একটি লেখা দিতেন, তাহলে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা সহকারে ছোটকাগজ ‘কথা’-র ৬ষ্ঠ সংখ্যায় তা ছাপানোর আয়োজন করতাম। মাস দুয়েকের ভিতর লেখাটি দিতে পারলেই হবে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
রায়হান আবীর
তথ্যঋদ্ধ, সুসংবদ্ধ ও চেতনাসঞ্চারী এই লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খোঁজখবর নিলে আমাদের দেশে এরকম বহু মুখোশধারী মাওলানা পাওয়া যাবে, যারা বহাল তবিয়তে আছে।
আমার আত্মীয়কুল ও পরিচিতজনদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠই এখনও মনেপ্রাণে পাকিস্তানপন্থী — যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে তারা, যারা দেখেনি তারাও; সম্ভবত পাকিস্তান ও ইসলামকে তারা সমার্থক মনে করে, যদিও ব্যক্তি হিশেবে তাদের অনেকেই অত্যন্ত সজ্জন ও উপকারী। তারা সাঈদীর ওয়াজ শোনে সোৎসাহে, হয়তো আজাদের ‘ভাল উত্তর’-এরও ভক্ত হয়ে উঠেছে এখন। তাদের সবাইকেই লেখাটির লিঙ্ক পাঠাব ঠিক করেছি, কিন্তু কারও ঘরেই তো মাকড়শার জাল নেই; উপরন্তু অনেক অভিভাবক সাইবার ক্যাফেকে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ভেবে আতঙ্কিত!
[মন্তব্য-লিন্ক]
বিষয়টা তো কেবল ধর্ম সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়া নয়। বাচ্চু রাজাকার তো নিজের ১৯৭১ এ কৃত অপকর্মের কথা বলেন না। বলেন কোরান হাদিসের কথা। কোরান হাদিস সংক্রান্ত তার বক্তব্য নিয়ে তো কেউ তার বিরোধিতা করছে না। কিন্তু কার কাছ থেকে আমরা ধর্মীয় উপদেশ নিচ্ছি সেটাও ভাবা দরকার। সবার জানা দরকার – আজকের এই সব কোরান হাদিসের পেছনে লুকানো কিছু কিছু (কমলা দাড়িওয়ালা) মানুষের ১৯৭১ এ আসলে কি ভূমিকা ছিল। কোন্ কোরাণ হাদিসের নির্দেশের বলে “বাচ্চু রাজাকার” তার এলাকায় একাধিক নারীকে নিজে ধর্ষণ করেছিল, সেই জবাব আমরা চাই। কোন ধর্মীয় নির্দেশবলে তার এলাকার সাধারণ মানুষদের হত্যাকারী পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিতো সে, সেটাও আমরা জানতে চাই। ছোটো শিশুও তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। অন্যায় করলে তার দায় তো স্বীকার করতেই হবে। হয় শাস্তি পেতে হবে কৃত অপরাধের জন্য, নয় হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে দেশবাসীর কাছে। দেশবাসী যদি তাকে ক্ষমা করে, তবেই তার মুক্তি। সেটা যত দিন না হয়, তত দিন এই হত্যাকারী ধর্ষণকারীকে আমাদের চেনা দরকার, যে এখনো তার কৃতকর্মের মূল্য পরিশোধ করেনি। এখন দাড়িতে কমলা রং লাগিয়ে টিভি পর্দার সামনে ভাল মানুষ সাজার চেষ্টা করলে তো হবে না। কোরান-হাদিস-ধর্মের পেছনে লুকানোর চেষ্টা করলে তো হবে না।
[মন্তব্য-লিন্ক]
@ টিপু সুলতান,
তাই? তাহলে বলতে চাচ্ছেন হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ, শিশু হত্যা যেগুলো আপনার রাজাকার-আলবদর বন্ধুরা করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হয়ে – সেগুলো ইসলামের নির্দেশ মতেই করা হয়েছিল? এই তাহলে ‘প্রকৃত মুসলমান’ এর কাজ? ভাল বলেছেন। আপনার মতো ইসলামের এমন ‘বন্ধু’ থাকতে তার আর শত্রুর দরকার হবে না। বেশী বেশী করে বলতে থাকুন এসব। বিশ্ববাসী জানুক ইসলাম কি আর আপনারা কি! তারা জানুক সুযোগ পেলে ইসলামের নামে আল্লাহ রসূলকে উদ্ধার করতে আপনারা যে ধর্ষণ গণহত্যা করা থেকেও পিছপা হন না। আপনাদের চেনা থাকা জরুরী।
হযরত মুহাম্মদ বলেছিলেন:
‘শেষ জমানায় এমন সব মানুষ আসবে ইসলামকে ব্যবহার করতে যাদের মুখে থাকবে ধর্মের কথা, কিন্তু যারা হবে পশুর মত হিংস্র।’ (হুবহু উদ্ধৃতিটা মনে পড়ছে না, কিন্তু মূল বক্তব্য এটাই)। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, মুহাম্মদ সত্যিই ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ছিলেন।
[মন্তব্য-লিন্ক]
I am not giving any comment related to the subject of the blog. Just wanted to correct some of the comments of Mr. Rashid. Mr. Rashid, “Do you belive in Islam? If you do then please use (S.A.W: Sallallahu Alaihi Wasallam) after his name. He is our beloved Prophet and we should honor him whenever we mention his name. And also you mentioned about the Prophet (S.A.W) can see the future, well that’s not our Prophet’s (S.A.W) saying, he quoted the words from Allah himself. Allah knows what would happen in the future. So, please don’t call Prophet (S.A.W) a fortune teller.”
