মুক্তাঙ্গন

মুক্তাঙ্গন


সংক্ষিপ্ত পরিচিতি



“সমকামিতা অপরাধ নয়”, দিল্লী হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

গত ২ জুলাই ২০০৯ ভারতের দিল্লী হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ যুগান্তকারী এক রায়ের মাধ্যমে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমকামি সম্পর্ক’ ফৌজদারী অপরাধের তালিকাভুক্ত হবে না বলে ঘোষণা করেছে। বিচারপতি এস মুরলিধর এবং বিচারপতি অজিত প্রকাশ সাহার দেয়া সুলিখিত এই রায়টির পুরো কপি এখান থেকে ডাউনলোড করে নেয়া যাবে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (১৮৬০) এর ৩৭৭ ধারার বিধান অনুযায়ী যে-কোনো ধরণের সমকামি সম্পর্ক এত দিন পর্যন্ত ‍”অস্বাভাবিক এবং অনৈতিক” ধরে নিয়ে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো। ১৪৮ বছরের পুরনো বিধানটি এরকম:

Section 377: Unnatural offences: Whoever voluntarily has carnal intercourse against the order of nature with any man, woman or animal, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

Explanation: Penetration is sufficient to constitute the carnal intercourse necessary to the offense described in this section

নাজ ফাউন্ডেশনের দায়ের করা এই জনস্বার্থমূলক মামলাটির রায়ে আদালত সমকামিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির এই ধারাটির অপপ্রয়োগকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং অসাংবিধানিক বলে অভিমত দিয়েছে। আদালতের মতে এই প্রয়োগ ভারত সংবিধান স্বীকৃত কয়েকটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, যেগুলো হল: আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুছ্ছেদ ১৪), বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা (অনুচ্ছেদ ১৫), জীবনধারণ এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১)। [ভারতীয় সংবিধানটি এখান থেকে ডাউনলোড করা যাবে]। রায়টির অব্যবহিত পরেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রায়টিকে স্থগিত করার জন্য সুপ্রীম কোর্টের কাছে আবেদন করা হয় যা মঞ্জুর হয়নি

রায়টির সম্বন্ধে আরও জানতে নিচের কয়েকটি ব্লগ পড়ে দেখা যেতে পারে:

– বিক্রম রাঘবন – Navigating the Noteworthy and the Nebulous in Naz Foundation – পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩
– নিবেদিতা মেনন – The Day After the Judgement [এখানে]
– রাহুল সিদ্ধার্থন – Is 377 now 404? [এখানে]

বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া

১)
ভারতের ২৩ টি শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সর্বমোট ১৮০ জন স্বাক্ষর প্রদানকারী শিক্ষক, অধ্যাপক এবং গবেষক এই রায়ের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানানোর পাশাপাশি একে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষিত এবং প্রগতিশীল সমাজের এতদিনকার অস্বাভাবিক নীরবতার কথা উল্লেখ করে (“We in the academic community have had a hitherto silent engagement with the pain, harassment, fear and discrimination that comes with being non-heterosexual/queer”) স্বাক্ষরকারীগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন:

But sexual preference and identification is only one part of people’s identities. We believe that a modern democracy must respect diversity regardless of whether consensus exists in society on the desirability of each such practice, provided such practices respect the personhood of others. There need not be consensus in society, for instance, on either meat-eating or vegetarianism as desirable, provided both groups are free to follow their dietary preference.

২)
ইন্টারন্যাশনাল এইডস সোসাইটি সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনসমূহ এই রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে ভারত সরকারের প্রতি এর সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

৩)
সম্ভবত প্রথমবারের মত ভারতের সকল ধর্মীয় গ্রুপ এই রায়টির বিরুদ্ধে অবস্থানের দিক থেকে একাত্ম হতে পেরেছে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: জামায়াতে ইসলামী, আর্য সমাজ, শিরমনি গুরদুয়ারা প্রাবন্ধিক কমিটি, ওয়ার্লড ফেলোশিপ অফ রিলিজিয়ন, ক্যাথলিক বিশপ কনফারেন্স, দারুল উলুম দেওবান্দ, মুসলিম ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড, চার্চ অফ সাউথ ইন্ডিয়া, সর্বধর্ম সদ্ভাব ফোরাম, এবং বিভিন্ন জৈন বৌদ্ধ শিখ রামকৃষ্ণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। রায়টির সমালোচনায় তাদের অবস্থান হল – (ক) সমকামিতা ধর্মীয় বিধানের পরিপন্থী, (খ) সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী, (গ) ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী, এবং (ঘ) প্রকৃতি এবং স্বাভাবিকতার পরিপন্থী। এখানে এবং এখানে দেখুন।

