কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর


সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

কথাসাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত। পেশায় চিকিৎসক। মানুষকে পাঠ করতে পছন্দ করি। আমি মানুষ এবং মানব-সমাজের যাবতীয় অনুষঙ্গে লিপ্ত থাকার বাসনা রাখি।



ফেসবুক বন্ধকরণ প্রসঙ্গে

এই সময়ে ওয়েবসাইটে যোগাযোগের সবচেয়ে ইফেক্টিভ ও পপুলার মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। অথচ এই মাধ্যমটিকেই প্রশাসনিকভাবেই হঠাৎই ব্লক করে দেয়া হল। অতি সাধারণ একটা বিষয় হচ্ছে, মাথাব্যথার চিকিৎসা হিসাবে কখনও মুণ্ডুকর্তনকে সমর্থন করা যায় না। এখন কথা হচ্ছে, এই মাধ্যমে যদি এবনর্মাল কিছু ঘটে থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষের উচিত তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অথচ তা না করে একটি দরকারি মাধ্যমকে এভাবে জবাই করা কোনো উত্তম পন্থা হতে পারে না।
কাজেই আমাদের একান্ত কামনা হচ্ছে, এই মাধ্যমটির উপর থেকে যেন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

পোস্ট কিংবা মন্তব্যে প্রকাশিত মতামত কোন অবস্থাতেই মুক্তাঙ্গন কর্তৃপক্ষের মতামতের প্রতিফলন নয়। বক্তব্যের দায়ভার লেখক এবং মন্তব্যকারীর নিজের। শুধুমাত্র "মুক্তাঙ্গন" নামের আওতায় প্রকাশিত বক্তব্যই ব্লগের যৌথ অবস্থানকে নির্দেশ করে।


২৩ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:

  1. মুরাদ লিখেছেন:

    পাকিস্তানের পর পর বাংলাদেশেও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুক-কে সাময়িকভাবে ব্লক করে দেয়া হয়েছে! কী হচ্ছে এইসব!
    পাকিস্তানি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ : এখানে

    • ১.১
      কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

      এটি সর্বৈব একটি অন্যায় সিদ্ধান্ত। এতেই প্রমাণ হয়, মুখে যতই অনেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অমুক-তমুক বল; আসলে পাকিস্তানি ধর্মীয় মৌলবাদের ভূত এদেশের অনেকের মানসপটে একেবারে গেঁথে আছে।

  2. মাসুদ করিম মাসুদ করিম লিখেছেন:

    কত হতে পারে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা? প্রায় দশ/পনেরো লাখ। তার মধ্যে কত জন Face Book (FB) ব্যবহার করে? — আমার মতো আমার পরিচিত অনেকেই FB ব্যবহার করে না। কত হতে পারে? প্রায় সাত থেকে এগারো লাখ। এই লোকগুলোর মধ্যে কত জন আপত্তিকর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের সাথে জড়িত?
    এবার আসুন, বাংলাদেশে কত কোটি লোক মোবাইল ব্যবহার করে? মোবাইলে প্রতিনিয়ত কত না অপরাধমূলক কাজকর্ম ঘটে, তাহলে মোবাইল অপারেটারগুলোকে কী হারে সাময়িক বন্ধের শিকার হতে হবে?

    সাময়িক/অসাময়িক বন্ধের মতো আমলাতান্ত্রিক সমাধান পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে সমাধান। বাংলাদেশের উচিত ‘প্রযুক্তি পুলিশ’ গড়ে তোলা। এখনই একাজ শুরু করার মোক্ষম সময়। ইন্টারনেট ভিত্তিক নতুন নতুন সেবা, তার মধ্যে একটা জরুরী সেবার জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করে আছি — ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এমন আরো আরো সেবায়, প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট ও আরো আরো প্রযুক্তি ব্যববহারের মাধ্যমে নতুন নতুন অপরাধ সংঘটিত হবে। এর জন্য এখনই ‘প্রযুক্তি পুলিশ’ গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হোক। অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশের চেয়ে ভাল কোনো পন্থা এখনো মানুষের আয়ত্বে আসেনি। তাই ‘বন্ধ’ সংস্কৃতিকে ভুলে ‘পুলিশ’ সংস্কৃতিতে প্রবেশ করাই হবে এখনকার সবচেয়ে জরুরী পদক্ষেপ।

    • ২.১
      মাসুদ করিম মাসুদ করিম লিখেছেন:

      বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দশ/পনেরো লাখ, নিজে লেখার পর থেকে নিজেই সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কারণ আমার নিজেরই মনে হচ্ছে কিছু দিন আগে এরকম একটা সংখ্যাই কোথায় যেন পড়েছিলাম, কিন্তু ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না। আর এখন বাংলাদেশে FB-এর সদস্য সংখ্যা নয় লাখ* শুনে ব্যাপারটা আরো খটকা লাগছে। শেষ পর্যন্ত এক বন্ধুর সূত্রে জানতে পারলাম কোথায় যেন সে পড়েছে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩ থেকে ৪ ভাগ। সেহিসেবে ১৬ কোটির মধ্যে ৪৮ থেকে ৬৪ লাখ হতে পারে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা।