[মন্তব্য-লিন্ক]
@ এনায়েত করিম,
সেটা ঠিক কিভাবে প্রাসঙ্গিক এখানে? ধর্ম বিশ্বাসের (কিংবা অবিশ্বাসের) মতো ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন/নসিহত করতে যাওয়াটাও যে রীতিমত অভব্যতার পর্যায়ে পড়ে, আজকাল প্রায়ই দেখা যায় কিছু আপাত শিক্ষিত মানুষ তা খুব সহজেই বিস্মৃত হচ্ছেন।
একটি অবান্তর বিষয়েরও অবতারণা করেছেন আপনি, যেমনটি আমাদের দেশের মোল্লারাও হরদম করে থাকে। ইসলাম ধর্মে “বিশ্বাস” (ঈমান) এর মূল স্তম্ভগুলো আমরা সবাই খুব ভালভাবেই জানি। সেখানে কোথায় বর্ণিত আছে এই “বিশ্বাস” এর সাথে মুহাম্মদের নামের শেষে “সাঃ” যুক্ত করা সমার্থক বা সমান বাধ্যতামূলক? এই বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ধর্মীয় রেফারেন্স দিতে পারেন কি?
নিজের ধর্ম বিশ্বাস, জীবনরীতি নিজের মধ্যে রাখার চেষ্টা করাটাই মঙ্গলজনক। কারণ, তা না করলেই আফগানিস্তান ঘটে, টুইন টাওয়ার ঘটে, শায়খ রহমান ঘটে। যা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তা অন্যের কাছে কোন ধরণের গুরুত্ব বহন নাও করতে পারে, মনে রাখবেন দয়া করে। এই যেমন ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের মতো খুনী, ধর্ষক, শিশু হন্তারক, বুদ্ধিজীবি হন্তারকদের (সবই কিন্তু ধর্মের নামে ‘পাক-পবিত্র’ ‘ইসলামী পাকিস্তান’ রক্ষার নামে!!) অপকর্ম এবং বিচার নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আপনার কাছে কেবল মুহম্মদ এর নামোচ্চারণটুকুই আলোচনাযোগ্য মনে হল!! কেন? আপনার কি যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কিছুই যুক্ত করার নেই? নাকি আপনার বিচারে যুদ্ধাপরাধীদের সব অপকর্ম ‘ক্ষমাযোগ্য’ কারণ তাদের কেউ কেউ (যেমন: মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে ‘বাচ্চু রাজাকার’) আজকাল দাড়িতে মেহেদী মাখেন, মুহম্মদ এর নামের শেষে “সাঃ” বলেন, আর সেজদা দিয়ে কপাল ফাটিয়ে ফেলেন?
দয়া করে আলোচনার মূল বিষয় ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার’ নিয়ে কিছু বলার থাকলে বলুন। আমরা সেটা শুনতে চাই আপনার কাছ থেকে। আর দয়া করে বাংলা হরফে মন্তব্য করুন। এই হরফ অর্জনের জন্য আমাদের কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি।
[মন্তব্য-লিন্ক]
I think and know that all are correct but the nations of Bangali forget and forgive everythink.
How can we be a pure human?
[মন্তব্য-লিন্ক]
Dear admin,
can we please keep the likes of “Tipu Sultan” out of this space atleast. Haven’t they infiltrated everywhere, already?