৪)
পাশাপাশি, ভারতের এসইউসিআই (Socialist Unity Centre of India) দিল্লী হাইকোর্টের রায়টির তীব্র সমালোচনা করে রায়টি বাতিল করার এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। [এখানে]। এসইউসিআই এর পার্টি মুখপত্রে ছাপানো প্রতিবাদটি এরকম:

Comrade Nihar Mukherjee, General Secretary, SUCI, in course of a statement issued on 3 July, 2009, said that this ruling is a transgression on the part of the judiciary to extend to a sphere which is always governed and guided by social opinion, social interest and socio-cultural ethical necessities. This judgment, Comrade Mukherjee observed, will simply open the floodgate of degraded degenerated imperialist culture that among other things instigates perversion and sexual promiscuity with the vile objective of destroying the very moral backbone of the people particularly the youth. This nefarious design of crippling the youth from within is being assiduously pursued by the ruling capitalist class with the sinister motive to disturb growth and development of revolutionary movement based on the edifice of higher ethics and culture in the country, pointed out Comrade Mukherjee. Comrade Mukherjee urged the countrymen particularly the youth not to fall prey to this heinous conspiracy of the ruling class and boldly come out to foil the same.

৫)
অন্যদিকে, মার্কসীয় ভাবধারার অপর এক সংগঠন প্রগতি এই রায়কে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং সুবিচার আর সমতার পথে একে একটি মূল্যবান পদক্ষেপ হিসেবে অবহিত করেছে। এখানে দেখুন। সেইসাথে সংগঠনটি মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে সমকামিতা এবং সাম্যবাদের রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিংশ শতাব্দীর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য আলোচনা এবং লেখার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। ওয়ার্কার্স ওয়ার্লড এ ছাপানো এই লেখাগুলোর তালিকাসহ লিন্ক পাওয়া যাবে এখানে

৬)
এদিকে বাংলাদেশে সুপ্রীম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রায়টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একে “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রযোজ্য” বলে অভিহিত করেছেন। (লিন্ক সংযোজন করা হবে)।

উল্লেখ করা জরুরী

১।
এই রায়টির মাধ্যমে সমকামী সম্পর্ককে ফৌজদারী আওতা বহির্ভূত করা হলেও ভারতের প্রচলিত অন্যান্য আইনে এ জাতীয় সম্পর্ক এখনো “unbecoming conduct” অথবা “disgraceful conduct of a cruel, indecent or unnatural kind” বলে বিবেচিত। যেমন: আর্মি এ্যাক্ট ১৯৫০ (ধারা ৪৫ এবং ৪৬), এয়ার ফোর্স এ্যাক্ট ১৯৫০, নেভি এ্যাক্ট ১৯৫৭। দিল্লী হাইকোর্টের রায় এই সব আইনের ওপর কি প্রভাব ফেলতে পারে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

২।
বাংলাদেশে প্রচলিত ফৌজদারী আইন ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। সে কারণে বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতেও (The Penal Code 1860) সংশ্লিষ্ট বিধানটি ভারতের দণ্ডবিধির মতই। অর্থাৎ, বাংলাদেশেও ধারা ৩৭৭ এবং তার প্রয়োগ বর্তমান। [এখানে দেখুন]।

পোস্ট কিংবা মন্তব্যে প্রকাশিত মতামত কোন অবস্থাতেই মুক্তাঙ্গন কর্তৃপক্ষের মতামতের প্রতিফলন নয়। বক্তব্যের দায়ভার লেখক এবং মন্তব্যকারীর নিজের। শুধুমাত্র "মুক্তাঙ্গন" নামের আওতায় প্রকাশিত বক্তব্যই ব্লগের যৌথ অবস্থানকে নির্দেশ করে।


১২ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:

  1. মাসুদ করিম মাসুদ করিম লিখেছেন:

    ‘সমকামীতা অপরাধ নয়’ : এই রায় ধর্ম ও নীতির পরিপন্থি–এ ভাবনায় যারা অভ্যস্ত, তারা শুধু প্রকৃতি বিরুদ্ধতা বা অস্বাভাবিকতার কথা বলেই সমকামীতাকে অপরাধ বা নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে চান, কিন্তু কেন? আমাদের মানবিক ও সামাজিক জীবনে যা কিছু প্রকৃতি বিরুদ্ধ, যা কিছু অস্বাভাবিক, তার সবকিছুই কি আমরা ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করব? ধর্ম ও নীতির এমন বাড়াবাড়ি মানুষকে এভাবেই পরাধীন করে রাখে। তাই স্বাধীন ভারতের বা বাংলাদেশের অধিবাসী সামাজিকভাবে মোটেই স্বাধীন থাকেন না। ধর্ম ও নীতির অনুশাসন মেনে কারো যৌনাচারকে অপরাধ ঘোষনা করে যে সংবিধান সেই সংবিধান মানুষের স্বাধীনতার কথায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আর যারা সমাজতন্ত্রের নামে মানুষের যৌনজীবনে সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদ খোঁজেন, তারা যৌনতা বোঝেন কি না, আমার সন্দেহ আছে। মানুষের সমাজে যত ধরনের যৌনকামনা প্রচলিত আছে তার কোনটিকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। তার চেয়ে যৌন অত্যাচার, শিশু ও কিশোরদের ওপর যৌন অভিযান, যৌনতার উদ্দেশ্যে ভ্রমন, যৌনতার উদ্দেশ্যে মানব পাচার, বিবিধ যৌনব্যবসা এসবের বিরুদ্ধে আইনকে ও তার প্রয়োগকে আরো সময়োপযোগী করে তোলাই সরকার ও সংবিধানের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

  2. স্নিগ্ধা লিখেছেন:

    চমৎকার পোস্ট! এসিউসিআই এর বিবৃতি সবচাইতে হাস্যকর লাগলো, এমনকি ধর্মীয় দলগুলোর চাইতেও!

    • ২.১
      রায়হান রশিদ রায়হান রশিদ লিখেছেন:

      এসিউসিআই এর বিবৃতি সবচাইতে হাস্যকর লাগলো, এমনকি ধর্মীয় দলগুলোর চাইতেও!

      হাস্যকর তো বটেই। ইতিহাস নির্ধারিত পথে যাঁরা হাঁটেন বলে দাবী করেন তাদের কাছে তো আরেকটু আধুনিকতা কিংবা চিন্তার মুক্তি তো আশা করাই যায়। এঁরাও যদি ওল্ড টেস্টামেন্ট-বাইবেল-কোরাণের মধ্যযূগীয় নৈতিকতা, কিংবা নাজি জার্মানীর ফ্যাসিবাদী নৈতিকতা, কিংবা বিবেকানন্দের (ভারতীয় যুব সমাজের জন্য ঠিক করে দেয়া) অযৌন/ব্যায়ামপ্রিয় নৈতিকতার শতাব্দী পুরনো ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারেন – তাহলে তো কিছুটা চিন্তারই কথা।

      গত এক শতকে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী অনেক লেখা হয়েছে, অনেক গবেষণাও হয়েছে; প্রভাবশালী সে সব লেখকদের আর যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন “পশ্চিমা পূঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের যুব সমাজকে কলুষিত করার চক্রান্তের অংশ” হিসেবে মনে হয় না সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ অভিহিত করবেন। কমরেড নিহার মুখার্জিদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কিংবা দাবী – মাঝে মাঝে যুগ পরিবর্তনকারী এই ধারণাগুলোর সাথে নিজেরা পরিচিত হয়ে নিয়ে আমাদেরকেও “শিক্ষিত” করে তুলুন! আর প্রয়োজনে মাঝে মাঝে “চেনা জানা সব কিছুকে প্রশ্ন করুন” – নৈতিকতা সম্বন্ধে ধারণা, অজ্ঞতা, যৌনতা – এর সব কিছুকেই, এমনকি নিজেকেও। সমাজকে জনগণকে নেতৃত্ব দিতে হলে, তাদেরকে সাথে নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হলে – নেতৃত্বদানকারী দল বা গোষ্ঠীকে অন্তত চিন্তা চেতনায় প্রচলিত সমাজের ধ্যান ধারণা থেকে তো এগিয়ে থাকতে হবে। নিদেন পক্ষে সমসাময়িক চিন্তাগুলোর সাথে, বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর সাথে – নিবিড় পরিচিতি তো থাকা আবশ্যক – এর থেকে এগিয়ে থাকা না হয় না-ই হল।