      * বাংলাদেশে FB-এর মোট ব্যবহারকারী ৮ লাখ ৭৬ হাজার ২০। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৪২ হাজার ৯২০ এবং মহিলা ২ লাখ ২২ হাজার ৪৪০। ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকই ১৮-২৪ বছর বয়সী। ৩০ মে ২০১০-এর কালের কণ্ঠের সূত্রে এই সংখ্যাগুলো পাওয়া। কিন্তু লিন্ক দিতে পারছি না, কালের কণ্ঠের ওয়েব সংস্করণের এই এক সমস্য, যেপাতাতেই যাই লেখা থাকে http://www.kalerkantho.com — কেন কী জানি — এসব ঠিক পুরোপুরি বুঝি না।

  3. সৈকত আচার্য সৈকত আচার্য লিখেছেন:

    মাথামোটা সরকার, নীরব প্রগতিবাদ, অতিবুদ্ধিমান বি টি আর সি এবং ধুর্ত ধর্মকীটঃ

    মাথামোটা সরকারঃ
    এই সরকারের মাথা মোটা। গুটিকয়েক মোল্লা মিছিল বের করলো আর অমনি তাদের মনে হলো ফেস বুক বন্ধ না করে বুঝি আর উপায় নেই। প্রগতিশীল শক্তির উপর সরকারের এত অবিশ্বাস কি করে তৈরি হলো? সরকার ভুলে গিয়েছে, এই মোল্লাদের ভোটে তারা ক্ষমতায় আসেনি। এদের পক্ষে এই সরকার যাই করুক না কেন, কষ্মিনকালেও এই সরকার তাদের সন্তষ্ট করতে পারবে না। ফলে তাদেরকে তেল দিয়ে সরকারের ভোটের দিক থেকে ও কোন লাভ নাই। সরকার বুঝতে পারছে না যে, মহানবী এখানে আসল ইস্যু নয়। এইটা ধর্মীয় জংগীবাদের নতুন খেলা। পাকিস্তানে যা হচ্ছে সেটাই একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো, এখানকার বিকাশমান মুক্তচিন্তার ফোরামগুলোকে চাপের মধ্যে রাখা। মানুষে মানুষে চিন্তার আদান-প্রদানের এই হোলিখেলার যুগে ফেসবুক-ইন্টারনেটের বিষ্ময়কর অভিযাত্রা কেউ থামানোর কথা ভাবতে পারে এটা একমাত্র পাকিস্তানেই দেখছিলাম। বাংলাদেশও একই লাইন নেয়াতে এখন মনে হচ্ছে এখানে আসলেই সর্ষেতে ভুত আছে। এই ভুত খুঁজে খুঁজে তাড়াতে হবে। নইলে এরা এই রাষ্ট্রটাকেই খেয়ে ফেলবে।

    নীরব প্রগতিবাদঃ
    মোল্লারা যখন মিছিল-মিটিং করছিলো এই ইস্যুতে সেখানে বার বার তারা একটা মামাবাড়ীর আবদার করছিলো। আবদারটা হলো, ফেসবুক বন্ধ করতে হবে বাংলাদেশে। এই আব্দারের ধরন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে, তাদের আসল উদ্দেশ্য মহানবী নয়। সুকৌশলে তারা ফেসবুক-ইন্টারনেটের উপর একটা নিয়ন্ত্রন আরোপ করা হো্‌ক, এটাই চাইছিল। প্রগতিশীল দল/গ্রুপগুলো তাদের দিক থেকে শুধু মাত্র সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদেরই কর্মসূচী ঘোষনা করা দরকার ছিলো। এই জংগী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে। ইসলামের নামে বাংলাদেশকে পাকিস্তানীকরনের বিরুদ্ধে। আগেই তারা সরকারকে এই টোপ না গিলার জন্য হুঁশিয়ার করতে পারতো। চাপ সৃষ্টি করতে পারতো।

    অতিবুদ্ধিমান বি টি আর সিঃ
    এই সংস্থাটি একজন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে চলছে। এদের এমনিতেই হাঁটুতে বুদ্ধি। তার বাইরে টেলি-মন্ত্রী সাহেবের নিশ্চয়ই একটা সমর্থন এখানে রয়েছে। এদেরকে এই সব বুদ্ধি কোন মোটামাথাওয়ালারা দেন তাদের খুঁজে বের করা দরকার।

