‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া’: বাংলা ব্লগের ভূমিকা
আমাদের মনে হয় এই আলোচনাটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করা দরকার। আলোচনাটা মডারেটর গ্রুপে প্রথম শুরু হয়েছিল। কিন্তু এর সামষ্টিক গুরুত্ব বিবেচনায় এখন তা পোস্ট আকারেও তুলে দেয়া হল সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে।
‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া’ বলে বলে আমরা সবসময় গলা শুকিয়ে ফেলি। কিন্তু ব্লগ বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ঠিক কি অর্থে এবং কিভাবে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ সে বিষয়টা মনে হয় আমাদের নিজেদের একটু ঝালিয়ে নেয়ার সময় এসেছে এখন। সে অনুযায়ী লেখালিখির ধরণ এবং কনটেন্টের বিতর্কিত বিষয়গুলোতেও আলোকপাতের এখনি সময়। যে লেখা মূল ধারার পত্রপত্রিকায় বিনা প্রশ্নে ছাপানোযোগ্য তা যদি বিনা প্রশ্নে ব্লগেও ছাপানোর যোগ্য হয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্লগ প্লাটফর্ম হিসেবে আমাদের নিজেদের ভূমিকা আরেকটু গভীরভাবে পুনঃর্বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে।
১) ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ মানে কি সম্পাদক অমুক কিংবা সম্পাদক তমুক এর কাটাছেঁড়া থেকে মুক্তিলাভ?
২) নাকি কর্পোরেট পূঁজির বিপরীতে বিনা (কিংবা সামান্য) খরচে ওভারহেড কমিয়ে ব্লগ চালানো?
৩) ব্লগ কি just another online magazine/platform গোছের কিছু?
৪) নাকি আঞ্চলিক ভাষায় লিখলেই তা “ইন্ডিপেন্ডেন্ট” হয়ে যায়?
৫) ব্লগ কি যেমন খুশি তেমন লেখার খাতা? এখানে ব্যক্তিগত খেয়াল এবং ‘খুশি’ই কি মূল বলে বিবেচ্য নাকি বৃহত্তর কোন লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী কমিটমেন্ট থাকা দরকার তাতে?
৬) ব্লগে লেখা কি কেবল সময় কাটানো? বিনোদন? ব্লগ কি কেবলই ‘কথা’? নাকি ব্লগে লেখাও একটা সিরিয়াস ‘কাজ’? যদি কাজ বলে ধরে নিই একে, তবে কি হওয়া উচিত এর ধরণ এবং প্রকাশ ভঙ্গী?
এই বিষয়গুলো আমাদের ভাবা দরকার। পৃথিবীর আর সব প্রান্তের প্রধান প্রধান ব্লগ প্লাটফর্মগুলো যখন মূল ধারার মিডিয়ার সাথে সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে চলেছে, তখন আমাদের বাংলা ব্লগগুলো এখনো উপরিতলের কিছু বিতর্ক (যেমন: ভাষার ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে) নিয়েই বেশী ব্যস্ত। এখনো mediocrity থেকেই উত্তীর্ণ হতে পারছি না আমরা ব্লগ হিসেবে; সমাজ বা পরিপার্শ্ব পাল্টানো তো অনেক দূরবর্তী বিষয়। পরিপার্শ্বকে সফলভাবে বদলে দেয়ার মতো কিংবা নিদেন পক্ষে নাড়া দেবার মতো জোরই আমাদের তৈরী হয়নি এখনো। এভাবে এগোতে থাকলে তা হয়তো কোন দিনই হবে না বলে আমাদের আশংকা।
সবার মতামত পেলে ভাল হয়।
ধন্যবাদ।
১৬ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:
আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।















৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
স্বাধীন মিডিয়া এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সবাই মনে হয় চমস্কি-হারম্যান এর “ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট” বইটি অবশ্য অবশ্যই পড়ে নিতে পারি। সেখানে গত বাঁধা মিডিয়ার চরিত্রের ভাল বর্ণনা রয়েছে। সেটা পড়লে অন্তত কিছু ধারণা পাবো – what not to be done!