      নাজ ফাউন্ডেশনের এই মামলার রায়ে এসইউসিআই এর এই অদ্ভুতুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখে ভিষণ অবাক এবং হতাশ হয়েছি আসলে। কারণ দলটির অনেক ভাল ভূমিকার কথা শুনেছি – শিক্ষা নিয়ে আন্দোলনে, নন্দিগ্রাম নিয়ে। প্রতিক্রিয়াশীলতার নামান্তর এধরণের প্রতিক্রিয়া একেবারেই আশা করিনি। আশা করছি, এই দলের বাকীরা অন্তত নিহার মুখার্জিদের মত মানুষদের থেকে চিন্তাচেতনায় অন্তত কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবেন। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল – প্রতিক্রিয়ার বীজ আন্দোলন সংগ্রামে সামিল প্রগতিশীলদের মধ্যেও কিন্তু বিকাশিত হতে পারে। এমনকি জীবন বাজি রেখে, শত ত্যাগ স্বীকার করে যারা জনগণের জন্য রাজপথে, তারাও কিন্তু এই বীজের আক্রমণ থেকে নিরাপদ নন। রাজপথের আর দশটা নিত্যনৈমিত্তিক ইস্যু (যেমন: শ্রমিক-মজুরের ইস্যু, কৃষকের ইস্যু, শিক্ষার্থীর ইস্যু) বুকে নিয়ে সংগ্রামের পথ কুসুমাস্তীর্ণ – এমন দাবী কেউ করেনা। তবে, সেখানে (এ ধরণের আন্দোলনে) মনে হয় একটা অন্তত সুবিধে আছে – আর তা হল – এসব সংগ্রামে নামতে হলে আর যাই হোক নিজের ভেতরের (এ ধরণের) আচারগত-সংস্কৃতিগত-জ্ঞানগত-ধারণাগত গোঁড়ামীগুলোর মুখোমুখি হতে হয় না সাধারণত; সেগুলোকে প্রশ্ন করা জরুরী হয়ে ওঠে না। অন্যদিকে, সম্পর্ক-যৌনতা-সমকাম-উভকাম-রূপান্তরকাম এর মত মানবসমাজের এই গভীর বিষয়গুলোর ব্যাপারে ব্যক্তিগত, আদর্শিক এবং সাংগঠনিক অবস্থান নিতে গেলে প্রথমেই নিজের ভেতরের এসব গোঁড়ামীর সাথে সংগ্রামে নামতে হয়। সে অর্থে একজন প্রতিবাদী সংগ্রামী মানুষ আর সব ব্যাপারে “প্রগতিশীল” হয়েও নিজের অজান্তেই সারা জীবন কিছু কিছু ইস্যুতে “progressive bigot” থেকে যেতে পারেন, সময় থাকতে সচেতন না হলে।

  3. সৈকত আচার্য সৈকত আচার্য লিখেছেন:

    সমকামীতা প্রকৃতি বিরুদ্ধ কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন অভিজিৎ রায়। একটি পরিশ্রমসাধ্য বৈজ্ঞানিক ও সমাজ- মনঃস্তাত্ত্বিক আলোচনা দাঁড় করিয়েছেন তিনি। আজকের প্রেক্ষাপটে তার এই আলোচনাটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ন। এখানে পড়ুনঃ ১ম পর্ব, ২য় পর্ব, ৩য় পর্ব এবং ৪র্থ পর্ব

  4. saiful2000 লিখেছেন:

    সমকামকে অবদমিত রেখেছে সমাজ । স্বাভাবিক প্রবৃত্তি না হলেও জন্মসুত্রে সমকামীত্ব অনেকের মধ্যে বিদ্যমান । যদি কাম কে স্বীকৃতি দেয়া হয়, তবে সমকামকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না কেন? নিজেদের গ্রহণযোগ্যতাকে বৃদ্ধি না করতে পারলে কী করে হবে । আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে মানসিকতা প্রস্তর যুগের চেয়েও পশ্চাদপদ।

    সবাইকে অসীম কৃতজ্ঞতা ।
    ======================
    নিজস্ব ব্লগ: ।
    আগ্রহ: ক্রিকেট, বিনোদন, চলচ্চিত্র, স্মৃতিচারণ ।

    • ৪.১
      মুক্তাঙ্গন মুক্তাঙ্গন লিখেছেন:

      @saiful2000
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার দেয়া ১৮+ ব্লগের লিন্কটি মুছে দিতে বাধ্য হলাম। সেটি ১৮+ বলে নয়, সেখানে স্বীকৃত একটি মানদন্ড (যেমন: child abuse) উপেক্ষিত হয়েছে বলে। আশা করি এই প্রয়োজনীয় সীমারেখাগুলোর প্রতি আমরা সবাই আরও শ্রদ্ধাশীল হতে পারবো।

  5. রায়হান রশিদ রায়হান রশিদ লিখেছেন:

    হিজড়া সম্প্রদায়ের মানবাধিকার এবং তাদের জীবনমান নিয়ে রণদীপম বসু সচলায়তনে একটি পোস্ট লিখেছেন, যার সাথে এই রায়ের বিষয়বস্তু (দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারা) সরাসরি জড়িত। এই আলোচনাগুলোকে যতভাবে সম্ভব মূল ধারার বিতর্কে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