    ধুর্ত ধর্মকীটঃ
    পাকিস্তানের আই এস আই এর মদদ পুষ্ট কিছু ইসলামী জংগী সংগঠন এদেশে আস্তানা গেঁড়েছে। এই খবর আমাদের দেশে এখন পুরোণো। জংগী কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে এবং সাংগঠনিক ভাবে লাভবান হবার বাসনায় এরা নিত্য নতুন ফিকির খুঁজে বেরায়। পাকিস্তানের এই ইস্যুটি বাংলাদেশে চালান হয়েছে কেন এটা সরকার খতিয়ে দেখার দরকার ই মনে করলো না। উলটো যাদের ভোটে তারা ক্ষমতায় আসলো সেই প্রগতিবাদী ইয়ং জেনারেশনের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর ছুরি চালিয়ে দিল। এদেশের মানুষের অপরাধ কি তা কিন্ত আমরা জানতে পারলাম না।

    চিন্তা এবং বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া আছে আমাদের সংবিধানে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়া আছে। এগুলোর সিরিয়াস লংঘন করেছে সরকার এবং কর্তৃপক্ষ। নিশ্চয়ই আমরা আশা করবো কেউ না কেউ হাইকোর্টে যাবেন। অন্যরা নিশ্চয়ই রাজপথে এবং অন্যান্য ফোরামে সক্রিয় থাকবেন।

    আমাদের সংগ্রাম নিশ্চয়ই থেমে থাকবে না।

    • ৩.১
      কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

      ধন্যবাদ সৈকত আচার্য্য, এখানে বিটিআরসি’র আরও একটা তথ্য খুবই হাস্যকর, তারা নাকি হযরত মুহাম্মদ আর জাতীয় নেতাদের ব্যাঙ্গচিত্র-এর লিঙ্ক বন্ধ করতে পারছিলেন না। তাহলে বুঝুন অবস্থা, একদিনে বিকল ফেসবুক আমরা পাচ্ছি, তাতে কাজ করতে পারছি, অথচ তারা একটা লিঙ্ক ডিলিট করতে পারেনন না? আসলে সরকারি প্রশাসন যে কত স্থবির হতে পারে, এ হচ্ছে তারই একটা বড়ো প্রমাণ।
      আজই শুনলাম পাকিস্বতানের কোর্ট নাকি ফেসবুক বন্ধকে অবৈধ ডিক্লেয়ার দিয়েছে। দেখা যাক, আমাদের সরকার কী করে।

  4. আরিফুর রহমান আরিফুর রহমান লিখেছেন:

    অত্যন্ত নির্মম ও অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চুড়ান্ত ফালতু কারন দেখিয়ে। আমরা ভাবিনাই অন্ততঃ বাংলাদেশের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এই পাকিপন্থী আকামটা করতে পারবে।

    আঘাতটা এসেছে, সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু মৌলবাদী কুলাঙ্গারের খুনসুটিতে। এদের চিহ্নিত করা হৌক্। সরকারকে বোঝানো হৌক, কোথায় আমাদের ডিজিটাল জয়, আর শেখ রেহানার লন্ডন প্রবাসী মেয়ে?

    এই যদি হয় ডিজিটালবাজির নমুনা, তাহলে কি দোষ করেছে জামাতেস্লামী আর হিজচুত? আমাদের দেশটাকে বরং বান্ধা দিয়ে দেয়া যাক শালার ছৌদিয়ারবের কাছে। (এমনিতেও ফারাক্কা আর টিপাইমুখ বাঁধের কারনে মরুভূমিতে পরিনত হবে বংগস্তান) তারা এখানে দুম্বা চড়াবে আর ইসলাম জঙ্গীদের ট্রেনিং দেবে।

    সকল ব্লগে ফেসবুক বন্ধের বিরূদ্ধে প্রতিবাদী পোস্ট স্টিকি করুন।

    যে সকল সাংবাদিক আছেন, তারা পত্রিকায় লিখুন।

    এভাবে আরো সাইট বন্ধ হলে, এই দেশটা একটা অন্ধকার ভাগাড়ে পরিনত হবে। আমাদের প্রতিবাদ হতে হবে ফলোদায়ী। আমরা দেখতে চাই ফেসবুক খুলে দেয়া হয়েছে। আমরা কন্ঠরোধ চাই না।

    দ্বার রুদ্ধ করে দিয়ে ভ্রমটাকে রুখি।
    সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি

  5. মাসুদ করিম মাসুদ করিম লিখেছেন:

    আবেদ খানের প্রতিক্রিয়া আজকের কালের কণ্ঠে

    বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদন
    এসব করলে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে?
    আবেদ খান
    হঠাৎ করে ফেইসবুক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটিতে হতবাক হয়েছি। নিশ্চয়ই আমার মতো অনেকের ভেতরে এই একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে এক যুবকের কাণ্ডকে। মাহবুব আলম রডিন নামের যুবকটি ফেইসবুকে জাতির জনক, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীসমেত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম এবং ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালাচ্ছিল। অবশ্য র‌্যাব যুবকটিকে আটক করেছে এবং সে স্বীকার করেছে, নেহাত ফান করার জন্যই সে এ কাজ করেছিল এবং এ জন্য সে অনুতপ্ত।
    আমি হতবাক হয়েছি এই কারণে যে, একটি যুবকের অপকর্মের অপরাধে হুট করে ফেইসবুকই বন্ধ করে দিতে হলো? শাস্তি দেওয়া হলো দেশের প্রায় ৯ লাখ ফেইসবুক ব্যবহারকারীকে! অদ্ভুত তুঘলকি কারবার! র‌্যাবের কোনো কোনো লোক তো ডাকাতি করেছিল বলে কাগজে খবর বেরিয়েছে মাঝে মাঝে এবং তাদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে সে সময়। এই তো সেদিন সাতক্ষীরায় র‌্যাবের কতিপয় সদস্য এক রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীর বাসায় অস্ত্র রেখে তাঁকে ধরতে গিয়েছিল; কিন্তু গ্রামবাসীর বাধার মুখে পারেনি। এ কারণে কি পুরো র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে? মোবাইল ফোনে হুমকি তো মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায় এবং পানও কেউ কেউ। তার জন্য কি মোবাইল ফোন কম্পানিগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে? ইন্টারনেটেও তো অনেক সময় অনেক কিছুই আসতে পারে, যা কারো কারো জন্য বিব্রতকর। তার জন্য কি ইন্টারনেট সার্ভিস তুলে দিতে হবে?
    কথা হচ্ছিল লেখক, বিজ্ঞানী স্নেহভাজন জাফর ইকবালের সঙ্গে। তিনিও কথা বললেন এই একইভাবে। বললেন কারা করাচ্ছে এসব? কারা বারবার এ ধরনের অদ্ভুত অদ্ভুত সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি করে চাপিয়ে দিয়ে সরকারকে বিব্রত করছে? ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি। তাদের বিক্ষুব্ধ করানোর কাজটি ভেতর থেকে করছে কারা? ওরা তো জানে ফেইসবুক বন্ধ করে দিলেও বিকল্প পথ থেকেই যায়। বরং উচিত ছিল এ ধরনের অপকর্ম রোধ করার জন্য নতুন প্রজন্মের মেধা এবং প্রযুক্তিবিদ্যাকে ব্যবহার করা।
    সরকারের এবং সরকারি দলের কেউ কেউ যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছেন যে, এ ধরনের বিকৃত প্রচারণায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। একটি অসহ্য শব্দ এই ভাবমূর্তি! যে দল যখনই ক্ষমতায় যায় তখনই তারা অতিমাত্রা ভাবমূর্তি-সচেতন হয়ে ওঠে এবং ভাবমূর্তি নামক বায়বীয় ধারণাটি সংরক্ষণের জন্য কোমর বেঁধে চড়াও হয় প্রতিপক্ষের ওপর। আর এক শ্রেণীর জোগানদাতা সব সময় থাকে, যারা সব সময় এর ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী-সরকারবিরোধী গন্ধ শুঁকতে থাকে। এই তো তিন দিন আগে পাকিস্তানে ফেইসবুক বন্ধ করা হলো ধর্মীয় কারণে। আর তার পরপরই বাংলাদেশে ভিন্ন অজুহাতে। আশ্চর্যজনকভাবে এবং অতি সূক্ষ্ম কৌশলে সেই কাজটিই করা হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মকে বিরক্ত করবে। কারো কারো যুক্তি, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয় বাধাগ্রস্ত করতে ফেইসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে।’ যাঁরা এই যুক্তি উপস্থাপন করেন তাঁরা বোধহয় জানেনই না যে, ফেইসবুক ব্যবহারকারী নতুন প্রজন্মের শতকরা ৯৫ ভাগই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার। তাঁরা বোধহয় এও জানেন না যে, দীর্ঘদিন পর এবার এই প্রথমবারের মতো বিশাল তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে উচ্চকিত হয়েছিল। দুঃখ হয় এই ভেবে যে, যাঁরা এ ধরনের তড়িঘড়ি ঘটনাটি ঘটালেন তাঁরা হয় নতুন প্রজন্মকে বোঝেন না, না হয় প্রযুক্তি বোঝেন না কিংবা তাঁরা এমন ধরনের কাজই করেন যাতে উল্লসিত হয়ে আমিনী সাহেব বলতে পারেন, ‘সরকার একটি ভালো কাজ করেছে। আমি খুশি।’
    এ ঘটনা গোটা পৃথিবীর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কোটি কোটি মানুষের কাছে কী বার্তা পাঠাল? কোন বাংলাদেশকে দেখল পৃথিবী? এসব করলে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে?

