শেষ পর্যন্ত আমরা কোন রাষ্ট্রের নাগরিক
রাষ্ট্র থেকে গণতন্ত্র উবে গেলে রাষ্ট্র আপনাআপনি একটা ভিন্ন রূপ গ্রহণ করে। এই একবিংশ শতকেও সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা রাজতন্ত্র হয়ে যেতে পারে। হয়ে যেতে পারে সামরিক একনায়কতন্ত্র অথবা সামরিক আর সিভিল ব্যুরোক্র্যাসির মিশেলে আমলা নির্ভর রাষ্ট্র, শেষ বিচারে যা পুলিশি রাষ্ট্র। কেননা আমলারাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি পুলিশ। আমলা রাষ্ট্রের সাংঘাতিক সব আইনকানুন প্রয়োগ করতে হয় পুলিশকে। পুলিশই হয়ে ওঠে রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র নিয়ামক।
১১ জানুয়ারির পর বলা হচ্ছে বিগত সরকার ব্যর্থ। তারও আগের সরকার ব্যর্থ। অর্থাৎ ওই দুই সরকারের পারিচালনাধীন রাষ্ট্র দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট, অনিয়ম আর সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়ে উঠেছিল। ১১ জানুয়ারির পর সেই ব্যর্থ রাষ্ট্র এখন সুনীতি আর সুসময়ের দিকে ধাবমান। ‘সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে’ সেই রাষ্ট্রের বিগত দুই সরকার প্রধানের কালিমালিপ্ত চরিত্র জনসম্মুক্ষে উন্মোচন করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারের হয়ে কাজটি পরিচালনা করছে পুলিশ। পুলিশের সেই ‘স্বাধীন’ কাজকে সরকার নিজেদের হস্তক্ষেপ বলে মানতে চাইছে না। সরকার এ ক্ষেত্রে সার্জজনীন ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছে : ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে/চলছে’। এ থেকে মনে হবে পুলিশ যে যে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে তা কেবলই পুলিশের নিজস্ব স্বাধীন চিন্তা থেকে নেওয়া। তার মানে পুলিশ সরকারের কেউ নয়। অথচ পুলিশ বিগত দুই সরকারের বড়ো বড়ো নেতানেত্রীদের গ্রেপ্তার করছে সরাসরি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে এবং সেই নেতানেত্রীদের গ্রেপ্তারের পরপরই সরকারের একাধিক উপদেষ্টা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তখন বলা হচ্ছে না যে ‘আমরা কিছুই জানি না’। কিন্তু যখন গ্রেপ্তারকালীন বা গ্রেপ্তার পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে তখনই সরকারের একাধিক উপদেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যাপারটা পুলিশের এবং দেশের আইনের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এবং ‘আইন সবার জন্য সমান’ বলে ইতি টানছেন। ধন্যবাদ দুজন বিচারপতি সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চকে। শেখ হাসিনার জামিনের জন্য দায়েরকৃত রিট শুনানির সময়ে ‘আইন সবার জন্য সমান’ এই মুখস্থ কথাটা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলায় বিচারপতি বলেছেন ‘না সবক্ষেত্রে সমান তা মনে হয় না। আপনি চুরি করলে জেলে ডিভিশন পাবেন, কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক তা পাবেন না, তাকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হবে’ (সমকাল, ৩১ জুলাই, ২০০৭)।
যেহেতু ১১ জানুয়ারির পর জরুরি অবস্থা চলছে, তাই এটা কোনো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, রাজতন্ত্র নয়, প্রাচীন ট্রাইবাল সমাজও নয়। এটা অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক চালিত রাষ্ট্র। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো গণপ্রতিনিধি নেই। তার নির্দেশ-আইন বাস্তবায়িত হয় সরকারি আমলা দ্বারা। আমলারা আইন, নির্দেশ, হুকুম-ধমক, বল প্রয়োগ সবই যেহেতু পুলিশ দিয়ে করেন, সেহেতু এটা এক অর্থে ‘পুলিশী রাষ্ট্র’। আর সে কারণে পুলিশকে খুব বড়ো গলা করে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হচ্ছে। এই ঢেলে সাজানোর কাজে যে পরিমাণ টাকা-পয়সা লাগবে তাও প্রায় মুফতে পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ইত্যকার সংস্থাগুলো পুলিশ বিভাগ সংস্কারের টাকার জোগান দেবে (এ এক ভারি মজার লেনদেন! ওরা দেশের ছিন্নমূল মানুষগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের বাবদ কোনো অনুদান দেয় না, বরং পুলিশ দিয়ে সেই ছিন্নমূলদের ঝুপড়ি ঘর ভাঙার কাজে সাহায্য দেয়! পুলিশকে জনগণের বন্ধু হওয়ার সোনার পাথরবাটি মার্কা কর্মাকণ্ডে টাকা দেয়!)।