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
ওয়াল্টার লিপম্যানের এই বইটিতে উল্লেখিত ‘manufacture of consent’ এর ধারণা থেকেই চমস্কি-হারম্যানের নামকরণ অনুপ্রাণিত:
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
ব্যাপারটা নিয়ে আসলে গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে। আমরা যদি গতানুগতিক মিডিয়া ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারি, তাহলে ব্লগ-এর ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা, এর ভিন্নধর্মী পাঠক সৃষ্টির প্রচেষ্টা এবং ব্লগ-এর লেখা, সমালোচনা ও বিভিন্নধরণের পজিটিভ মন্তব্যের ফলে সামাজকে প্রভাবিত করার প্রয়াস ও ব্লগের মাধ্যমে সত্যিকারের সত্যকে সত্য ভাবে উপস্থাপনার সাহসী ভূমিকা সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। আমরা স্বাধীন, সাহসী মুক্তচিন্তার প্রতিফলন, নিমর্ম সত্যকে সাহসিক মানসিকতায় উপস্থাপনের প্রতিফলন চাই ব্লগগুলোতে। এর সাথে সাথে বাংলা ব্লগগুলোর পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধির কৌশল নিয়েও চিন্তার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
[...] starts off an interesting freewheeling discussion about the role of Bangla blogs and why it is still not at par with some of the leading blog [...]
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া’: বাংলা ব্লগের ভূমিকা, এই শিরোনাম সহযোগে একধরনের প্রত্যয়ই মূলত প্রকাশ করা হলো। শিরোনামকে প্রথমেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়, ’ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বলতে মুক্তাঙ্গন নামের ব্লগটি আসলে কী মিন করতে চাইছে? আমি আমার অতি ক্ষুদ্রজ্ঞানে বলতে চাই যে, মানুষের উপর সবধরনের শাসন-পেষণের একেবারে দূরীভূত না-হওয়া পর্যন্ত সে স্বাধীন হতেই পারে না। সেই শাসন-পেষণের উৎস কী? রাষ্ট্র, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, ভাষা — এর সবই তো কোনো না কোনোভাবে তার স্বাধীনতাকে ম্রিয়মাণ করছে। এখানে মুক্তাঙ্গন মূলত প্রিন্ট মিডিয়ার বাইরে ( যা গড়ে উঠে সম্পাদকীয়/ উপসম্পাদকীয়কে কেন্দ্র করে) মতপ্রকাশের একধরনের ধারণাকেই প্রকাশ করছে। এই যে স্বাধীন হওয়া, তাও-বা কী করে হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। মুক্তাঙ্গন যখন তাদের সাথে একটা চুক্তিতে আমায় শৃঙ্খলিত করল, তখনই আমার স্বাধীনতা তো স্বাভাবিকভাবেই নড়বড়ে হয়ে গেল। মানুষ মূলত জন্মের পর-পরই শৃঙ্খলের পর শৃঙ্খল পেরোতে পেরোতেই তার জীবন বহন করে। ব্লগচর্চায় সম্পাদনার আপাত-ছুরি নেই, গায়ে গায়ে লাগানো খবরদারি নেই; কিন্তু নিয়ম আর রুচির এক দৃশ্যহীন বাধনের কথা কিন্তু বাদ দেয়া যায় না। এ আসলে একধরনের সভ্যতা লালনেরও চেষ্টা বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। এই যে সভ্যতা, নীতি, ধর্ম, রুচি; ইত্যাদির কোনো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেই। অষ্টপ্রহরই তা এক রিলেটিভ টার্ম।
আরেকটা বিষয়ে মুক্তাঙ্গন একেবারে শূচিবায়ুগ্রস্থ, তা হচ্ছে, আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারে একেবারেই এরা অনীহ! এই ব্রাহ্মণত্যের মাজেজা কী, তা তারাই ভালো বলতে পারবে। আচ্ছা, ভাষা তো ভাব আনাদ-প্রদানের এক জীবন্ত সত্তারই নাম। বাস্তবতা, সময়, প্রয়োজনই একে বদলে দেয়। শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণে যে জনসমাজের স্ফূরণ আছে- সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যক্তিমানসের উপর দীর্ঘস্থায়ী দাগ রয়ে গেছে, তাকে কী বলা যায়? কেউ যদি এই স্রোতের বাইরে আসতে না-চায়, জনমানসের