  6. বিনয়ভূষণ ধর বিনয়ভূষণ ধর লিখেছেন:

    পাকিস্তানে ফেইসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

    ইসলামাবাদ, মে ৩১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/রয়টার্স)- পাকিস্তানে ফেইসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
    সোমবার লাহোর হাইকোর্ট জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগ সাইটটির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার এ আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সাইটটির বিশেষ কয়েকটি ইসলামবিরোধী পাতা বন্ধ রাখারও আদেশ দিয়েছে আদালত।
    ফেইসবুকে মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ছবি আঁকার একটি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়ার পর গত ১৯ মে সাইটটি বন্ধের দেশ দেয় এই আদালত।

    • ৬.১
      কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

      আমরা যতই মুক্তিযু্দ্ধের চেতনা, গণজোয়ার, জনজাগরণ ইত্যাদি বলি না কেন এই সরকারের ভিতরও খন্দকার মোস্তাকের প্রেতাত্মারা ঘাপটি মেরে আছে। ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবার উচিত এখনই সোচ্চার হওয়া। একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে ফেসবুক, ব্লগ, অনওয়ে ম্যাগাজিন যত তৎপর, অন্য কোথাও কি তা আছে? অথচ সরকার এই মাধ্যমটিকেই ফালতু যুক্তি দেখিয়ে বন্ধ করে দিল!

  7. রায়হান রশিদ রায়হান রশিদ লিখেছেন:

    ডিজিটাল বাংলাদেশ এর ডিজিটাল ব্যাপার স্যাপার!

  8. kheyalimon লিখেছেন:

    ভুল বুঝে ভুল ক্ষমতার মানুষ যে সাজা দেন তাতে সাধরন আমজনতার কষ্টের বোঝা বারে । ভুল নিয়মের শিকার হয় ভুল মানুষ

  9. অবিশ্রুত অবিশ্রুত লিখেছেন:

    বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার করেন প্রায় নয় লাখ মানুষ। এ সম্পর্কে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে গত ৩০ মে বলা হয়েছে :

    বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেইসবুক ডটকমের প্রতিষ্ঠা ব্যক্তিমালিকানায়, ২০০৪ সালে। ইন্টারসাইট পরিসংখ্যানকারী এলেক্সা ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ফেইসবুক বাংলাদেশে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের পরেই এর স্থান। অনলাইনে বিনা মূল্যে নিজের প্রোফাইল বানানো, ছবিসহ নিজের মনের কথা প্রকাশ, বন্ধু-বান্ধব তৈরি, চ্যাটিং, প্রিয় ব্যক্তিত্ব বা সাইটের নামে ফ্যান ক্লাব খোলা ইত্যাদি সুবিধার কারণে তরুণসমাজের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয়।
    ফেইসবেকার্স ডটকমের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ফেইসবুক ব্যবহারকারী প্রায় আট লাখ ৭৬ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখ ৪২ হাজার ৯২০ জন পুরুষ ও দুই লাখ ২২ হাজার ৪৪০ জন নারী ব্যবহারকারী। ১ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত ২৮ দিনেই দেশে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬০ হাজার।
    ফেইসবুকে বিশ্বের প্রধান ভাষাগুলোর পাশাপাশি বাংলায়ও অ্যাকাউন্ট খোলা ও ভাববিনিময় করার সুযোগ আছে। সেখানে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্তসহ বাঙালির গর্ব নানা ব্যক্তির নামে ফ্যান ক্লাব। এমনকি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি তারকার নামে রয়েছে একই রকম ফ্যান ক্লাব। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তো বটেই; এমনকি অনলাইন একাধিক বাংলা পত্রিকা ও ব্লগের রয়েছে গ্রুপ। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে একাধিক গ্রুপও রয়েছে এ সাইটে। গ্রুপগুলো জনমত গঠনে বিনা মূল্যে তাদের প্রচার চালায় ফেইসবুকে।

    সংখ্যা যত কমই হোক না কেন, ফেইসবুক বন্ধ করে সরকার মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপরেই হস্তক্ষেপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী নিয়ে বাংলাদেশে অনেকেই অনেক সময় কার্টুন একেছেন। কিন্তু ফেইসবুকে সেরকম কিছু হলেই মারাত্মক অপরাধ হয়ে যাবে, এ কেমন কথা?
    সরকার আসলে এর মধ্যে দিয়ে কয়েকটি মারাত্মক মেসেজ দিচ্ছেন- এর একটি হলো আমিনী মার্কা মানুষদের অপপ্রচারকে তারা খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। আরেকটি হলো, এ সরকারের সমালোচনা করা যাবে না। কার্টুনিস্টরা যদি শেখ হাসিনাকে নিয়ে কার্টুন আঁকেন, এবং তাতে নির্দিষ্ট কোনও বার্তা থাকে, তা হলে দোষ কোথায়? তা হলে কি শিশিরের কার্টুনগুলির জন্যে আমরা শিশিরকে কাঠগড়ায় পাঠাবো?