১১ জানুয়ারির পর আমরা অনেক ভালো ভালো কথা, মহান সব প্রতিশ্র“তি শুনেছি। অনেক ‘পদক্ষেপ’, অনেক ‘ব্যবস্থা’, অনেক ‘পরিকল্পনা’, অনেক ‘কঠোর সিদ্ধান্তের’ কথা শুনেছি। সত্যিকার অর্থে শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে কিছু বড়োমাপের নেতানেত্রী আর ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পোরা। সরকারকে অনেক প্রতিশ্র“তি থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে হয়েছে। এবং সরে এসে সরকারের উপদেষ্টারা, আমলারা, বড়ো কর্তারা সেই সব শব্দযোগে সেই সব ব্যাখ্যাই দিয়েছেন, যা বিগত ব্যর্থ সরকারের মন্ত্রী-নেতারা দিতেন। দেশের নিু আর মধ্যম আয়ের মানুষ দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে দিশেহারা, জর্জরিত। কোথাও কোথাও পেটের জ্বালা জুড়োতে অসহায় গরিম মানুষ আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে। সেই নির্বিচারে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাওয়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেছেনÑ ‘মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বাড়ার কারণে পণ্যের মূল্য বেড়েছে’ (ভোরের কাগজ, ২৭ জুলাই, ২০০৭)!
এই কথাটা হাজার বার বলেছেন ‘ব্যর্থ সরকারের’ অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান। দিশেহারা মানুষ যখন ২২ টাকার আটা ৩১ টাকায়, ১৮ টাকার চাল ২৮ টাকায়, ৫২ টাকার সয়াবিন তেল ৮০ টাকায় ৪৮ টাকার ডাল ৮০ টাকায় বাধ্য হয়ে কিনে জীবন বাঁচায়, তা দেখে যদি একজন দায়িত্বশীল মানুষ ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার আর আয় বাড়ার দৃষ্টান্ত খুঁজে পান তাহলে সত্য প্রমাণের জন্য এখন মানুষকে ধারদেনা করে, ঘটিবাটি বেঁচে ওই সকল খাদ্য না কিনে অনাহারে মরতে হবে।
যেহেতু এটা এখন কার্যত ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ তাই ভূখা মরার আগে ভুখা মিছিল হচ্ছে না। বিদ্যুতের অভাবে লণ্ঠন মিছিল হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য মানব বন্ধন হচ্ছে না যেহেতু মানুষ সবই সয়ে নিচ্ছে, যেহেতু কোনো প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই, সেহেতু রাষ্ট্রের পরিচালকরা ধরে নিচ্ছেন সবই ঠিকঠাক আছে! কোথাও কোনো অভাব নেই! বানভাসি কেউ না খেয়ে নেই! খালিশপুরের শ্রমিকরা সর্বস্বান্ত বেকার হয়ে সুখে ঘুম দিচ্ছে! বস্তি ভাঙা হাজার হাজার মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে খিঁচুড়ি-ভাঁপা ইলিশ দিয়ে মজা করছে! বাজারে গেলে যা চাই তা যেকোনো মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং ‘সংশোধিত পুলিশ’ থাকায় ন্যায় ও আইনের শাসনে মানুষ সুখে নিদ্রা যাচ্ছে! পুলিশের আইজিপি সাহেব প্রায়শঃই মিডিয়াতে হাত-পা নেড়ে দেখাচ্ছেন যে, আগে তার ডানে-বামে রাজনৈতিক খবরদারি ছিল, পুলিশ তাই ভুলপথে চালিত হতো। এখন ডানে-বামে, সামনে-পিছে কোনো রাজনৈতিক খবরদারি নেই, তাই পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দেশসেবা করছে! তিনি তার কথা বরেছেন। রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র পরিস্তিতি সেইমতো বলবে। পরিস্থিতি হলো জরুরি অবস্থার সুযোগে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। পুলিশকে দিয়ে যখন রাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক, নিবর্তনমূলক কর্মকাণ্ড করানো হচ্ছে, তারও কোনো জবাবদিহিতা থাকছে না। কেন পুলিশ খালিশপুরের লঙ্গরখানা ভেঙে দিলো, কেন খাবার বিতরণকারীদের দাবড়ে খেদালো, কেন অসহায় অভুক্ত মানুষদের খাবার জোগান বন্ধ করে দিলো তার ব্যাখ্যা নেই। আসামি ধরতে গিয়ে কেন তার বৃদ্ধ বাবাকে পুলিশ লাথি দিয়ে মেরে ফেললো? যদিও ২৮ জুলাই দৈনিক সমকালে ‘বরিশালে পুলিশের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ’ খবরের প্রতিবাদ করেছেন বরিশালের পুলিশ সুপার। যথারীতি তিনি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘হেলালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার পর অজ্ঞাত কারণে তার বাবা এসকেন্দার সর্দারের মৃত্যু হয়’। আর প্রতিবেদকের ভাষ্য- ওই সংবাদ এসকেন্দার সর্দারের পুত্রবধূ পারভিন আক্তারসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী প্রকাশিত হয়। কেন জয়পুরহাটে থানাহাজতে আঃ সামাদকে আত্মহত্যা করতে হল? কেন ওই থানার এসআই আমিনুল ইসলাম ও কনস্টেবল এমদাদ আলীকে ‘ক্লোজ’ করা হলো? ব্যাখ্যা নেই। বদলে যাওয়া পুলিশের এমন সুখ্যাতি শুধু এটুকুই নয়। প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে। সবটুকু খবরে আসে না।
আমরা কার্যত ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ বসবাস করছি, এটা মানতে দেশের সাধারণ মানুষের বাধা নেই, কারণ তারা নমুনাগুলো উপলব্ধি করছে, বিশেষ করে খুলনার খালিশপুরের ১৪ হাজার শ্রমিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজার হাজার কৃষক, বরগুনায় সারের জন্য পুলিশের বাড়ি খাওয়া শত শত চাষা আর প্রতিদিন ফুটপাথের হাজার হাজার লাঠিপেটা হওয়া হকাররা শরীরের ব্যথা নিয়েই বুঝছেন। পুলিশ দিয়ে সরকার তার সমস্ত সিদ্ধান্ত, বিরুদ্ধমত দমনকরণ, আইন প্রয়োগ, জেলখানা ভরে ফেলা, সাধারণ গরিবদের দাবড়ে দুবড়ে ‘সোজা’করণ করতে পারবেন হয়তো। কিন্তু দেশের সর্বত্র খাদ্যের হাহাকার; এবং সেই হাহাকার পরবর্তী পরিস্থিতিও কী পুলিশ দিয়ে নিরাময় সম্ভব?
১৫ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:
আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।














[মন্তব্য-লিন্ক]
গত দুই সরকারের সময় দেশ থেকে গণতন্ত্র বিলুপ্তপ্রায় হয়ে গিয়েছিল, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে অনেকাংশে বিলুপ্ত করে দিতে সক্ষম হয়েছেন। মাসের পর মাস জরুরি অবস্থা জারি করে রেখে তারা জনগণকে কোন গণতন্ত্র শেখাচ্ছেন? সরকারসংশ্লিষ্টরা হাবভাবে যে গণতন্ত্রের কলা দেখাচ্ছেন, সে গণতন্ত্র আর আসল গণতন্ত্রে অনেক ফারাক।
গণতন্ত্রের শেষ মড়াটা সামনে নিয়ে আমরা এখন নির্বাচনের প্রহর গুণছি। নির্বাচন যেন ওঝা! কিন্তু ওঝা কবে কোন বিষাক্ত সাপেকাটা বিষজর্জর মুমূর্ষু রোগী ভালো করতে পেরেছে?
[মন্তব্য-লিন্ক]
লেখাটা এক বছরের পুরোনো। ‘ইউনিজয়’ অনভ্যস্থতায় আপডেটেড করা গেলনা। ইতিমধ্যে সরকার আরো নিখুঁতভাবে অত্যাচার চালানোর জন্য আরো অনেক ‘টচার্রটুলস’ বানিয়েছে। পরে সেগুলো সংয়যুক্ত করার ইচ্ছা আছে। সকলকে ধন্যবাদ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
‘পুলিশী রাষ্ট্র’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার এ তৎপরতায় গত দেড় বছরে বাংলাদেশের মানুষ যা যা পেয়েছে:
১) দেশের ইন্টারনেট গেটওয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এবং সে অনুযায়ী কারিগরি পদক্ষেপ;
২) আই এস পি-গুলোর সরকারের কাছে ব্যবহারকারীদের গোপনীয় তথ্য প্রদান সংক্রান্ত বিধিমালা;
৩) টেলিফোনে আড়িপাতা সংক্রান্ত বিধান;
৪) ভোটার আই ডি কার্ডের প্রোজেক্টের আওতায় সারা দেশের মানুষের সব ব্যক্তিগত তথ্য (আঙ্গুলের ছাপ, ধর্মবিষয়ক তথ্য, পরিচয়, ঠিকানা) এক ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে আসা, যা ব্যবহার করে দেশের মানুষের প্রাইভেসী ও নাগরিক অধিকার লংঘন আরও সহজতর হবে;
৫) সংবাদপত্র ও মিডিয়ার লাশ;
৬) সর্ব স্তরে বিরাজনীতিকরণ;
৭) কর্পোরেট ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠালাভ (যা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই);
৮) সেনা জেনারেলদের কাছ থেকে “গণতন্ত্রের” পাঠ;
৯) গণতান্ত্রিক বিভিন্ন ইস্যুতে বিবেকবান যে সব মানুষেরা আগে সোচ্চার হতেন তাদের অকস্মাৎ রংবদল/দলবদল এবং গ্রহণযোগ্যতা নাশ;
১০) জনমনে (একটা উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে অন্তত) RAB এর মতো খুনে বাহিনীর প্রতি ইতিবাচক ধারণা।
আর কি কি যোগ করা যেতে পারে এর সাথে?