  6. মোহাম্মদ মুনিম লিখেছেন:

    অভিজিত্ রায়ের লেখাটি পড়ে দারুন লাগলো। কয়েকবছর আগে এক গোঁড়া শেতাঙ্গের সাথে আলাপ হয়েছিল সমকামীতা নিয়ে। তিনিও সমকামীতাকে প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলেছিলেন। সমকামীতা নিয়ে তেমন কিছু জানতাম না বলে কিছু বলিনি। মার্কিন সমাজে সমকামীদের সহ্য করা হলেও তাঁদের প্রায়ই বিদ্রুপ আর তাচ্ছিল্ল্যের দৃষ্টিতে দেখা হয়। সমকামীতাকে স্বীকৃতি দিলে আমাদের হাজার বছরের অনেক সংস্কার আর বিশ্বাসেরই মূলে টান পরে। আর টান পরাটাই প্রয়োজন। সমকামীতাকে স্বীকার করা মানে, সামন্তবাদী মনোভাব আর ধর্মীয় গোঁড়ামীকে বিদায় দেয়া, ধর্মের সামাজিকীকরন এবং রাজনীতিকরনও তাতে বন্ধ হয়ে যায়।
    SUCI এর বিবৃতিটি দেখে Soviet Union এ সমকামীতার ব্যাপারটা জানতে ইচ্ছে হলো। Maxim Gorky সমকামীতাকে bourgeois degradation বলেছিলেন আর Stalin সমকামীতাকে penal code এর আওতায় আনেন (৫ বছর কারাদন্ড)। সমকামীতার ‘বিজ্ঞানসম্মত’ ব্যাখ্যা ছিল এটি একটি ‘অসুস্থতা’ এবং মহিলা সমকামীদের ‘চিকিৎসার’ ব্যবস্থাও রাখা হয়। এই নিয়ে একটি link এখানে

  7. [...] কাছে আবেদন করা হয় যা মঞ্জুর হয়নি (সূত্রঃ )। এই রায় ভারতের হিজড়া সম্প্রদায়ের [...]

  8. Nezamul Karim লিখেছেন:

    The urban Bangladesh perspective:
    http://unheardvoice.net/blog/2009/08/07/gay-straight-or-msm/

  9. ইনসিডেন্টাল ব্লগার ইনসিডেন্টাল ব্লগার লিখেছেন:

    ট্রান্স-জেন্ডারদের নিয়ে ডানকান টাকার পরিচালিত ফেলিসিটি হফম্যান অভিনীত Transamerica (2005) ছবিটি কিন্তু দেখার মত। অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী এই মানবিক বক্তব্যসম্পন্ন ছবিটি সমালোচকদের সুনাম কুড়িয়েছে।

  10. ১০

    [...] কাছে আবেদন করা হয় যা মঞ্জুর হয়নি (সূত্রঃ )। এই রায় ভারতের হিজড়া সম্প্রদায়ের [...]

আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:

=নিয়মাবলি=
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।


অভ্র প্রভাত ফোনেটিক ইউনিজয় ইংরেজী
------------(মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন)------------


বাংলায় মতামত লিখতে নিচের যে কোন একটি পদ্ধতি বেছে নিন:
(ক) সংযুক্ত চারটি বাংলা কী‌বোর্ডের (ইউনিজয়, ফোনেটিক, প্রভাত) যে কোন একটি বেছে নিয়ে; অথবা, (খ) গুগল বাংলা ট্রান্সলিটারেশন টুল ব্যবহার করেও সহজে বাংলা লেখা সম্ভব। বাংলা অক্ষর চালু/বন্ধ করতে ctrl+g চাপুন। শব্দটি ইংরেজী হরফে লিখে ফেলে স্পেসবার চাপুন, তাহলেই সেটি বাংলায় রূপান্তরিত হবে (একই শব্দের একাধিক বানান-বিকল্প শব্দটির উপরে মাউস রেখে ক্লিক করে দেখে নেয়া যায়); অথবা, (গ) মাউস ক্লিক করে বাংলা লিখুন; অথবা, (ঘ) আপনার কম্পিউটারে অভ্র কীবোর্ড স্থায়ীভাবে ইনস্টল করে নিয়ে। কীবোর্ডগুলোর ব্যবহার বা লে‌-আউট জানা না থাকলে "বাংলা বর্ণমালা বিভ্রাট" লিংক অথবা "বাংলা কীবোর্ড লে-আউট" লিংক থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। এরপরও সমস্যার সম্মূখীন হলে ব্লগ এডমিন এর কাছে সাহায্যের জন্য লিখুন।