    • ৯.১
      কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

      একদিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, বাহাত্তরের সংবিধান পুনরুত্থানের হুংকার; অপরদিকে হুজুরদের মৃদুগর্জনেই ফেসবুক বন্ধের মতো ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে সরকার। তাহলে মানুষ কোনটার উপর আস্থা রাখবে?

  10. ১০

    নেতাদের নিয়ে ব্যাংগচিত্রের ব্যাপারটা আগেও হয়েছে, সেই কারণে ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে বলে মনে হয় না। বন্ধ করা হয়েছে আওয়ামী লীগ কতটা ইসলাম প্রেমিক সেটা দেখানোর জন্য। বিগত মইন ঊ আহমেদের সরকারের সময়েও প্রথম আলোর নির্দোষ কার্টুন নিয়ে এই জাতীয় ব্যাপার হয়েছিল। সরকারের চাপে মতিউর রহমান বায়তুল মোকাররমের খতিবের কাছে মাফ টাফ চেয়ে একটা হাস্যকর কান্ড করেছিলেন।
    এই ফালতু ইসলামপ্রীতির ব্যাপারটি দিন কে দিন বেড়েই চলেছে। প্রয়াত জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ এনে ‘এক চিমটে’ ইসলামী লবণ দিয়ে শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে এরশাদের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, ৯১ সালে বিএনপির জামাতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন, ২০০১ সালে চরম মৌলবাদী ইসলামী ঐক্যজোটকে সরকারে জায়গা দেয়া, ইসলামী লবণের পরিমাণ বাড়তেই থাকলো। সর্বশেষ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের আব্দুল জলিল ইসলামী দলগুলোর সাথে ‘কোরান এবং সুন্নাহ’ মেনে চলার চুক্তিই করে বসলেন। এক চিমটে লবণ বাড়তে বাড়তে এক বালতি লবণে গিয়ে দাঁড়াল।

    • ১০.১
      কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

      সর্বশেষ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের আব্দুল জলিল ইসলামী দলগুলোর সাথে ‘কোরান এবং সুন্নাহ’ মেনে চলার চুক্তিই করে বসলেন। এক চিমটে লবণ বাড়তে বাড়তে এক বালতি লবণে গিয়ে দাঁড়াল।
      একদম সত্যি কথা_ভোটের রাজনীতির পরশ পেয়ে ধর্ম মাশাল্লাহ তার আয়-উন্নতি ভালোই চালাচ্ছে।

    • ১০.২
      মাসুদ করিম মাসুদ করিম লিখেছেন:

      নেতাদের ব্যাঙ্গচিত্র নয়, নেতাদের বিকৃতচিত্র প্রকাশের জন্য FB বন্ধ করা হয়েছে। সরকার FB বন্ধ করে ভুল করেছে, কিন্তু আমরা যেন ব্যাঙ্গচিত্র ও বিকৃতচিত্রের মধ্যে পার্থক্য করতে ভুল না করি — সেটাও আমাদের একটু ঠান্ডা মাথায় বুঝে নিতে হবে। আমি FB ব্যবহারকারী নই, আর তাই আমি হযরতের ছবি আঁকা নিয়ে কী হয়েছে ঠিক জানি না — কিন্তু হযরতের ছবি আঁকার কথা উঠছে কেন? — যখন একটা ধর্মীয় আবেগতাড়িত বিশ্বাস আছে যে হযরতের কোনো ছবি নেই। হযরতের ব্যাঙ্গচিত্র কেউ আঁকলে যেমন তার দিকে তেড়ে যাওয়া উচিত নয়, তেমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারো ‘এসো হযরতের ব্যাঙ্গচিত্র আঁকি’ বা ‘এসো হযরত কেমন ছিলেন আঁকি’ এধরনের ইভেন্ট পরিচালনা করাও মানসিক বিকৃতির পরিচয়। আর FB-এর মতো সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইটে তো এমনটা হওয়া একদম উচিত নয়। এখন FB বন্ধ করে এই আলোচনা চালানো হাস্যকর হচ্ছে, কারণ FB বন্ধ করা ভুল হয়েছিল — FB খোলা রেখেই উচিত ছিল বিকৃতচিত্র ও হযরত ইস্যুতে FBকে অবহিত করা ও এর দ্রুত প্রতিকার করার ব্যবস্থা করতে FBকে চাপ দেয়া। তা না সরকার FB বন্ধ করে দিল। যেঘটনার জন্য FBকে সতর্ক করা যেত — যে সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইট চালাতে গেলে তাদের আরো তৎপর হওয়া উচিত, সেখানে ভুল পদক্ষেপের জন্য সরকারই এখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদেরও প্রতিক্রিয়ার বাড়াবাড়ি আছে, পড়ুন জাকারিয়া স্বপনের এই কথাগুলো