বিকাশের এই সাংস্কৃতিক ধারাকে লালন করে, তজবী জপার মতো এতে নিমগ্ন হয়, চর্চা করে- এই ব্যাপারে মুক্তাঙ্গন কী করতে পারে। কেউ যদি মনে করে, প্রমিত ভাষা আমার ভাষা নয়, রাষ্টনির্মিত এক অতি যান্ত্রিক ভাষা, আমি এর চর্চা করব না- তাহলে মুক্তাঙ্গন কী করবে। বাংলা কি আঞ্চলিক ভাষা? পৃথিবীর কোনো ভাষাই কি আঞ্চলিক হতে পারে? আর ভাষার সীমান দিয়ে মানুষকে বাধা যাবে। আমার তো মনে হয় পৃথিবীতে যত বুঝদার মানুষ আছে, প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা ভাষা আছে। প্রত্যেকটা বোবা, এমনকি প্রতি অন্ধেরও আলাদা ভাষা আছে বলে আমি আমার জ্ঞানে রাখি। এক-একজনের কথার ধরন, সরবতা/নীরবতা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, হাসি-কান্না একেবারে আলাদা। কথনরীতিতে যে সাহিত্য চর্চা হতে পারে তার জন্য আমাদেরকে ১৭ শতক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আর ভাষাকে কি উপরিতলের সমস্যা বলা যায়? একটা সমাজের সাংস্কৃতিক আবহ নির্মাণের প্রধান সোপানই তো ভাষা। বু্দ্ধিআশ্রয়ী মধ্যবিত্তের মূল বাহাদুরীটাই তো চলে ভাষাযোগে। ব্লগচর্চা মূলত প্রিন্ট মিডিয়ার অলটারনেট ইন্টেলেকচুয়েল ফোর্স হিসাবে (ক্ষীণ আকারে হলেও) আসছে। প্রিন্ট মিডিয়ার বাজার আছে, রুচি বহনের চেষ্টা আছে। এখানকার বাজার তাহলে কী? বু্দ্ধিবৃত্তিক বিন্যাসের সাংস্কৃতিক আবহই এর আপাত বিমূর্ত বাজার? তাও হতে পারে! তবে ব্লগের একটা মুশকিল হচ্ছে, এতে সিরিয়াসলি কাজ করার প্রবণতা বেশ কম। যেভাবেই হোক নিজেকে জিতিয়ে আনার প্রবণতা এখানে প্রবল। একধরনের অসহিষ্ণু মেজাজ এখানে তৈরি হয়। স্বভাব নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার চান্স এই ক্ষেত্রে প্রায়শই নজরে পড়ে। নিজেকে প্রচারের একধরনের প্রতিযোগিতাও কদাচিত লক্ষ করা যায়। একটা কক্ষে বসে, বোতাম টিপে টিপে একধরনের লড়াইয়ে লিপ্ত হতে হতে জনসমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকার নেশা চাপে কারও কিনা, তা নিয়েও আমি শঙ্কিত। এসবকে চিন্তা-ভাবনায় রেখে বু্দ্ধিবৃত্তিক চর্চাটুকু জনসংস্কৃতির দিকে বাসনা রেখে চালিয়ে যেতে পারলে ইন্টারনেটের একধরনের সুফল পাবলিকলি অর্জন করা যেতেও পারে। কারণ এখানে আর যাই হোক, সরকারি, বেসরকারি, বিজ্ঞাপনী সংস্থার নিয়ন্ত্রণ যেমন নেই, তেমনি প্রিন্ট মিডিয়ার রুচিমাফিক বুদ্ধিজীবী পোষার কারখানাও তো ব্লগ নয়। একধরনের স্বাধীনতা (কিঞ্চিৎ লাগামযুক্ত) তো ব্লগাররা ভোগ করতে পারছেন।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
Manufacturing Consent বইটি এখনো পড়া হয়নি। তবে এই লিঙ্কটিতে বইটি সম্পর্কে একটা আলোচনা আছে। সম্প্রতি একটি সেমিনারে চমস্কি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাঁর এই propaganda model টি ব্লগিং এর ক্ষেত্রে খাটে কিনা (তিনি এই বইটি লিখেছেন ইন্টারনেট উদ্ভবের আগে)। তিনি বললেন খাটে। তবে তাঁর উত্তরের ধরন শুনে মনে হলো তিনি ব্লগ বা ইন্টারনেট নিয়ে খুব একটা স্বচ্ছন্দ নন। ইন্টারনেটে জীববিজ্ঞান সম্পর্কে পড়ে কেউ জীববিজ্ঞানী হতে পারে না, এমন একটা কথা তিনি বললেন (এমন দাবি কেউ করেছে কিনা আমার জানা নেই)। ব্লগ বিষয়ক আলোচনাতে তিনি অনেকটা অপ্রাসঙ্গিকভাবে নিকারাগুয়াতে আমেরিকান ‘ধ্বংসযজ্ঞের’ কথা উঠালেন। যাই হোক, সবাইকে বইটা পড়া না হলেও এই লেখাটি এবং ভিডিওটি দেখতে অনুরোধ করছি।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
মুনিমকে ধন্যবাদ লিংক দুটির জন্য। ভিডিওটা দেখা গেল না; এখানে স্পিড খুবই কম। ডাউনলোড করে নিয়ে দেখার কথা ভাবছিলাম, কিন্তু তাও সম্ভব হলো না – বেশ বড়ো ফাইল, ডাউনলোড হতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাবে!