[মন্তব্য-লিন্ক]
আপনার সংযোজন ভাললাগল।আগামীকাল এ নিয়ে কথা হবে।আজ আর সময় হচ্ছেনা।
[মন্তব্য-লিন্ক]
@মনজুরাউলঃ এই লিখাটির জন্য অভিনন্দন জানবেন। এক বছর আগে যে দুঃখ বোধ ও চেতনা থেকে এই লিখাটি দাঁড় করিয়েছিলেন সেই চেতনার জায়গায় বেশীরভাগ রাজনৈতিক দল তখন ও পৌঁছুতে পারেনি। দুঃখের বিষয় হল, আজ ও এই চেতনা অনেকের মধ্যেই জাগে নি। এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের ঘোর কাটেনি।
এখনো অনেকেই মনে করেন এই স্বৈর-সরকার গনতন্ত্র গাছ থেকে পেড়ে দেবে। তার জন্য নাকি কিছুদিন ধৈর্য ধরা আমাদের জরুরী ছিল। জনগনকে বিভ্রান্ত করার মূল কাজটি করেছেন এবার আমাদের সুশীল সমাজের কিছু বিপথগামী বৃদ্ধ নেতৃত্ব। এরা এই কাজটি করতে পেরেছেন, ভাল ভাবেই, কারন অতীতে গনতান্ত্রিক আন্দোলন গুলোতে এনাদের অনেকেই দারুনভাবে যুক্ত ছিলেন, মানুষ এঁদের নিজের চাইতেও বেশী বিশ্বাস করতেন, ফলে, এঁদের প্রায় বেদ বাক্যসম কথা বিনা সন্দেহে জনগন গ্রহন করেছিল। কিন্ত এবার গনতন্ত্র কে জবাই করার জন্য ও সামরিক স্বার্থের দালালি করার উদ্দ্যেশ্যে এরা মানুষ কে সচেতন ভাবে বিভ্রান্ত করা শুরু করেছিল, ভাগ্যিস এদেশের মাটি স্বৈর-শাসন সয় না, সেজন্য দেখেছি গেল আগষ্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্বলে উঠল, খুলনার শ্রমিক-জনতা মারমুখো হয়ে উঠল এবং ফুঁসে উঠল আমজনতা ধীরে ধীরে।
নির্বাচন নিয়ে টাল বাহানা শুরু হয়েছে। একটা অনুগত পার্লামেন্ট ম্যানেজ করার পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। দুই বড় দলের অনেকেই দালালির পথ বেছে নিতে পারে। ছোট দল গুলোর বিভ্রান্তিই কাটছে না। আমার ভরসা জনগনের উপর। মনে হয় নিরীহ এরা, কিন্ত এরাই শেষ মেশ সব জ্বলে পুড়ে ছাড়খার করে দেবে।
স্বৈর-সামরিক তন্ত্র যে বেশেই আসুক চিনে নিতে পেরেছে তারা,পারবে তারা। এদেশে স্বৈর-তন্ত্রের স্থান নেই।
[মন্তব্য-লিন্ক]
প্রিয় সৈকত আচার্য,
আপনার এই চমৎকার মন্তব্যের জন্য আলাদা একটা পোস্ট লেখা দরকার।আজ আর পারলাম না ভাই, তাই আগের লেখাটা খানিকটা আপডেট করে এমন একটা লেখা দিনকতক আগে লিখেছিলাম, সেটাই তুলে দিলাম।
…………….জরুরি অবস্থায় মানুষ খাচ্ছেদাচ্ছে, চলছে ফিরছে,বিদেশের সাথে চুক্তিটুক্তি হচ্ছে,যথাযথ প্রোটোকল মেনে রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা বিদেশ সফর করছেন,বিদেশ থেকে টাকাকড়ি আসছে,মানুষ খুন হচ্ছে,মানুষ জন্মাচ্ছে,নেতা-নেত্রীরা জেলে ঢুকছেন-বেরুচ্ছেন । অর্থাৎ সবই হচ্ছে জরুরি অবস্থার ভেতরে। জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার জন্য যে যতই চাপ দিক না কেন জরুরি অবস্থা উঠছে না। এটাই বাস্তবতা। সুতরাং জরুরি অবস্থায় নির্বাচন হতে বাঁধা কোথায়? আমরা সকলেই জানি শেষমেশ জরুরি অবস্থায়ই নির্বাচন হবে।যদিও রাজনৈতিক দলগুলো জরুরি অবস্থায় নির্বাচন করব না বলে আইগুই করে আসছে,কিন্তু এটা ঠিক যে সরকার জরুরি অবস্থা তোলার বিষয়ে কোন চিন্তাই করছে না।তবে এখন পর্যন্ত কোন দায়িত্বশীল মহল এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি, যেটা দিয়ে দিলেন অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ।তিনি বলেছেন ”জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচনে বাধা নেই।১৯৬৯ সালেও মার্শাল ল’র মধ্য নির্বাচন হয়েছিল। সে নির্বাচনের মত অবাধ,সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আজ পর্যন্ত দেশে অনুষ্ঠিত হয়নি(ভোরের কাগজ,১১জুলাই,২০০৮)যেদিন তিনি এটা বললেন তার পর দিনই তিনি আবার বললেন-আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে হবে।
অদ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআএবি) চেয়ারম্যান। দেশের গুরুত্বপূর্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ন কথাবার্তা ও তিনি বলেন। সারা দেশের দুর্নীতি নিয়ে বড় বড় রিপোর্টও তিনি দেন।দেশের নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্তও তিনি দিয়ে থাকেন।যেহেতু তার কথা মানে ওজনদার কথা তাই সরকার তার কথা ফেলতে পাবে বলে মনে হয় না।সুতরাং রাজনীতিবিদরা যে যাই বলুক না কেন ,অধ্যাপক সাহেবদের কথা মত নির্বাচন হচ্ছে (যদি হয়) জরুরি অবস্থার মধ্যেই।
তিনি যেহেতু জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন হওয়াতে চাইছেন,এবং যেহেতু জরুরি অবস্থার অপর নাম মার্শাল ল’ সেহেতু তার ধারণা এই নির্বাচনও সেই ১৯৬৯ সালের নির্বাচনের মত সুষ্ঠু আর অবাধ হতে চলেছে! কেন তিনি ১৯৬৯ সালের ইয়াহিয়ার মার্শাল ল’র সময়ের সাথে বর্তমান জরুরি অবস্থার তুলনা করলেন সেটা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। সে জন্য তাকে আমরা ’গড়বুদ্ধির’ বা একপেশে বলতে পারিনা । সরকারের সঙ্গে সঙ্গে থেকে সুর তুললে সেটা এরকমই শোনায়। যেহেতু তিনি জরুরি অবস্থাকে নির্বাচনের কোন রকম অন্তরায় মনে করছেন না সেহেতু নির্বাচন নিয়ে তার যে আকাংখা সেগুলোরও কোন উপযোগিতা থাকছে না। তিনি ওই ধরণের নির্বাচনে মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধের সরকার,অপশাসন দূর করা, সাধারণের প্রতি দরদ, সৎ প্রর্থী নির্বাচনৃ.. বিষয়গুলো তুলে আনতে চাইছেন! যা নিতান্তই অবান্তর। যদি কেউ এই একটি কথা মাথায় রাখেন যে জরুরি অবস্থা মানে মানুষের সকল প্রকার মৌলিক অধিকার হরণ, তাহলে তাকে নতুন করে বুঝিয়ে বলার দরকার আছে কী যে জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকারই যেখানে নেই সেখানে নির্বাচনের অধিকার বা পছন্দের অধিকার কী করে থাকে ? জরুরি অবস্থায় নির্বাচন মানে সরকার কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া সকল প্রকার কালাকানুন মেনে নিয়ে সরকার নির্ধারিত বা সরকার নির্দেশিত ব্যবস্থা গলধকরণ করে সুবোধ বালকের মত সরকারের সাফাই গাওয়া। সাফাই যদি গাইতেই হবে তাহলে খামোখা এত এত হুজ্জতি কেন ? বর্তমানে যে ব্যবস্থা চলছে সেটাইতো চলতে পারে ।জরুরি অবস্থার বা মার্শাল ল’র অধীনে নির্বাচন করে যদি অন্য ধরনের বা অন্য চেহারার ’জরুরি আইন কিংবা মার্শাল ল’ বরণ করে নিতে হয় তাহলে কেন এত দরকষাকষি? কেন এত জেল-ফাঁস দাবিদাওয়া,কেন এত ত্যাগ স্বীকার সাধারণ মানুষের ? কেন একটা ’অশরীরী প্যাকেটজাত ব্রান্ডেড গণন্ত্রের জন্য হা পিত্তেশ? পশ্চিমা বাও এলে একটু একটু শীতে কম্বলের তলে শুয়ে ওম ওম সুখে মানুষ কত কথাই না বলে ! আমাদের দেশের দেশপ্রেমিক সুশীলরা দেশের মঙ্গলের জন্য কত ভাবেই না নাকিকান্না কাঁদে ! কত ভাবেই না সাধারণ মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে কত জ্যোতিষীগিরিই না করে ! আখেরে গণরোষের সামনে এসব খড়কুটো,খোলামকুচির মত ভেসে যাবে একটা গণজোয়ারে…….. এরকম বহুবার ভেসে গেছে। আমরা সেই গণজোয়ারের অপোয়…………..।