[মন্তব্য-লিন্ক]
এই পোস্ট বিষয়ে সিসিবি-তে আলোচনা।
[মন্তব্য-লিন্ক]
এই রাজাকারদের on the SPOT প্রতিহত করতে হবে, আমরা করেছি সরকারি বাঙলা কলেজে – আরো তথ্যর জন্য দেখুন http://www.banglacollege.com
[মন্তব্য-লিন্ক]
ধন্যবাদ, কুয়াশা। একটা দৃষ্টান্ত হয়ে রইল আপনাদের এই উদ্যোগ।
অসংখ্য ধন্যবাদ রায়হান আবীরকেও।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আমার একটি ছোট্ট অনুরোধ লেখকের কাছে, লেখার শিরোনামটা কি একটু পরিবর্তন করে দেয়া যায় — যুদ্ধাপরাধীনামা : রাজাকার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ । মাওলানা শব্দটি আমাদের কাছে সবিশেষ শ্রদ্ধার, খুব বেশি সম্ভবত মাওলানা ভাসানী ও ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এর লেখক মাওলানা আবুল কালাম আজাদের জন্যই। এভাবে আমাদের সমাজের আরো অনেক নামের সাথে সাদৃশ্য অবশ্যই থাকবে যে কোনো রাজাকারের, কারণ আমরা তো একই সমাজের মানুষ, কিন্তু কোনো রাজাকার সম্বন্ধে লিখতে আমরা অবশ্যই তার নামের আগে লিখব ‘রাজাকার’ ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
রায়হান, কতো পরিশ্রম করেছো তুমি এ লেখাটি তৈরী করতে। লাল সেলাম তোমাকে সেজন্য। “ঘটনার অন্তরালে” জানতে নতুন প্রজন্ম এ ধরনের লেখা থেকে অশেষ উপকৃত হবে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
ভাল লেখা।
@ টিপু সুলতান ও Enayet Karim
বলো হরি হরি বল তীর্থে যাবো…বিভেদের মন্ত্রে স্বর্গ পাবো…লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ…মানুষ তোর বানী মাশাল্লাহ!!!
মাথায় টুপি লাগাইলে অসুবিধা নাই। কিন্তু মগজে টুপি লাগাইলে অসুবিধা হইয়া যায়। মানুষরুপী হইয়া মানুষ শব্দরে অপমান করা হয়। মানুষের মগজের ক্ষমতা কিরুপ সেটা খোদ ইসলামের সর্বশেষ নবীর কথা চিন্তা করলেই বোঝা যায়। তিনি মাথায় টুপি (পাগরী) লাগাইয়া মগজে টুপি লাগাইলে ইসলাম ধর্মের অবতারন হইতনা পৃ্থিবীতে!
এই বাচ্চু রাজাকারের ন্যায় তার বর্তমান অনুসারীরা যারা এই ****র জন্য গীত গায় ধর্মের দোহাই দিয়া তারা নব্য রাজাকার! নব্য ******!!
@ প্রিয় এডমিন
আমি দুঃখ প্রকাশ করছি আপত্তিকর শব্দের ব্যবহারের জন্য। যেখানে রাষ্ট্র বিফল, সেখানে এই রাজাকার শব্দের সাথে দু’একটা গালী জুড়ে দেয়া ছারা আমার আর কিছু করার থাকেনা।
[মন্তব্য-লিন্ক]
[...] * মুক্তাঙ্গন নির্মান ব্লগের লিংক Posted in যুদ্ধাপরাধTags: বাচ্চু রাজাকার, ভন্ডামি, যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার [...]
[মন্তব্য-লিন্ক]
এ বছরের প্রথম দিকে বাচ্চু রাজাকার বলে খ্যাত আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে তার সমর্থকদের হামলায় নিউইয়কর্ আহত হলেন এক মুক্তিযোদ্ধা: বাকীটা পড়ুন এখানে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
আজ টুইটারে লিখেছি। এই যে ইংরেজিতে আমরা হরহামেশা বলি ‘past is past’ বাংলায় আমরা বলি ‘যা হবার তা তো হয়েছে, এখন আর ভেবে কী হবে’, গণহত্যার বিষয়ে, রাজাকারের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এমন কথা চলতে পারে না, এই আঘাত কখনো ভুলবার নয়, প্রতিশোধই এখানে একমাত্র প্রতিরোধ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
এই দুরাছারের বিরুদ্ধে আমার মৃত মেয়ের ছদকা জারিয়ার ২০ লক্ষ টাকা আ্ত্মসাতের একটি মামলা ঢাকায় চলছে । বিস্তারিত পরে লিখব।