‘ম্যানুফাকচারিং কনসেন্ট’-এর প্রথম অধ্যায় ‘প্রচারণা মডেল’-এর লিংকটা পাওয়ায় ভালো হলো (সারণী ও টীকাগুলি এখানে বাদ পড়েছে)। সেই সঙ্গে চম্স্কি আর হারম্যানের লেখার অনলাইন আর্কাইভেরও খোঁজ মিলল! যাঁদের সংগ্রহে বইটা নেই, তাঁরাও চট করে প্রধম অধ্যায়টা ওই লিংক থেকেই পড়ে নিতে পারবেন। পুরো বইটারই বাংলা অনুবাদ এখন পাওয়া যায় – ‘সম্মতি উৎপাদন : গণমাধ্যমের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ (অনুবাদক: আ-আল মামুন, প্রকাশক : ‘বাংলাদেশ অনুবাদ সংসদ’-এর পক্ষে ‘সংহতি’, বাংলা সংস্করণের প্রকাশকাল : পৌষ ১৪১৪ / জানুয়ারি ২০০৮)। আমি অনুবাদটাই পড়ার চেষ্টা করছি। যাঁদের আগেই পড়া আছে তাঁরা সরাসরি বইটা নিয়েই আলোচনার সূত্রপাত করলে ভালো হয়।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
[...] starts off an interesting freewheeling discussion about the role of Bangla blogs and why it is still not at par with some of the leading blog [...]
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
Independent Media – যাকে আমরা বাংলায় ‘স্বাধীন প্রচারমাধ্যম’ বলছি, আসলে এক অলীক কল্পনা। এরকম কিছু কখনো ছিল না, এখনও নেই, সামনেও হবে না। প্রচারের মাধ্যম সব সময় যার প্রচার করতে হবে তার কথাই বলে : এক্ষেত্রে চাইনিজ পিপলস ডেইলি যা আমেরিকার নিউইয়র্ক টাইমসও তা। কেউই এরা স্বাধীন নয়। আর যে প্রচার মাধ্যম পাঠকের অর্থে পরিচালিত সে মাধ্যম গুলোও স্বাধীন নয়, কারণ তারা একটি পরিচালনা কমিটি দ্বারা কাজ করে থাকে।
ব্লগ কোনো ‘প্রচারমাধ্যম’ নয়। আমি অন্তত একে প্রচারমাধ্যম ভাবি না। ব্লগ আমার কাছে ‘মতামত’ জানাবার জায়গা, প্রচার করবার নয়। আবার এখানে মতামত জানানোটা সামনাসামনি actively হচ্ছে না, হচ্ছে ইন্টারনেটের আড়ালে, মানুষের সাথে মানুষের। actively হচ্ছে না মানে এ নয় যে ব্যাপারটি passively হচ্ছে, এর মানে আসলে electronically হচ্ছে। কিন্তু এখানেও কাউকে উদ্যোগ নিতে হয়, কাউকে এর পেছনে সময় দিতে হয়, কোন মতামত থাকবে কোন মতামত থাকবে না, এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এদিক থেকে ‘প্রচার’কে জড়াতে হয়, এবং ব্লগকে প্রচারমাধ্যমই হতে হয়।
কিন্তু স্বাধীনতা নিয়ে আমি ঠিক ভাবছি না, প্রশ্নটি আসলে স্বাধীনতার নয় ক্ষমতার। এখন ব্লগ যদি ক্ষমতাবান হয়, তাহলে সে ব্লগ ক্ষমতার ভাগাভাগির দিকে এগিয়ে যাবে, যেমন সব প্রচারমাধ্যম এখন যার যার ক্ষমতার ভাগ উপভোগ করছে। আমার আশা ব্লগ ক্ষমতাবান হবে না, ক্ষমতার ভাগ নেবে না : আর এই অক্ষমতাই তাকে ক্ষমতা নিয়ে কথা বলার বড় জায়গায় রাখবে, ক্ষমতাকে তার অক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেবে।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