[মন্তব্য-লিন্ক]
@ ইন্সিডেন্টাল ব্লগারঃ লিষ্টে আরেকটা বিষয় আপাততঃ যোগ করা যায়, তা হলো, প্রতিবাদী লেখক ডঃ হুমায়ন আজাদের একটি প্রবচন ;
“বাংলাদেশে কয়েকটি নতুন শাস্ত্রের উদ্ভব ঘটেছে; এগুলো হচ্ছে স্তুতি বিজ্ঞান, স্তব সাহিত্য, সুবিধাদর্শন ও নমস্কারতত্ত্ব”।
এই শাস্ত্রের উদ্ভব যদিচ বেশ আগেই ঘটেছে, কিন্ত এর পরিপূর্ন বিকাশের প্রাতিষ্টানিক দ্বার মুক্ত করেছে বর্তমান অসাংবিধানিক স্বৈর-সরকার। গত প্রায় দু’বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে প্রশাসনের সর্বস্তরে, স্থানীয় পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে, এমন কি সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে পর্যন্ত মোসাহেব-দালাল গজিয়েছে। কোথায় আইনের শাসন বিতরন হচ্ছে ও কোথায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দৃশ্যমান হচ্ছে তা এখনো দেখতে পাই নি। এমন একটা ক্ষেত্র নাই যেখানে এই নির্লজ্জ-বেহায়াদের প্রাতিষ্টানিক ভাবে সুবিধা-আনুকুল্য দেয়া হয় নি গত প্রায় দু’বছরে। বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজদের পক্ষে এত ভাল সরকার আর দেখা যায় নি। কারন, দু’দিন পরে সব দুর্নীতিবাজ-মাসলম্যান-গডফাদাররা আদালতের সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয়ে এসে বলবে, দেখ, আমরা কিন্ত এখন মানহানির মামলা দায়ের করব, দুর্নীতিবাজ বলে যদি অপবাদ দাও।
আরেকটা কথা বলতে চাই, তা হ্ল, বাংলাদেশে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দগনের অনেকেই সুনিদ্দিষ্ট দাবি দিতে গিয়ে ‘ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া শূরু করেন।’ মূল দাবি বা জরুরী বিষয়গুলো স্পেসিফিক করতে পারেন না। ইন্সিডেন্টাল ব্লগার উত্থাপিত এই দশটা বিষয় সুনিদ্দিষ্ট করে বহু আগেই প্রগতিশীল দলগুলো বলতে পারতেন। এগুলো ভীষণ জরুরী বিষয় ছিল। কেউ বলেছেন কিনা জানি না। চোখে পড়েনি এখনো।
[মন্তব্য-লিন্ক]
হ্যাঁ, এই দশটা পয়েন্ট কোন রাজনীতিবিদ নীতিনির্ধারকরা কিছু বলেন নি। বলা উচিৎ ছিল। আগামীকাল এই বিষয়গুলি নিয়ে আরো আলোচনা করা যাবে। আপনার মন্তব্যগুলি আলোচনার দাবি রাখে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