      আমি নিশ্চিতভাবে জানি, বাংলাদেশের এই ঘটনাটি আগামী কয়েক দশকেও ঘুচাতে পারবে নাএই একটি ঘটনাই আমাদের টেনে পাকিস্তানের কাতারে শামিল করেছে। এরপর থেকে যখনই কোনো খারাপ উদাহরণের প্রয়োজন হবে, অন্য মৌলবাদী উগ্র দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নামটিও চলে আসবে। এটাই কি আমাদের ১৬ কোটি মানুষের প্রাপ্য? বাংলাদেশ কি এই গ্রহের বিচ্ছিন্ন কোনো দেশ? আমাদের ছেলেমেয়েরা কি বিদেশে যাবে না? আমাদের সাংবাদিকেরা, শ্রমিকেরা, পেশাজীবীরা যখনই বিদেশের মাটিতে পা রাখবেন, কিংবা যাঁরা এখন প্রবাসে আছেন, এ ঘটনাটির জন্য তাঁদের মাশুল দিতেই হবে। কর্মক্ষেত্রে, খেলার মাঠে, কফির আড্ডায় অন্যরা তাঁদের দিকে ভিন্নভাবে তাকাবেই এবং সেই তাকানোটা মোটেও সম্মানের নয়, শ্রদ্ধার নয়। সেই চাহনি করুণার, ভিক্ষার, দয়ার।

      জাকারিয়া স্বপনের এই লেখাটির অন্যান্য বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত। কিন্তু এ অংশটিকে আমার বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। আমাদের দেশের সরকার FB বন্ধ করার কারণেই বিদেশিরা যেন আমাদের দিকে এভাবে তাকাবে, না হয় এমনিতে যেন তারা আমাদের দিকে এইভাবে তাকান না! আর এই একটি ঘটনা আমাদের কয়েক দশক ভোগাবে, FB বন্ধ করেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের শামিল হয়ে গেছে এগুলো অতিশয়োক্তি। বিদেশিরা শুধু সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের মূল্যায়ন করবেন, এটা ঠিক নয়, কই আমেরিকার এতো কর্মকাণ্ডের পরও আমরা কি একজন sensible আমেরিকানকে বুঝতে ভুল করি? — অন্তত বুঝতে চেষ্টা করি। কিন্তু বিদেশিরা এই চেষ্টাটা করতে চান না, তারা সবসময় করুণার দৃষ্টি দয়ার দৃষ্টিতেই আমাদের দিকে তাকাতে চান — FB বন্ধ করার উপলক্ষ তাদের দরকার হয় না।

  11. ১১

    জাকারিয়া স্বপনের ‘বিদেশিদের কাছে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবার’ এই দুশ্চিন্তা নতুন কিছু নয়। আমেরিকাতে আমি প্রায় দশ বছর ধরে আছি, সাধারণ মার্কিনীরা কোন দেশ কখন কি নিষিদ্ধ করল এইসব নিয়ে একদমই মাথা খামায় না। তবে মুসলিমদের ব্যাপারে তাদের অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আছে, সেটা ৯/১১ এর আগের থেকেই আছে। আমি নিজেও ‘মুসলিমরা চাইলেই বউ মেরে ফেলতে পারে কিনা’ এই জাতীয় প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। বাংলাদেশের সরকারগুলোর কয়েক দশক ধরে মডারেট মুসলিম দেশ এই জাতীয় প্রচারণার কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশীদের মুসলিম পরিচয়টাই আছে, আর কোন পরিচয় নেই। রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়, জীবনানন্দ দাশ, বিভুতিভুষন যত মহৎ সাহিত্য বা চলচ্চিত্রই নির্মাণ করুন, তাতে আমাদের কোনই অধিকার নেই।
    যাই হোক, জাকারিয়া স্বপন ফেসবুক যে উচ্চ আসনে বসিয়েছেন সেটা খানিকটা সত্য। ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক সাইটগুলোর অনেক ইতিবাচক দিক আছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ফেসবুকের কল্যাণেই বাংলাদেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক মৌলিক পরিবর্তন আসবে, এটা আশা করা বাড়াবাড়ি। ফেসবুক বা সামাজিক সাইটগুলোর কল্যাণে অন্য কোন দেশেও কোন বিপ্লব হয়ে গেছে কিনা আমার জানা নেই। সাম্প্রতিক কালে ফেসবুকের মাধ্যমে ইরান থেকে আন্দোলনের খবর ছবিসহ অতিদ্রুত পশ্চিমা বিশ্বে চলে এসেছে, তাতে অবশ্য আন্দোলন দমনে ইরানের মোল্লাদের তেমন কোন অসুবিধাই হয়নি। বরং আমার ইরান দেশীয় বস কিছুদিন আগে দেশ থেকে ঘুরে এসে বললেন ইরানী কিশোর আর তরুনেরা ফেসবুক নিয়ে মারাত্মক আসক্ত। এতে মোল্লাদের সুবিধাই হয়েছে, তরুনেরা যদি ঘরে বসে দেশ বিদেশের লোকজনের সাথে গল্প করে সময় নষ্ট করে, তাহলে তারা আর রাস্তাঘাটের আন্দোলনে যাবে না। ফেসবুক আর টুইটারের প্রতি কর্মচারীদের অতি আসক্তির কারণে অনেক মার্কিন কোম্পানীই নিজেদের সার্ভারে ফেসবুক নিষিদ্ধ করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও সৈনিকদের মাঝে ফেসবুক ব্যান করার চিন্তাভাবনা করছে।
    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফেসবুক নিষিদ্ধকরণের ব্যাপারটা ঠিক ফেসবুক নিয়ে নয়। মোল্লারা একটা কিছু আবদার করলেই (বাউলের মূর্তি, প্রথম আলোর কার্টুন, ফেসবুক) সরকারের তাতে সায় দেয়ার প্রবণতাটাই এখানে মুখ্য ব্যাপার। হযরত মোহাম্মদ বা মুসলিমদের নিয়ে আজবাজে কথা ইন্টারনেটে খুঁজলে প্রচুর পাওয়া যাবে। সেসব বন্ধ করতে হলে গোটা ইন্টারনেটই বন্ধ করে দিতে হবে। আর এসব আজেবাজে কথা সহ্য করেই সারা পৃথিবীতে মুসলিমরা টিকে আছে। সাধারণ মুসলিমদের পরমতসহিষ্ণুতা অন্যান্য ধর্মের লোকজনের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিন্তু অল্প কিছু মোল্লার কারণেই বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের ‘মাথামোটা গোঁয়ার’ এই জাতীয় একটা ইমেজ দাঁড়িয়ে গেছে।