মাসুদ করিমকে ধন্যবাদ। ব্লগ কখনও বিকল্প-প্রচার মাধ্যমও হওয়ার কথা নয়। এটি একটি সমন্বয় ধরনের সৃজননশীল কর্ম ধরা যাবে কিনা তাও ভাবার বিষয়। কারণ এভাবে তা ধরা যাচ্ছে কি? ধরা যাক, একটা গল্প বা কবিতা সৃষ্টির ব্যাপারটাই- এতেও কি সমন্বয়ের কোনো বিষয় থাকে না? চিন্তার ক্ষেত্র, পঠন-পাঠন, শব্দ, বাক্য, ব্যাকরণ, লেখার মাধ্যমেও তো নানান জনের সৃজনশীলতার স্পর্শ আছে। কাজেই মৌলিক সৃজনশীলতা কদ্দূর মৌলিক তা নিয়েও যখন প্রশ্ন রাখা যায়, ব্লগের মতামতকেন্দ্রিক আবহটি সমন্বয়ের একটা বিষয় তো থাকছেই। কিন্তু তাই বলে যে কেউ তার মতামতের জায়গাটি বিনাশর্তে ছেড়ে দিচ্ছে, নাকি ছেড়ে দেয়া যায়? আসলে এখানে নিজের মতামতকে শান দেয়া হয় মাত্র!
তাহলে কি ব্লগ সময়্ ক্ষেপনের জায়গা, একি একধরনের বিনোদন? তাও নয়, এক্ষেত্রে কাজ নিশ্চয়ই কিছু হয়। তা একান্তভাবেই নির্ভর করে নির্দিষ্ট ব্লগারের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণের ধরন, এতে লেগে থাকার বিষয়টাতেই।
এটি কী করে বিকল্প প্রচার মাধ্যম হতে পারে তা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আর জনগণের বা সমাজের মানুষের স্বাধীন বস্তুনিষ্ঠ মতামত বলতে কিছু কি আছে? প্রত্যেক চিন্তাশীলতাই ব্যক্তির বোধ, সোস্যাল স্ট্রাকচার, রাষ্ট্রের হুকুমতনামার সমন্বয়ে একধরনের অবস্থায় থাকে। সেই চিন্তাশীলতা ব্যক্তির বোধকে কিভাবে উন্মুক্ত বা নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটা তার সৃজণশীলতার তাড়না থেকেই অবস্থান নিয়ে থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে মোকাবেলা করার ধরনই তার সৃজনশীলতার চূড়ান্ত-ফয়সালা হয়। এতে সমাজের নানান উপাদান তাকে সহযোগিতা করে যায়। এর ভিতর ব্লগও একটি মাধ্যম মাত্র।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
অনেকদিন আগে পড়া আবু হাসান শাহরিয়ারের সমাত্মজীবনী : মিডিয়া ও প্রতিমিডিয়া (সাহিত্য বিকাশ, ঢাকা, আগস্ট ২০০৪) বইটির কথা মনে পড়ছে। প্রতিষ্ঠিত প্রচারমাধ্যমসমূহের বিপরীতে গ’ড়ে ওঠা ‘স্বাধীন’ প্রকাশমঞ্চের চারিত্র্য তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এর সমস্যা-সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। প্রাঞ্জল গদ্যের গুণে বইটি সুখপাঠ্য। এডওয়ার্ড এস. হারম্যান ও নোয়াম চমস্কি-রচিত Manufacturing Consent: The Political Economy of the Mass Media (1988) বইটি আমার পড়া নেই — অন্তত নামসূত্রটুকু ধরিয়ে দেওয়ার জন্য রায়হান রশিদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে আলোচ্য পোস্টের সঙ্গে যেহেতু এ-বইয়ের আন্তর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তাই যাঁরা ইতিমধ্যে এটি পড়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে একটু বিশ্লেষণধর্মী মতামত পেলে ভালো লাগত। মোহাম্মদ মুনিমকে ধন্যবাদ দু’টি মূল্যবান লিঙ্ক সংযোজন করার জন্য। ব্লগ নিয়ে ইতিপূর্বে ইনসিডেন্টাল ব্লগারের একটি লেখাও প্রকাশিত হয়েছে ‘মুক্তাঙ্গন’-এ (২২ জুলাই ২০০৮)।
২
মুক্তাঙ্গন লিখেছেন :
আলোচ্য বিষয় যখন ‘প্রচারমাধ্যম’, তখন তার বাহন ‘ভাষা’কেই ‘উপরিতল’-আশ্রয়ী ব’লে উপেক্ষা করার সুযোগ আছে কি? ‘খোলা নৌকার পাটাতনে’ কবিতায় জানাচ্ছেন শিহাব সরকার :
(বিচিত্রা, ঈদসংখ্যা ১৯৯৩)