একটা বিষয় খুব আশ্চর্য লাগছে, আমার কাছে, সেটা হল, জনাব ফকরুদ্দিন সাহেবের গতকালের ভাষনে “জরুরী আইনের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে” এই রকম ষ্পষ্ট ইংগিত থাকার পরেও প্রগতিশীল কোন রাজনৈতিক দল বা জোট এই নির্বাচন বর্জনের ব্যাপারে সাহসিকতার সাথে কোন পরিস্কার ঘোষনা দিতে পারল না। তারা কেউ বলল না যে, এই ভাষণ অষ্পষ্ট, দুরভিসন্ধিমূলক চাতুর্যেভরা ও প্রতারনাপূর্ন। এক কথায় কেউ বলতে পারল না যে, জরুরী আইন থাকলে আমরা নির্বাচনে যাব না।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করাতেই বেশীরভাগ দল আহলাদে গদ গদ হয়ে কিছু প্রশংসা ও কিছু সমালোচনা করে বিবৃতি দিলেন। উপজেলা নির্বাচন করার এখতিয়ার ও ক্ষমতা কোনটাই যে তার নাই এবং তা যে তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না তা নিয়ে শক্ত অবস্থান কেউই নিচ্ছে না। এতে করে মনে হয়েছে, এই সরকারের সাথে ডায়ালগ এবং এপ্রোচ কি হবে, কি হওয়া উচিত, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যেকার কোন পাকা সমঝোতা নাই।
ধরা যাক, সামনের নির্বাচিত যে পার্লামেন্ট আসবে এবং যারা সরকার গঠন করবেন, কোন কারনে তাদের মনে হল যে, উপজেলা সিষ্টেম তারা রাখবেন না, কিংবা উপজেলা নির্বাচনের বৈধতা যদি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায় তাহলে তার দায়ভার কে নেবে? রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোটি কোটি টাকা খরচ করে, দেশকে এরকম চরম অনিশ্চয়তার মুখে রেখে যেন তেন ভাবে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে একটি উপজেলা নির্বাচন করে ফেলার উদ্দেশ্যই বা কি এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজা জরুরী। রাজনৈতিক দলগুলোই আমাদেরকে এ বিষয়ে আশাবাদ শুনাতে পারতেন। কিন্ত তারা কোন আশার বাণী শুনাচ্ছে না।
শোনা যাচ্ছে, দুই নেত্রীকে মুখোমুখি করার একটা আয়োজন চলছে। এটা নিয়ে একজন প্রবীণ আইনজীবীর দৌড়ঝাঁপ সন্দেহমূলক। কারন, তিনি একদিকে দুই নেত্রীর আইনজীবী আবার এখন সরকারেরও একজন আস্থাভাজন পরামর্শক ও দূত। একেই বুঝি বলে বরেরও পিসী আবার কনেরও মাসী। তাঁর মন্তব্যগুলিও আবার বেশ কৌতুহলোদ্দীপক ও পীড়াদায়ক। দু’নেত্রী একদিন কিছুক্ষনের জন্য একসাথে বসলেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পালটে ফেলতে পারবেন না। এটা সরকারের একটা নতুন লোক দেখানো ভণ্ডামী। এটা অসদুদ্দেশ্য প্রনোদিত। এ বিষয়ে আলোচনা এলে ভাল হয়।
[মন্তব্য-লিন্ক]
দুই নেত্রী এক টেবিলে বসলে কী হবে আর না-বসলে কী হবে সেই জ্যোতিষীগিরি আমাদের কাম্য নয়। আমরা সাদাচোখে মোটাদাগে দেখছি দুই নেত্রী বসলে যা হবে তা হলে ১/১১র কোন আবশ্যকতা থাকে না। যেহেতু ১/১১ এস গেছে, যেহেতু ১/১১র কারণে দুই নেত্রীই কারাভোগ করেছেন,এখন আবার না বসলে আরো একটা ১/১১, আবার একটা ‘সবকিছু ঠিক করে ফেলার’ ঘোষণা,আরো একবার সাধারণ মানুষের দলাই-মলাই।ভেতরের কথা হলো-দুই নেত্যী একত্রে না বসলে মার্শাল’ল আসবে।এই হুমকিটা দেওয়ার পর পরই কি প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দিলেন ? শোনা যাচ্ছিল ঘোষণা হবে সোমবার নাগাদ। সেটা এগিয়ে এলো। ভাল।এখন যে কোন মূল্যে দুই নেত্রীকে বসাতে হবে। বেশ তারা বসলেন। বসে কি করবেন ? জাতি তো এটাই জানতে চায়। তারা বসে কি বলবেন, তারা কি একে অপরকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য স্যাকরিফাইস করবেন ? নাকি দুজনে মিলে রাজা-বাদশাদের মত পাশাপাশি দুই সিংহাসন নিয়ে সুখে-শান্তিতে রাজ্য পরিচালনা করবেন ?
