এই বক্তব্য গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিপন্থী
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেই ঘোষনা দিলেন, ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কে এলো আর না এলো, তা দেখে লাভ নেই, এবং তাঁর সহকর্মী নেতারা বললেন, জনগণ অংশগ্রহন করলেই নির্বাচন গ্রহনযোগ্য হয়ে যাবে। তারা বলছেন, ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা, যে কোন মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে। আরো বলছেন যে, কোন মূল্যে এই নির্বাচন হতেই হবে। এই বক্তব্যগুলো চরম অগণতান্ত্রিক ও অসহিষ্ণু মানসিকতার প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।
সবার অংশগ্রহনে একটা জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক, এবং তা অবাধ ও মুক্ত পরিবেশে হোক, তা সকলেই আমরা চাইছি। কিন্ত নির্বাচনী আসন পুনর্বণ্টন করে বিতর্ক তৈরী করা, জরুরী আইন প্রত্যাহার না করা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনগুলোকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, কোন শুনাণীর ব্যবস্থা না করে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জামাতকে রেজিষ্ট্রেশণ দিয়ে দেয়া এবং নিজের খেয়াল খুশী মত আইন ও বিধান তৈরী করে সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার অনন্য নজির স্থাপনকারী এই সরকারের বিরুদ্ধে বহু রকম অভিযোগ রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। এই সব বিষয় এখন ও ফয়সালা হয়নি। বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলা হলেও, একে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। দিবারাত্রি সংলাপের নাম করে, সরকারের একদল উপদেষ্টা কি আলাপ চালাচ্ছেন বড় দলের কিছু নেতার সাথে, আমরা কেউ জানি না। সাংবাদিকরা জানতে চাইলে, সোজা উত্তর দেয়া হয় যে, এসব আপনারা সময়মতো জানতে পারবেন। এভাবে পুরো দেশে একটা তামাশার রাজত্ব শুরু করেছে, আমাদের এই তত্ত্বাবধায়ক (!) সরকার। আর এর সাথে মাঝে মধ্যেই ইদাণীং বড় দলগুলোকে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে।
যা হোক, যে কথা বলছিলাম, এই সরকারের আমলে করা, সংবিধান পরিপন্থী কাজগুলোর বৈধতা আওয়ামী লীগ-বিএনপি দেবে কিনা, আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই, ১৯৯০ সালে প্রণীত তিন জোটের রুপরেখার বাস্তবায়ন হবে কিনা। আমরা জানতে চাই, বন্ধ পাট কলগুলো খুলে দেয়া হবে কিনা। আমরা জানতে চাই, গত দু’বছরে জরুরী আইনের নামে, যে সব নেতা কর্মীদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে, সেই সব যাদের নির্দেশে করা হয়েছে, তাদেরকে বিচার আদালতের সামনে উপস্থিত করা হবে কিনা। আমরা জানতে চাই, বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড যারা ঘটাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার নামে, তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে কিনা। জানতে চাই, ঠিক সময়ে বেতন-বোনাস-ওভারটাইম মজুরি পরিশোধ করতে, গার্মেন্টস মালিকদেরকে বাধ্য করা হবে কিনা। আমরা জানতে চাই, সবচেয়ে বড় সামাজিক অপরাধ যুদ্ধাপরাধ ও বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হত্যাকান্ডগুলোর বিচার হবে কিনা।
এগুলোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের এবং তার জোটের কর্মসূচী কি, আমরা জানি না। এগুলো বাস্তবায়ন করার কোন চিন্তা তাদের মাথায় আছে কিনা, আমরা জানি না। যদি থেকে থাকে তা কোন পথে, কিভাবে এবং কাদের সাহায্য নিয়ে তারা এই কাজগুলো করার জন্য আগাবেন, সে বিষয়ে সুনির্দ্দিষ্ট ও পরিকল্পিত কোন চিন্তা সম্পর্কে একজন নাগরিক এবং ভোটার হিসেবে আমি জানতে চাই। ১৮ তারিখ নির্বাচনে ভোট চাওয়ার আগে, এগুলো আমাদের কাছে পরিস্কার করে বলে যেতে হবে। তা না হলে, এখন যে ভোট ভোট আওয়াজ তুলছেন, এটা নিছক ক্ষমতায় যাওয়ার দলীয় সংকীনর্তা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে ইচ্ছে করছে না।
১ টি মন্তব্য/প্রতিক্রিয়া এসেছে এ পর্যন্ত:
আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে নিচের মন্তব্য-ফর্ম ব্যবহার করুন:
* ভাষা: মন্তব্যের ভাষা হওয়া উচিত (মূলত) বাংলা — অবশ্যই বাংলা হরফে। আর ভাষারীতি লেখ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত প্রমিত বাংলা হওয়াই শ্রেয়।
** মডারেশন: মন্তব্যের ক্ষেত্রে এখানে প্রাক-অনুমোদন মডারেশনের চর্চা নেই। তবে যে-সব কারণ উপস্থিত থাকলে প্রকাশিত মন্তব্য বিনা নোটিশে (এবং কোনো ধরণের কারণ-দর্শানো ছাড়াই) পুরোপুরি মুছে দেয়ার বা আংশিক সম্পাদনা করার অধিকার "মুক্তাঙ্গন" সংরক্ষণ করে, সেগুলো হলো: (ক) সাধু এবং চলিত রীতির সংমিশ্রণ; (খ) ত্রুটিপূর্ণ বানানের আধিক্য; (গ) ভাষার দুর্বল, আঞ্চলিক, অগ্রহণযোগ্য বা ছাপার অযোগ্য প্রয়োগ; (ঘ) ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রবণতা, ছিদ্রান্বেষণ ও কলহপ্রিয়তা; (ঙ) অপ্রাসঙ্গিকতা ও বক্তব্যহীনতা। এ ব্যাপারে মডারেশন টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তাই, চূড়ান্তভাবে পেশ করার আগে "প্রাকবীক্ষণ"-এর মাধ্যমে নিজ-মন্তব্যের প্রকাশিতব্য রূপ যাচাই করে নিন।
*** নিবন্ধিত লেখকদের প্রতি: লেখকের নিজস্ব পাতার প্রকাশিত কাজের তালিকায় আপনার পেশ করা মন্তব্যের তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে লগ-ইন করা অবস্থায় মন্তব্য করুন।















২৩ কার্তিক ১৪১৫ [মন্তব্য-লিন্ক]
ভাল লাগল