এ কেবলই কবির শব্দবিলাস? ভাষা যেমন বক্তব্যকে প্রকাশ করে, তেমনি বিকৃতও কি করে না? বেশ কিছুদিন আগে অন্য ব্লগে একটি লেখার শিরোনাম দেখেই আঁতকে উঠেছিলাম — তাহলে এ-ও সম্ভব! এখনও ব্লগপাতায় যত্রতত্র দেখা যায় এরকম ‘স্বচ্ছন্দ’ ভাষার নমুনা : ‘ওস্তাদ, দারুণ মার্ছেন’, ‘চালায়া যান, লগে আছি’, ‘কষে একখান মাইনাস’ ইত্যাদি। তাহলে বল্গাহীন হওয়াই কি ব্লগের বৈশিষ্ট্য? আর যে-ব্লগ এই শখের আখড়া হয়ে উঠতে অনিচ্ছুক, তাকে কি বলতে হবে ‘শুচিবায়ুগ্রস্ত’?
শুধু লেখা দিয়ে, বক্তৃতা দিয়ে, সমাজের খোলনলচে পাল্টানো যায় ব’লে আমার মনে হয় না। ফরাশি বিপ্লবে ভলতেয়ারের কলমের ভূমিকা নিশ্চয়ই গৌণ নয়, কিন্তু বঙ্গদেশের কথাও যদি ধরি, কেবল কলম পিষেই কি রামমোহনের পক্ষে সতীদাহপ্রথা বন্ধ করা সহজ হত যদি না জুটত উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের প্রশাসনিক আনুকূল্য? আইনের কথা যদি না ভাবতেন, তাহলে কি বিদ্যাসাগরও পারতেন বিধবাবিবাহ চালু করতে? তবে মসি দিয়েই লড়তে হয়েছিল মূলত — সমাজপরিবর্তনের সুবাদে সাবালক হয়ে উঠছিল বাঙলা গদ্য। খাগড়া-কালির বদলে এখন কম্পিউটার, পার্থক্য এটুকুই।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
প্রিয়জন মুয়িন, আমি যেহেতু শুচিবায়ুগ্রস্ত শব্দটি ব্যবহার করেছি, কাজেই আমার কামনা-বাসনাও ক্লিয়ার করে রাখা দরকার। মুয়িন যে শব্দসমূহ (‘ওস্তাদ, দারুণ মার্ছেন’, ‘চালায়া যান, লগে আছি’, ‘কষে একখান মাইনাস’) উদারহরণ হিসাবে দেখালেন, আমি ভাষা নিয়ে এধরনের ফাজলামো করতে চাই না। আমার লেখার মূলস্বরটিও তা নয়। আমি স্পষ্টতই বুঝাতে চাই যে, ভাষা তার প্রবহমানতার জোরেই আঞ্চলিক কিংবা লৌকিক ঢঙে ভর করতে পারে। কাজেই কাউকে অহেতুক বেকায়দাই ফেলার পূর্বে আমার লেখার স্পিরিটটি ধরতে অনুরোধ করব।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
সংশোধন : উদ্ধৃত বাক্যের (এই পোস্টের ৮.১ মন্তব্যের শেষ লাইন) আমার শব্দটির স্থলে তার পড়তে অনুরোধ করছি।
সংযোজন : লৌকিক ভাষাচর্চা আমার সৃজনশীলতায় মাঝে মাঝে কেন অপরিহার্য, তা এরই মধ্যে, এই ব্লগেই আমার কর্তৃক প্রয়োগ করতে হয়েছে।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
চমস্কি সাহেবের propaganda model এর বিষয়ে পড়ে যেটা বুঝলাম সেটা হলো পশ্চিমা মিডিয়া পুঁজির দাপটে কমতে কমতে (consolidation) অল্প কয়েকটি মিডিয়া গ্রুপে এসে ঠেকেছে এবং তারাই তাদের খুশিমত (যা করলে ব্যবসা বাড়বে) সংবাদ আর সংবাদের বিশ্লেষণ পরিবেশন করছে। Propaganda model টি ১৯৮৮ সালে লেখা হলেও ৯০ এবং বর্তমান দশকে মার্কিন মিডিয়া জগতে আরও প্রকটভাবে এই consolidation এর ব্যাপারটি হয়েছে। CNN, টাইম পত্রিকা আর ওয়ার্নার কম্যুনিকেশন মিলে হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিকট আকারের মিডিয়া কর্পোরেশন, রুপার্ট মারডকের আছে ফক্স নিঊজ, ন্যুইয়র্কের মেয়র ব্লুমবার্গ সাহেবের আছে ব্লুমবার্গ নিউজ, এই সব মিলিয়ে গোটা দশেক মিডিয়া কর্পোরেশন এরাই আমেরিকার প্রচারমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। মার্কিন সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (অনেকটা বিবিসির আদলে তৈরি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যাদের বিজ্ঞাপন দাতাদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকার কোন প্রয়োজন