যদি দুই নেত্রীর বৈঠকের এজেন্ডা ঠিক করে না দেওয়া হয় তাহলে বোঝা যাবে তারা দুজনে আসলে বসবেন, কী ভাবে সরকারের সন্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করা যায় সেটা নির্ধারণ করতেই।গত এক বছরে এই দুই নেত্রীই একাধিক বার বলেছেন তিনি ক্ষমতায় গেলে এই সরকারের সকল কর্মকান্ডের বৈধতা দেবেন। এক কাঠি সরেস হয়ে বিএনপি’র মহাসচিব বলেছেন তার নেত্রী ছাড়া আর কেউ নাকি সরকারকে বৈধতা দিতে পারবে না। তাহলে কী এটাই দুই নেত্রীকে বসানোর মর্মকথা ? তাই যদি হয় তাহলে আর রাজনৈতিক দলটল করার দরকার কী? সবাই মিলে যদি ‘তুমি-আমি ভাই-ভাই’ গোছের সরকার বা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয় মীমাংশা হয়েই যায় তাহলে কেন এত গণতন্ত্রায়ণ? কেন এই ষ্টীমরোলার চালিয়ে ‘সুশীল’করণ ? দেশের জনগণ কী তাহলে সেই গিনিপিগ ? এদের এক্সপেরিমেন্টের এলিমেন্টস ? না হয় তাও হলো,কিন্তু এই যে জাতির নতুন ত্রাণকর্তা এক ব্যারিষ্টার। তিনি তার ‘ত্রাণকার্য’ সম্পাদন শেষে যে আরো ত্রাণকর্তা হাজির হবে না সে গ্যারান্টি তো পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই এফবিসিসিএই এবং বিজিএমইএ’র কর্তারা দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসানোর খায়েশ পোষণ করেছেন। এখন বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে এই ত্রাণকর্তারা,সুশীলরা,সরকার,ওয়ান-ইলেভেনের কারিগররা, ব্যবসায়ীদের কুতুবরা,ব্যারিষ্টাররা,বিচারপতিরা,এবং আরো অনেক ‘পতি’রা যেন ধরেই নিয়েছেন দেশের আর কিছুই দরকার নেই। দেশের মানুষ গত আঠারো-উনিশ মাসে যতটা নসিহত,পাপমোচন,প্রাঃয়শ্চিত্ত যা যা পাওয়ার পেয়েছেন। তাদের আর কোন চাওয়া-পাওয়া নেই।দেশে আর কোন ধরণের অভাব-অভিযোগও নেই। মানুষের আর কোন না-পাওয়ার বেদনাও নেই । এখন শুধুই ২ নেত্রী যোগ সরকার যোগ জরুরীআইনের কারিগর যোগ সুশীল যোগ হাজার কয়েক ধামাধরা এশটাবলিশমেন্টের দালাল যোগ পতিত-কলঙ্কিত রাজনীতিবিদ সমান সমান গাব্দাগোব্দা ফুটফুটে গণতন্ত্র এবং দেশময় দুধের নহর আর ক্ষীরের সাগর…………………….
[মন্তব্য-লিন্ক]
একদম মনের কথাগুলো লিখেছেন। কয়েকদিন ধরেই জনৈক প্রবীণ ব্যারিস্টারের (হকের) কথাবার্তা শুনছি, দেখছি পাদ প্রদীপের আলোয় তার নানা কসরত। দেখেছি, আর একধরণের অস্বস্তি বোধ করেছি। আপনার মন্তব্যটা পড়ার পর মনে হল যেন সে অস্বস্তির স্বরূপ আপনি ভাষায় রূপ দিলেন। ধন্যবাদ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
[...] জাতীয় পরিচয় পত্র: জাতীয় পরিচয় পত্র এবং জনসাধারণের ওপর কর্তৃপক্ষীয় নজরদারী নিয়ে New Age এ ছাপানো রেহনুমা আহমেদের লেখা: এখানে। সেইসাথে প্রাসঙ্গিক আলোচনা হিসেবে দেখুন: এখানে এবং এখানে। [...]
[মন্তব্য-লিন্ক]
“মুক্তাঙ্গন : নির্মাণ ব্লগ ~”
আপনাদের দেওয়া লিঙ্কদুটো আসেনি। লিঙ্ক দুটো কি আর একবার দেবন,অথবা কত তারিখের বললে খুঁজে নেব। ধন্যবাদ।
[মন্তব্য-লিন্ক]
ধন্যবাদ বিষয়টা নজরে আনার জন্য। এই লিন্কে সম্পাদিত পোস্টটি দেখুন, “জাতীয় পরিচয়পত্র” এর নীচে।
[মন্তব্য-লিন্ক]
দেখলাম। এই দীর্ঘ বিষয়টি আলোচনার জন্য সম্ভবত আলাদা একটা পোস্ট খুলে আলোচনা করা ভাল।সে ক্ষেত্রে সেই থ্রেডে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে।অথবা কাল আমার এই পোস্টেই আলোচনার সূত্রপাত করা যেতে পারে।
ধন্যবাদ লিঙ্কটি ধরিয়ে দেবার জন্য। সবাইকে শুভেচ্ছা।