    • ১১.১
      কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

      আপনার সাথে সহমত প্রকাশ করছি।

      • ১১.১.১
        কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর kamruzzaman Jahangir লিখেছেন:

        অবশেষে ফেসবুক ওপেন করা গেল। ফেসবুকের প্রতি ভালোবাসায় যুক্ত সবাইকে ভালোবাসা।

  12. ১২
    মাসুদ করিম মাসুদ করিম লিখেছেন:

    Madina helps you connect and share halal with the people in your life.

    হারাম হালালের তালে পড়ে মুসলমানেরা আর কত নিজেদের একঘরে করবে। মুসলমানদের এবারে নিজেদের হালাল ফেসবুক। আসলে এদের মুসলমান বলা উচিত নয়, বলা উচিত ‘ইসলামবাদী’ যেমন জাতপাত নিয়ে কট্টর হিন্দুদের ‘হিন্দুত্ববাদী’।

    এখানে পড়ুন ডেইলি মেইলের রিপোর্ট

    • ১২.১

      খবরটি পড়ে বোঝা গেল না এই দাবীর পেছন আসলেই ২.৫ মিলিয়ন মুসলিম যুক্ত আছে কিনা? চার পাঁচজন বন্ধু মিলে এরকম একটা চিঠি ফেসবুক কতৃপক্ষকে লিখতেই পারে, তার মানে এই নয় যে মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলিম এর পেছনে আছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:

=নিয়মাবলি=
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।


অভ্র প্রভাত ফোনেটিক ইউনিজয় ইংরেজী
------------(মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন)------------


বাংলায় মতামত লিখতে নিচের যে কোন একটি পদ্ধতি বেছে নিন:
(ক) সংযুক্ত চারটি বাংলা কী‌বোর্ডের (ইউনিজয়, ফোনেটিক, প্রভাত) যে কোন একটি বেছে নিয়ে; অথবা, (খ) গুগল বাংলা ট্রান্সলিটারেশন টুল ব্যবহার করেও সহজে বাংলা লেখা সম্ভব। বাংলা অক্ষর চালু/বন্ধ করতে ctrl+g চাপুন। শব্দটি ইংরেজী হরফে লিখে ফেলে স্পেসবার চাপুন, তাহলেই সেটি বাংলায় রূপান্তরিত হবে (একই শব্দের একাধিক বানান-বিকল্প শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করে দেখে নেয়া যায়); অথবা, (গ) মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন; অথবা, (ঘ) আপনার কম্পিউটারে অভ্র কীবোর্ড স্থায়ীভাবে ইনস্টল করে নিয়ে। কীবোর্ডগুলোর ব্যবহার বা লে‌-আউট জানা না থাকলে "বাংলা বর্ণমালা বিভ্রাট" লিংক অথবা "বাংলা কীবোর্ড লে-আউট" লিংক থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। এরপরও সমস্যার সম্মূখীন হলে ব্লগ এডমিন এর কাছে সাহায্যের জন্য লিখুন।