নেই) সেখানেও কর্পোরেট পুঁজি endowment এর আকারে ঢুকে পড়েছে (যেমন ম্যাকডনাল্ডস দিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার, ২০০৩ সালে)। এর ফলে প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকছে না, সাংবাদিকরা (সংবাদ দাতা, সংবাদ পাঠক, সংবাদ প্রযোজক, বিশ্লেষক) এরা যতটা না সাংবাদিক, তার চেয়ে বেশী পারফর্মার। পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো কাগজে কলমে স্বাধীন, সরকারি খবরদারী নেই, মাস্তানের হুমকি ধামকি নেই, এমনকি বিজ্ঞাপনদাতাদেরও কোন সরাসরি চাপ নেই, চাপ মূলত একটাই, প্রোগ্রামের রেটিং, কতজনে প্রোগ্রাম দেখছে, প্রোগ্রাম বিক্রি করে কতটাকা আসছে, কারণ মিডিয়া নিজেই একটি কর্পোরেশন, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে সে নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলছে।
কর্পোরেট পুঁজি এবং বিজ্ঞাপনের চাপ ছাড়াও আরও কিছু চাপ আছে, সংবাদদাতার চাপ (যেমন পেন্টাগন ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় সাংবাদিকদের নিয়ে গিয়েছিল, ফক্স নিউজের এক সংবাদদাতা সে সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ব্যাপার তাঁর রিপোর্টিংয়ে প্রকাশ করেন, তাঁকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হয়)। পেন্টাগন যেহেতু নিজেই অনেক খবরের উৎস, সংবাদ পরিবেশনের সময় এ জাতীয় উৎসকে না খ্যাপানোর একটা ব্যাপার থাকে। এছাড়া আছে অপপ্রচার (flack), বড় বড় কর্পোরেশনগুলো সাধারণত পাবলিক রিলেশনে ব্যাপক অর্থ খরচ করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কোন খবর গেলে তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক পালটা প্রচারণা করা হয়, তাছাড়া পালটা মামলার ভয় থাকে। কয়েক বছর আগে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি প্লান্টে (টেক্সাসে অবস্থিত) আগুন লেগে বেশ কয়েকজন কর্মী মারা যান, নিহত এবং আহতদের পরিবারের সবাইকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে খবরটাকে মোটামুটি ব্ল্যাক আঊট করা হয়। সেই প্ল্যান্টে শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ে বেশ কিছু গাফিলতি ছিল, কিন্তু এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমে তেমন আলোচনা হয়নি। চমস্কি সাহেব সংবাদ মাধ্যমগুলোর কম্যুনিজমের জুজু দেখানোর প্রবণতার কথাও লিখেছেন, এখন সেটা নেই, এখন ইসলামী সন্ত্রাসবাদ আছে, সেটার দোহাই দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগূলো মাঝে মাঝে সেনসেশনাল সংবাদ পরিবেশন করে। ওবামার বাবা মুসলিম হওয়াতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় তিনি গোপনে মুসলিম কিনা এ জাতীয় ব্যাপক ফালতু আলাপ গনমাধ্যমগুলো করেছিলো।
চমস্কি সাহেব তাঁর মডেলটি প্রধানত আমেরিকান এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করালেও তিনি দাবি করেছেন এই মডেলটি সারা দুনিয়াতেই খাটে, ব্যাপারটা সম্ভবত সত্য। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো উপরের ফ্যাক্টরগুলো দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত, তার উপর সরকারি খবরদারি আছে। ইনকিলাবকে সরকারি বিজ্ঞাপনের ব্যাপক অংশ দিয়ে উদারপন্থি সংবাদপত্রগুলোর উপর চাপ দেয়া হয়েছিল। তবে এখন বাংলাদেশে মোবাইল কোম্পানীগুলো ব্যাপক অর্থ খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয়ায় সরকারি বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরতা কমার কথা।
বাংলা ব্লগ এবং ইংরেজী ভাষায় বাংলাদেশ বিষয়ক ব্লগগুলো সে অর্থে অনেকটাই স্বাধীন। তবে ব্লগিং অনেকটাই ফাজলামোর পর্যায়ে আছে বলে ব্লগগূলোতে যা লেখা হয় তা খুব একটা পাত্তা পায় না। একেবারেই যে পায়না তা নয়, বিগত মঈন ইউ আহমেদ সরকারকে যে মানে মানে সরে যেতে হয়েছিল, তাতে ব্লগোস্ফিয়ারের নিশ্চয় কিছু অবদান ছিলো। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জেলে পুরে, নির্বাসনে পাঠিয়ে, ছাত্রদের দাবড়ানি দিয়ে, দেশবাসিকে আলু খাওয়া শিখিয়ে পাকিস্তান স্টাইলে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা নিশ্চয় তাঁর ছিল, কিন্তু আধুনিক প্রচারমাধ্যমের চাপেই তিনি সে পথে যাননি। এখন যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছে, আশির দশকে জন্ম নেয়া ছেলেমেয়েরা এ ব্যাপারে মতামত দিচ্ছে, অনলাইন লাইব্রেরি তৈরি করছে, ব্লগ না থাকলে সে প্লাটফরমটাই তো তৈরি হতো না। বাংলাদেশ ইন্টারনেট সুলভ না হওয়ায় ব্লগ সে অর্থে মাঠ পর্যায়ে যায়নি, জনগনের কাছে যায় নি, খুব শিঘ্রি হয়তো যাবেও না, কিন্তু মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন ঠিকই ব্লগ লিখছে, পড়ছে এবং মত বিনিময় করছে। একটা পোস্ট যখন হাজার হাজার লোকে পড়ে, ফাজলামোর সুরে হলেও চল্লিশ পঞ্চাশ জন কমেন্ট করে, সেটা অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠে। চীন ব্লগারদের ঠেকাতে ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ তৈরি করেছে, ইরান ব্লগারদের জেলে পাঠাচ্ছে, ব্লগের অসাধারণ শক্তি আর সম্ভাবনার কারণেই সেটা হয়েছে। বাংলা ব্লগও ফাজলামোর পর্যায় অতিক্রম করে এমনই শক্তিশালী অবস্থানে যাবে, এটাই আশা এবং বিশ্বাস।
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
David D. Perlmutter-এর ব্লগ-বিষয়ক বই Blogwars (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ২০০৮) এখন ই-বই হিসেবেও পাওয়া যায়। ব্লগ প্ল্যাটফর্মের কালানুক্রমিক বিকাশ তো বটেই, সেই সঙ্গে এই বইয়ে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে রাজনৈতিক ব্লগিং-এর প্রসঙ্গ। Blogwars আমাদের এই আলোচনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। ই-বইটি ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে এখান থেকে। এর উৎসর্গপত্র ও সূচি এরকম :
আর ভূমিকার এক জায়গায় লেখক জানিয়েছেন :
৩০ অগ্রহায়ন ১৪১৬ [মন্তব্য-লিন্ক]
অনেক ধন্যবাদ, সুমন। পামুটার এর বইটি এখানেও এমবেড করে দিচ্ছি, যাতে আগ্রহীরা এখান থেকেও পড়ে নিতে পারেন।
[দ্রষ্টব্য: ভিউ প্যানেলে ৭০% বা ততোধিক করে নিলে পড়তে সুবিধা হতে পারে; সেইসাথে পিডিএফ ভিউয়ার প্যানেলে মাউসের ডান বোতাম ক্লিক করে অপ্রয়োজনীয় টুলগুলো/প্যানেলগুলো সরিয়েও নেয়া যেতে পারে।]